জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পেলেন বীরঙ্গনা হাজেরা বেগম জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পেলেন বীরঙ্গনা হাজেরা বেগম - ajkerparibartan.com
জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পেলেন বীরঙ্গনা হাজেরা বেগম

2:40 pm , June 27, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে খেতাব পেয়েছেন নগরীর একমাত্র বীরাঙ্গনা মোসাঃ হাজেরা বেগম। তাকে জাতীর শ্রেষ্ঠ সম্মান বীরাঙ্গনা খেতাব দেয়া হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের সামাজিক স্বীকৃতি ও সম্মান প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু তাদের দিয়েছিলেন ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধি। গতকাল রোববার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে টাকার মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা ৮২ হাজার টাকা দেয়া হয়। ভাতা তুলে দেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। সম্মানি ভাতা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাজেরা বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সোহেল মারুফ, সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মোঃ আবদুল হাই ও প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ। জানা গেছে, ১৮ বছর বয়সে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক শারীরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতিত হয় হাজেরা বেগম। উজিরপুর উপজেলার দাসের হাট ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দিনমজুর কামিন উদ্দিন চৌকদারের কন্যা সে। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধর সময় নিজ বাড়ি থেকে বোনের শশুর বাড়ি বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে বাবুগঞ্জ রহমতপুর ক্যাম্পের সন্নিকটে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়। দুর্বিষহ সেই স্মৃতির কথা মনে করতেই কেঁদে ফেললেন হাজেরা বেগম। দেশ স্বাধীন হবার পরে ১৯৭২ সালে তার দ্বিতীয় বিবাহ হয় তার স্বামী মোঃ জালাল হোসেন নগরীর পুরানপাড়া ৩ নং ওয়ার্ডে বাস করেন। তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল বিস্কুট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাদের ৩ ছেলে ১ মেয়ে।
স্বাধীনতার এতো বছর পর ২০১৬ সালে মহানগর থেকে ১ জন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে হাজেরা বেগম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় মন্ত্রণালয় যাচাই বাছাই শেষে বীরাঙ্গনা গেজেট ৩৮১ প্রকাশ করে চলমান ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের জুলাই ২০২০ মাস হতে তার অনুকূলে বরাদ্দ ছাড় করে।
এ সময় জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, ২১শে ফেব্রয়ারী নারীরাই প্রথম পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ১৪৪ ধারা অমান্য করে মিছিল করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি সেদিন নারীদেরও রয়েছে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ অংশগ্রহন। নতুন প্রজন্মের কাছে নারীদের এই অসামান্য কীর্তিগাথা তুলে ধরার এখনই সময়ের দাবি। আমরা হাজেরা বেগমের মতো মহীয়সী নারীদের সম্মানে আমরা সম্মানিত। এই দেশের মানুষ আপনাদের ভুলবেনা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT