3:12 pm , June 28, 2021
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বানারীপাড়ায় মমতাজ বেগমের মৃত্যু রহস্য উদ্ধারে লাশের ময়না তদন্তের জন্য প্রায় তিনমাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। গত ২৭ জুন তার লাশ উত্তোলনের পর শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ওই দিনই লাশের ময়না তদন্ত শেষে পুনরায় তাকে কবর দেয়া হয়। গত ৫ এপ্রিল বাড়ীর পাশের পতিত জমি (ছাড়া বাড়ি)থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় মমতাজ বেগমকে (৬৫) উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাৎক্ষনিকভাবে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মমতাজ বেগম বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মৃত কাজী মোশারফ হোসেনের স্ত্রী। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাতে ঝড় হয়। এতে মমতাজ বেগমের জমির কিছু গাছপালা উপড়ে পড়ে। ফজরের নামাজ আদায় শেষে সে ভেঙ্গে পড়া গাছপালা দেখতে বাড়ির পিছনে বের হয়। সকালে গ্রামের লোকজন দেখতে পায় একটি নিচু জায়গায় মমতাজ বেগম গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে স্থানীয়রা মমতাজ বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। তার মৃত্যুর পর অপপ্রচার চালানো হয় জীন-ভুতের আক্রমনে মমতাজ বেগম মারা গেছেন। মমতাজ বেগমের ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজন গ্রামে না থাকার কারনে তড়িঘড়ি করে তার প্রতিবেশীরা মরদেহ দাফন করে দেয়। এ ঘটনায় গত ২৭ মে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত বানারীপাড়া থানা পুলিশকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেয়। মামলা তদন্তের স্বার্থে মমতাজ বেগমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের ডা. মোঃ রেফায়েত উল্লাহ জানান, “ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর কারন জানা যাবে। তবে মমতাজ বেগমের ছেলে কাজী জুয়েল জানায়, মায়ের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যে কারনে আদালতে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মায়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ধার ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সকলের সহায়তা চেয়েছেন। কাজী জুয়েল জানান, তার মায়ের কানে এবং গলায় যে স্বর্ণালংকার ছিল তা পাওয়া যায়নি। আমি মনে করি পরিকল্পিতভাবে আমার মাকে হত্যা করা হয়েছে।
