বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যাকান্ডের দুই বছর আজ বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যাকান্ডের দুই বছর আজ - ajkerparibartan.com
বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যাকান্ডের দুই বছর আজ

2:50 pm , June 26, 2021

এম সাইফুল ইসলাম, বরগুনা ॥ বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকা-ের দুই বছর আজ। ২০১৯ সালের এই দিনে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটে  প্রকাশ্যে শাহ্ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসী বন্ড বাহিনী। পরে ওই দিনই বিকেলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন রিফাত শরীফ। এর আগে রিফাতকে কোপানোর আগে মেসেঞ্জার গ্রুপ ০০৭ এ হত্যার পরিকল্পনা করে নয়ন বন্ড বাহিনী। রিফাতকে কোপানোর সময় তিন স্তরে বন্ড সদস্যরা বিভক্ত ছিলো। নয়ন বাহিনীর প্রধান নয়ন বন্ড এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাতের নেতৃত্বে একদল রিফাতের উপর আক্রমন করে। আরেকদল চারদিক থেকে ঘিরে রাখে যাতে রিফাত পালিয়ে যেতে না পারে। আবার আরেক দল দিয়েছিলো হত্যায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা। যাতে হত্যাকান্ডে হত্যাকারীদের কেউ বাঁধা দিতে না পারে। দেশব্যাপি নিন্দা ও প্রতিবাদের মুখে দিনের পর দিন নতুন নতুন মোড় নিলেও শেষমেষ দায়ভাড় পড়ে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নির মাথায়। পুলিশী তদন্তে মিন্নিকে বানোনো নয় স্বামী রিফাত হত্যার মাস্টার মাইন্ড। ৭৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণশেষে মিন্নিকে মাস্টার মাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করে স্ত্রী মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামীকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত।   ঘটনার পর দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনও রিফাতের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে অঝোরে কাঁদেন তার মা-বাবা ও একমাত্র বোন। সকাল বিকাল ছেলের কবরের পাশে প্রার্থনায় মগ্ন হন তার মা ডেইজি আক্তার। নিহত রিফাতের স্বজনদের দাবি, আদালত খোলার সঙ্গে সঙ্গে যেন এ মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
নিহত রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরিফ রাইজিংবিডিকে বলেন, রিফাত আমার একমাত্র ছেলে ছিল। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমার সুখের সংসার ছিল। মিন্নির কারণে আমার সেই সুখের সংসার ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। তিনি কান্নায় ভেঙে পরে আরও বলেন, রিফাতের শূন্যতা কিছুতে পূরণ হবেনা। রিফাতের শোকে আমার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে। নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী। আমাদের ছেলে হত্যাকা-ের বিচার কার্যকর হলে হয়তো কিছুটা আমরা সান্তনা পাব। এসময় করোনা আদালত খোলার সঙ্গে সঙ্গে এ মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিহত রিফাতের মা ডেইজি আক্তার কান্নায় ভেঙে পরে বলেন, আমি আমার বাবাকে (রিফাত) ছাড়া থাকতে পারি না। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে রায় বাস্তবায়ন করা হোক। এ মামলার বিচার কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ আমিন উদ্দিন  মুঠোফোনে বলেন, করোনার কারণে সকল মামলার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। রিফাত হত্যাকা-ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পেপারবুক প্রস্তুত হলেই রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও দ্রুত শুনানি হয় সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নেব। নাগরিক অধিকার সংরক্ষন কমিটির বরগুনার আহবায়ক মনির হোসেন কামাল  বলেন, দ্রুত এই রায় বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে কিশোর গাংয়ের প্রভাব কমে যাবে। বরগুনাসহ দেশব্যাপী কিশোররা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে পরছে। মাদকে জড়িয়ে আছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। রিফাত হত্যায় যারা জড়িত তারা সবাই মাদকাসক্ত ছিলো। এই রায় কার্যকর হলে অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে। ২০১৯ সালের ২৬ জুন রিফাতকে কুপিয়ে জখমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। দাবি ওঠে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। এ ঘটনার পরের দিন বরগুনা সদর থানায় ১২জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। নিশংস এ হত্যাকা-ের ছয়দিন পর এ মামলার প্রধান আসামি বন্ড বাহিনী প্রধান সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এছাড়াও এ হত্যাকা-ের ২০ দিন পর এ মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিফাত হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ে নানা নাটকীয়তার কারণে এই ঘটনার সংবাদ স্থান পায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও। পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ১ অক্টোবর বিকেলে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক এই দুই ক্যাটাগরিতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে বরগুনার সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এতে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আসামি করা হয়। এরপর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার কাজ শুরুর জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার শুরুর জন্য শিশু আদালতে মামলাটি প্রেরণ করেন। পরে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচার কাজ শুরু করেন। আর একই বছরের আট জানুয়ারি বরগুনার শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিচার কাজ শুরু করেন। পরে দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ওই বছরের আট মার্চ থেকে ছয় মাসের জন্য এ মামলার বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন আদালত। এ রায়ে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে হত্যাকা-ের প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রায়ে মিন্নিসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। আর বাকি চার আসামিকে খালাস প্রদান করেন আদালত।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT