2:49 pm , July 4, 2021
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশে চলছে ‘কঠোর লকডাউন’। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরী সেবা ও পণ্যবাহী যানবাহনের বাইরে যাত্রীবাহী বাস, লঞ্চসহ সবধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস। মহামারি করোনার সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিরচেনা কর্মব্যস্ত নগরী এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে রয়েছে। হাট-বাজার ছাড়া কোথাও নেই কোলাহল ও কর্মব্যস্ততা। এ অবস্থায় নগরীর অসহায়, বাস্তহারা ভাসমান মানুষগুলো দু-মুঠো খাবার যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। আবার নগরীর খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় অনেকের আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও খাবার সংগ্রহ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় কিছু মানুষ স্ব-উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে এসেছেন নগরীর অসহায়, বাস্তুহারা ও ভাসমান মানুষদের খাদ্যের যোগান দিতে। রাতে বরিশাল নদী বন্দরে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তৃতীয় দফায় প্রতিদিন রাতে নদী বন্দরে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে দুইশত অসহায়, বাস্তহারা ও ভাসমান মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস এম জাকির হোসেন জানান, আমরা গত বছরের প্রথম ‘লকডাউনে’ বরিশাল নদী বন্দরে অসহায়, বাস্তুহারা ভাসমান মানুষের খাবারের ব্যবস্থা শুরু করি। তখন রাতে আমরা এবং দুপুরে বরিশাল নদী বন্দরের তৎকালীন কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠুর উদ্যোগে খাবার খাওয়ানো হতো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বারের ‘লকডাউনে’ ধারাবাহিকতা ধরে রেখে রাতে খাবার দিয়ে আসছি অসহায় এসব মানুষদের। বর্তমানে প্রতিদিন রাতে ২০০ থেকে ২২০ জনের খাবার বিতরণ করা হয়ে থাকে। আর তাই আমাদের এ কাজটির নাম দেওয়া হয়েছে “উদ্যোগ”। আমরা গত দুটি ঈদ এদের সঙ্গে কাটিয়েছি। ঈদের সকালে তাদের ভালো কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করছি। শুধু খাবার দেওয়াই নয়, তাদের জামা-কাপড় দেওয়াসহ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও মাঝে মধ্যেই আমরাই নিচ্ছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস দাস, আতাউল রাব্বি, প্রাবেশন অফিসার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল সাজ্জাদ পারভেজ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন, সিনিয়র সাংবাদিক ফিরদাউস সোহাগ, রাহাত খান, কাওসার হোসেন রানা প্রমুখ। এদিকে জেলা প্রশাসনের ‘কঠোর লকডাউন’ কার্যকরের লক্ষ্যে শনিবার থেকেই খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন। এর ফলে বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়েন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগীর স্বজনরা। আর তাদের ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্যে শনিবার (৩ জুলাই) সকালে ও রোববার (৪ জুলাই) দুপুরে বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় হোটেল মালিকরা। তারা জানান, শেবাচিম হাসপাতাল থেকেই রোগীদের খাবার দেওয়া হয়ে থাকে। আর স্বজনরা বাইরে থেকে তাদের খাবার কিনে খান। তবে ‘লকডাউনে’ হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়ে যান রোগীর স্বজনরা।এজন্য সরকারি নির্দেশনা মেনে হাসপাতালের হোটেলগুলো বন্ধ থাকলেও মালিকদের উদ্যোগে বিনামূল্যে শনিবার সকাল ও রোববার দুপুরে অসহায় রোগীর স্বজনদের খাবার দেওয়া হয়েছে। হোটেল মালিক ওলি হাওলাদার ও পবিত্র দেবনাথ জানান, হাসপাতালের সামনে বান্দরোড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হাওলাদার, রাধুনী, ভোলা, তাওহীদ, মিতালী, গোবিন্দ, ভাই ভাই, জমজম, নন্দিনী ও মদিনা হোটেলের মালিকরা সমন্বিতভাবে এ খাবরের আয়োজন করছেন। যা শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান গেট সংলগ্ন হোটেলগুলোর সামনে বসেই পাঁচ থেকে সাতশ’ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।এদিকে সাধারণ মানুষের সহায়তায় এভাবে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
