ভান্ডারিয়ায় অবৈধভাবে চলছে ইট ভাটা ॥ গ্রাহকের সাথে প্রতারণা ভান্ডারিয়ায় অবৈধভাবে চলছে ইট ভাটা ॥ গ্রাহকের সাথে প্রতারণা - ajkerparibartan.com
ভান্ডারিয়ায় অবৈধভাবে চলছে ইট ভাটা ॥ গ্রাহকের সাথে প্রতারণা

3:34 pm , June 10, 2021

মোঃ তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর ॥ ইট দেওয়ার শর্তে অর্ধশত ব্যক্তির কাছ থেকে অগ্রিম প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে ভা-ারিয়ার ইটভাটা মালিক জসিমউদ্দিন ইট বা টাকা কোনটাই না দিয়ে টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইট ভাটার মালিক জসিমউদ্দিনের প্রতারনার প্রতিকার চেয়ে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস মুভমেন্টএর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষিকা হোসেনেয়ারা বেগম ভা-ারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মো. সালাম খানের বড় ছেলে মো. জসিম উদ্দিন খান কম মূল্যে ইট দেয়ার নামে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষেরকাছ থেকে অগ্রীম প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে । বনে গেছেন বিশাল ব্যবসায়ী।
সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটমুভমেন্ট এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম লিটন র‌্যাব-৮ , ভা-ারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার,ওসি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং মেসার্স রুমী এন্টারপ্রাইজ এর মালিক বরাবরে অনুলিপি প্রেরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
ইট ভাটার মালিক মো. জসিম খান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগমের কাছ থেকে ৭৭ হাজার ইট দেয়ার শর্তে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, সুমন হাওলাদারেরকাছ থেকে ৩৭ হাজার ইট বাবদ ২ লাখ ২২ হাজার টাকা, মোসাম্মৎ নাজিনা বেগমের কাছ থেকে ১২ হাজার ইট বাবদ ৭২ হাজার টাকা, আলতাফ মীরের কাছ থেকে ২৫ হাজার ইট বাবদ ১ লাখ ৫০হাজার টাকা, মো. মনির হাওলাদার এর কাছ থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা দরে ১০ হাজার ইটের বাবদ ৬৫ হাজার টাকা, মামুনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার ইটের অগ্রিম টাকা বাবদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ প্রায় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে জসিম খান।
ভূক্তভোগী হোসেনয়ারা বেগম জানান, ৭৭ হাজার ইট দেয়ার কথা বলে অগ্রিম ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ৮ হাজার ইট দেয়ার পরে তালবাহানা শুরু করে। উপায় না দেখে ভা-ারিয়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে স্থানীয় নেতারা মিমাংশা করে দেয়ার কথা বলে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনে। এখন পর্যন্ত কোন ইট বা টাকা কিছুই দেয়নি। মোবাইল করলে রিসিভ করে না। ভাটায় গেলে জসিমের ছোট ভাই অসিম দুর্ব্যবহার করে ভাটা থেকে বের করে দেয়।
ভূক্তভোগী আলতাফ মীরের কাছে জানতে চাইলে তার ইট কেনার রশিদ দেখিয়ে বলেন, যে সময়ে ইট দেয়ার কথা ছিল তখন ইট না দিয়ে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার ব্যবহৃত(জসিমের) সেলফোন বাজলেও রিসিভ করেন না। ২৫হাজার ইট দেয়ার কথা বলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে।
এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে একদল গণমাধ্যম কর্মী (সাংবাদিক) প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানাগেছে, ইটভাটার মালিক জসিম খান লোকাল বালু দিয়ে তার ব্যবসা শুর ুহয়। সে সুবাদে ধিরে ধিরে কিছু প্রভাবশালী মানুষের সাথে পরিচয়ের সুবাদে সে বালুর পাশাপাশি ইটেরব্যবসা এবং চোরাই মাল কেনার পরে বনে যান বড় ব্যবাসায়ী বলে জানান স্থানীয়রা এবং এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এর পর জানাযায়, প্রায় ২ বছর পূর্বে-ভা-ারিয়া-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন নদমুলা ইউনিয়নের কচাঁ নদীর তীরে রুমী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ইটভাটা ৬০ লাখ টাকায় ভাড়া নিয়ে নিজে পরিচালনা শুরু করেন। ইট ভাটায় গেলে সেখানে ওই পরিমান ইটের ১ ভাগ ইটও দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় উক্ত জসিম পার্শ্ববর্তী কচাঁ তীরবতী জোলাগাতি নামক স্থানে খান ব্রিকস নামের অপরএকটি ইটভাটা গড়ে তুলেছেন। বুধবার বিকালে সরেজমিনে গেলে চোখে পড়ে ভিন্নচিত্র। এমনিতেই জোলাগাতি এলাকা কচাঁ নদীতীরবর্তী ভাঙন কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তার উপর অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে সে মাটি ব্যবহার করা হয় ওই ইটভাটায়। এ সময় ওই স্থানে জড়ো হওয়া একাধিক যুবক জানান, ক্রিকেট খেলার মাঠ দখল করে অবৈধভাবে ভাটা চালাচ্ছেন জসিম। প্রবীণরা জানান, উক্ত জসিম খান এখানে গেল বছর একটি ইটভাটা গড়ে তা থেকে ইট দেয়ার নাম করে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।
এদিকে সরকারি নির্দেশ পরিবেশের ছাড়পত্র, কয়লা, এবং জিকজাক ভাটা ছাড়া ইট পোড়ানো যাবে না। কিন্তু সরকারি এ নির্দেশনার কোনটাই মানা হচ্ছে না এখানে। নদী কাটা মাটির স্তুপ পাশেই কিছু কাঠ দেখা গেছে। ওই সময়ে জসিমকে ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই ইটভাটা স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক গাজীর। ওই দিন সন্ধ্যায় মোল্লার হাটবাজারে মো. সিদ্দিক গাজীর সাথে তার নিজস্ব অফিস কক্ষে আলাপকালে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, জসিম নিজেই এখানে একটু জমি কিনে ইট ভাটা গড়েছেন। ওটা আমার না। খান ব্রিকস নামের দেখা যায় প্রো. মো. সালাম খান, পরিচালক মো. জসিম, উজ্জল, অসিম খান। বাবা এবং ছেলেরা মিলে এ ভাটা পরিচালনা করে আসছেন।
অন্যদিকে রুমী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমানোর কাছে মুঠো ফোনে জাতে চাইলে তিনি জানান, জসিমতার সাথে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাঁচটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, সে নিজেও তার কাছ থেকে ইট, কিস্তিতে কিছু নগদ টাকা নেয়ার পরেও আরো ২০লাখ টাকা পাবেন জসিমের কাছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জসিম এই সকল মানুষের কাছ থেকে ইট বাবদ অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ করে নিজের বাড়িতে ছোট, বড় দুটি ভবন নির্মান করেছেন। বালু ও ইট পরিবহনের জন্য ছোট, মাঝারি ৩/৪টি কার্গো কিনেছেন। এছাড়াও ভাইদের ছোটখাট দোকান দিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য ইট ভাটায় ইট পোড়াতে না পেরে মানুষের ইট না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে জসিম খান ইতোপূর্বে একটি কার্গো থেকে চোরাই সিমেন্ট ও কয়লা কেনায় মামলা হওয়ায় জেল খেটেছেন। ওই মালের মূল্য মিটিয়ে মামলা থেকে রেহাই পান। জসিম এর পূর্বেও জেলা, উপজেলা পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী নেতা, কিছু অসাধু প্রশাসনের সহায়তায় চোরাই কারবারে লিপ্ত ছিল। অন্যদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে জসিম খান কিছু নেতার দ্বারস্থ হলেঐ জনপ্রতিনিধি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নামপ্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, জসিম একটু সমস্যার মধ্যে পড়েছে এবং দুটি বোর্ড বিক্রিও করে দিয়েছে। তবে অনেকেই আমাকে বিষয়টি জানানোর পর তাদের একটু সময় দেয়ার জন্য অনুরোধ করি।
জসিম সেল ফোনে সাংবাদিকদের পৃথকভাবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি টাকা নিয়েছি তা সত্য তবে সময় হলে সবাইকেই পর্যায়ক্রমে পাওনা মিটিয়ে দেব।
এ বিষয়ে ভা-ারিয়া থানার অফিসার্স ইন চার্জ মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT