গৌরনদী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ গৌরনদী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ - ajkerparibartan.com
গৌরনদী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

1:00 am , June 8, 2021

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গৌরনদী উপজেলায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধাকে অর্ন্তভূক্ত করার প্রক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন মুক্তিযোদ্ধারা। বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত হওয়ার পরে ক্ষোভের মুখে তাকে বাদ দেওয়া হলেও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির খসড়া তালিকায় তাকে পুনরায় অর্ন্তভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তারা বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম ওরফে সেন্টুকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের ২৪ মের এক পত্রে বলা হয়, ডি শ্রেনীভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগন রাষ্ট্রিয় সম্মানি ভাতা গ্রহন করেছেন তাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই প্রয়োজন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত সংশ্লিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দুইজনকে নিয়ে ৪ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করতে ইউএনওকে নির্দেশ দেন। ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে তথ্যাদি যাচাই বাছাই করে সংযুক্ত ফরম অনুযায়ি সুপারিশসহ প্রতিবেদন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট বরাবরে পাঠানোর জন্য চিঠিতে নির্দেশ দেয়া হয়। গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র ও মুক্তিযোদ্ধারা জানান, যুদ্ধাহত যাচাই বাছাই গৌরনদী উপজেলা কমিটি গঠনে কমিটিতে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা সাবেক জাদস নেতা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম ওরফে সেন্টুকে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পরে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাধারন মুক্তিযোদ্ধারা। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করে বলন, ২০২০ সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্দেহে যাচাই বাছাই করার জন্য সারা দেশে নির্দেশ দেন। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের গৌরনদীর সন্দেহের ২১১ জনের প্রথম তালিকায় ১৩৫ নম্বর ও দ্বিতীয় তালিকায় ১১৩ নম্বরে রয়েছে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম সেন্টু। যাচাই বাছাই শেষে মন্ত্রনায়ল প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে ওই দুটি তালিকায় একটিতে সৈয়দ মনিরুল ইসলামের নাম নেই। বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম যুদ্ধের স্থান ও আহত হওয়ার কোন প্রমানাদি না থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত সে নিজেকে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আসছিল। এখন আবার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে তাকে অর্ন্তভূক্ত করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে জামুকা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু লাল বই ও ভারতীয় তালিকায় তার নাম না থাকায় কমিটি থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। গৌরনদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক একাধিক কমান্ডার অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দ মনিরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা এখনো নিশ্চিত হয়নি কোন আইনে- কোন অদৃশ্য হাতের ইশারায় তাকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে অন্তূভূক্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া সে নিজেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আসছে। কমিটিতে তাকে অর্ন্তভূক্ত করা মানে হচ্ছে বাঘের কাছে ছাগল রাখফাল দেওয়া। আমরা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে সৈয়দ মনিরুল ইসলামে অর্ন্তভুক্ত না করার জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনায়ণ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জোর দাবি জানাচ্ছি। পাক হানাদারদের সঙ্গে বরিশালের প্রথম সম্মুখ যোদ্ধা ও গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার (অর্থ) আব্দুর রাজ্জাক চোকদার বলেন, একজন বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধাকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়টি আমি ইউএনওর কাছে প্রতিবাদ করেছি। ওই কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত হওয়ার কোন যোগ্যতা সৈয়দ মনিরুল ইসলামের নেই। গৌরনদী উপজেলা কমান্ডের সাবেক সদস্য বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য মোঃ মেজবা উদ্দিন আকন এ প্রসঙ্গে বলেন, বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা বাছাই করতে বোর্ডের সামনে কমপেক্ষ তিনজন সম্মুখ সহযোদ্ধার সুপারিশ প্রয়োজন হয় কিন্তু সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে মাত্র একজন সুপারিশ করেছে। প্রকাশিত বেসামরিক গেজেটের প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকায় তার নাম নাই। যার মুক্তিযোদ্ধ গেজেটে নাম নাই, যে নিজেই নিজেক যুদ্ধাহত দাবি করে কোন আইনে ইউএনও তাকে যুদ্ধাহত বাছাই কমিটিতে করতে যাচ্ছে। বরিশাল জেলা কমান্ডের সাবেক সদস্য ইসমাত হোসেন রাসু বলেন, বাছাই কমিটির সাক্ষাতে সৈয়দ মনিরুল ইসলাম কোথায় যুদ্ধ করেছেন তা বলতে পারেনি। তাকে গেজেটভূক্ত করতে ইউএনও সুপারিশ করেছে তারপরেও এখনও গেজেটভূক্ত হতে পারেননি এবং সুপারিশ পত্রের ঘরে তার সুনিদৃষ্ট যুদ্ধের স্থান কলামে ইউএনও কিছুই লিখেন নাই। সার্কুলার অনুযায়ি সৈয়দ মনিরুল ইসলাম যুদ্ধাহত বাছাই কমিটিতে থাকতে পারে না। কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, কমিটিতে থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। গেজেট না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই শেষে প্রকাশিত গেজেটে আমার রয়েছে। বিতর্কিত প্রসঙ্গে বলেন, আমাকে বিতর্কিত তারাই বলেন, যারা নিজেরা বিতর্কিত। গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে যুদ্ধাহত যাচাই বাছাই খসড়া কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়টি আমাার অফিস সহকারীর কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা শুনে থাকতে পারে কিন্তু এখনও তাকে অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT