3:17 pm , June 12, 2021
রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি ॥ আটঘর-কুড়িয়ানা খালে জমেছে নৌকার হাটের পসরা । পেয়ারার মৌসুমকে সামনে রেখে নৌকার হাটের এই আয়োজন এখন বেশ জমজমাট। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা সদর থেকে ৫/৬ কিলোমিটার পূর্বদিকে আটঘর বাজার। বছরের জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের নৌকার সবচেয়ে বড় হাট বসে এখানে। বরিশাল ও ঝালকাঠির নবগ্রাম থেকেও আসা যায় এ বাজারে। সন্ধ্যা নদীর শাখা আটঘর-কুড়িয়ানা খালে সপ্তাহের প্রতি শুক্র ও সোমবার বসে নৌকার হাট। বর্ষা মৌসুম এলেই আটঘর খালের পাড়ে আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাসমান নৌকার হাট জমজমাট হয়ে ওঠে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল অবধি খালের পাড়ে এবং সড়কের দুই পাশে ছোট ছোট ডিঙি নৌকার পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। স্থানীয় কৃষক, জেলে, গৃহস্থি ছাড়াও বরিশালের বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর, পিরোজপুরের কাউখালী, নাজিরপুর থেকে মানুষ হাটে আসেন নৌকা কিনতে। তারা ঘুরে ঘুরে দরদাম করে পছন্দের নৌকা কিনে নতুন নৌকা চালিয়ে বাড়ি ফেরেন। কেউ কেউ দু-তিনটি নৌকা কিনে তা ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। এখানে নতুন নৌকার সঙ্গে বৈঠা দেয়া হয় না। কিনতে হয় আলাদা। সেটি পাওয়া যায় আটঘর নৌকার হাটের পাশেই। হাটে ১ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় মিলবে কাঠের তৈরি ডিঙিনৌকা। আর বৈঠার দাম আকারভেদে ৭০ থেকে ২৫০ টাকা। স্বরূপকাঠির মাহমুদ কাঠি গ্রামের রফিকুল ইসলাম পেশায় নৌকা ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, তার বাবা দাদা এই হাটে নৌকা কেনাবেচা করতেন; এখন তিনি নিজে বর্ষা মৌসুমে এই ব্যবসা করেন। অন্য ব্যবসায়ী জবেদ আলী বলেন, হাটের দিন ভোরে কারিগরদের কাছ থেকে নৌকা কিনে ট্রলারে করে হাটে নিয়ে বিক্রি করেন তিনি। বেচাকেনা ভালো হলে প্রতি হাটে ৩৫ থেকে ৪০টি নৌকা বিক্রি হয়। নৌকা প্রতি লাভ হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আবার কখনও লোকসানও গুনতে হয়। হাটে নৌকা কিনতে আসা বানারীপাড়া উপজেলার আলতা এলাকার সফিকুল বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিনি আটঘর হাটে নৌকা কিনতে আসেন। ডিঙিনৌকা ১/২ বছর পর নষ্ট হয়ে যায়। পেয়ারা, কৃষিকাজ ও মাছ ধরার জন্য নৌকা কেনেন তিনি। নেছারাবাদ উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পারের গ্রাম ডুবি, কাটাখালী, একতা ও চামী। এসব গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার নৌকা তৈরির পেশায় জড়িত। ৬০ বছর ধরে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করেন বিপুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে এখানে হাট বসে। ধীরে ধীরে হাটের ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে। একসময় সুন্দরী কাঠ সহজলভ্য ছিল। তখন সুন্দরী কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি হতো। এখন সুন্দরী কাঠ পাওয়া যায় না তেমন। তাই কড়ই, চাম্বল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় নৌকা। ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাওরাকাঠি গ্রামের নির্মল ও বিমল মিস্ত্রির নৌকা প্রসিদ্ধ বলে ক্রেতা সালাম হাওলাদার জানান।
