শেবাচিমের ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসের রোষ্টার বাণিজ্য ! শেবাচিমের ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসের রোষ্টার বাণিজ্য ! - ajkerparibartan.com
শেবাচিমের ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসের রোষ্টার বাণিজ্য !

3:28 pm , June 12, 2021

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি রোষ্টার নিয়ে ওয়ার্ড মাষ্টার ফেরদৌস এর বিরুদ্ধে বানিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে টাকার বিনিময়ে চাইলে পছন্দসই ওয়ার্ডে ডিউটি করতে পারে কর্মচারীরা। এই সুযোগটি দিয়ে থাকেন ওয়ার্ড মাষ্টার ফেরদৌস। আর টাকা না দিলে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি করতে বাধ্য করা হয়। এমনকি ওয়ার্ড মাষ্টার ফেরদৌসের কথা না শুনলে হাসপাতালে ডিউটি করতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মচারীরা। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত আয়ারা ভোগান্তির শিকার হয় বেশি। অভিযোগ রয়েছে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে করোনা ওয়ার্ডের বাইরে ডিউটি করছে আফিফা নাসরিন নামে এক আয়া। আফিফা নাসরিন হাসপাতালের ফিজিওথেরাপী ওয়ার্ডে কর্মরত থাকাকালীন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাকে ডেন্টাল বহিঃবিভাগে সরিয়ে নেওয়া হয়। ডেন্টাল ওয়ার্ড থেকে আফিফা হাসপাতালের সামনে অবস্থিত সুলতানা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগী ভাগিয়ে নিতে থাকে। এ কারনে তাকে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বহিঃবিভাগে সরিয়ে নেওয়া হয়। এখানে ৩০% কমিশনে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যে কারনে এখান থেকে নাসরিনকে মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়। সর্বশেষ তাকে গাইনী বহিঃবিভাগে ডিউটি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডের ডিউটি খাতায় তার নাম নেই। একই পন্থায় ওয়ার্ডবয় ইউসুফ মাঝি ও সাইফুল ইসলাম ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে করোনা ওয়ার্ডের বাহিরে আছে। গাইনী অপারেশন থিয়েটারের ঝাড়–দার মোসলেমের কাছ থেকে মাসে ১৫০০ টাকা নেওয়া হয়। ইএনটি ওটি’র ঝাড়–দার সুলতানের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও এক্সট্রা আয়া লিলির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এ সময় আয়া লিলিকে বলা হয় তাকে করোনা ওয়ার্ডের ডিউটি করতে হবে না। অন্যদিকে স্বজনপ্রীতির কারনে ভাগ্নে পলাশ মল্লিককেও করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি দেয়নি ফেরদৌস। মোদাচ্ছের কবিরের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় তার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও তার ভায়রা ছেলে জুম্মান হোসেন একই প্রক্রিয়ায় হাসপাতালে কাজ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সাথে মাসিক চুক্তি বিনিময়ের অভিযোগ রয়েছে। ওইসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগীদের পাঠাতে বাধ্য করেন ফেরদৌস। কারণ প্রতি মাসের রোস্টার তিনিই করে থাকেন। যে সব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সাথে তার মাসিক চুক্তি রয়েছে সে সব জায়গায় রোগীরা না গেলে ডাক্তারদের সাথে থাকা সহকারীদের তিনি বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ার্ড মাষ্টার ফেরদৌস বলেন, ‘করোনা ওয়ার্ডের সকল ডিউটি রোষ্টার করেন হাসপাতালের ডাঃ এস.এম.মনিরুজ্জামান। আমি যদি টাকার বিনিময়ে রোষ্টার বাণিজ্য করে থাকি তাহলে স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে চলে যাবো।’ অন্যদিকে হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ডাঃ এস.এম.মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি। পরে হাসপাতালের উপ-পরিচালকের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ডাঃ এস.এম.মনিরুজ্জামান ভালো বলতে পারবেন।’

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT