1:00 am , June 7, 2021
সাঈদ পান্থ ॥ বাবুগঞ্জের চাদঁপাশা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম এর বাড়িতে ৩টি পরিবার জেলেদের কার্ড পেয়েছেন। এ জন্য কার্ড প্রতি নেয়া হয়েছে ২ হাজার করে ৬ হাজার টাকা। সেই কার্ডের মাধ্যমে তিন পরিবারকে দেয়া অ হয়েছে দুই বস্তা চাল (অর্থাৎ ১০০ কেজির কিছু কম)। শুধু আবদুস সালাম এর বাড়ি নয় একই অবস্থায় পার্শ্ববতি আজগর আলীর বাড়িতেও। সেখানেও ২ হাজার টাকার বিনিময় ৪ পরিবার কার্ড পেয়েছে। আর তাদেরও দেয়া হয়েছে ৩০ কেজি করে চাল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সবুজ এর মাধ্যমে এই কার্ড গ্রহন করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগি পরিবার। যদিও সরকারি নিয়ম অনুসারে অর্থের বিনিময় কার্ড নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানালেন জেলা মৎস্য অফিসার। পাশাপাশি দুই কিস্তিতে ৮০ কেজি চাল পাবে কার্ডধারী জেলেরা।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাদঁপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সবুজ। তিনি জানান, এ বছর ৩৪১ জনকে জেলে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই ইউনিয়নে জেলে কার্ড রয়েছে ৭শর বেশি। অর্থের বিনিময় কার্ড বিতরণের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, এই কার্ড আমার আমলে দেয়া হয়নি। আগের চেয়ারম্যানের সময় দেয়া হয়েছে। আর কাউকে চালও কম দেয়া হয়নি। সবাই ৪০ কেজি করে চাল পেয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ উপজেলা নয় বরিশালের ১০ উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই জেলেদের চাল বিতরনে অনিয়ম ও কার্ড প্রাপ্তিতে অর্থ লেনদেন হয়েছে।
গত ৪ মে জেলার মুলাদী উপজেলায় চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় দরিদ্র জেলেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোহসিন উদ্দিন খানের নির্দেশে তার লোকজন হামলা চালিয়ে ৫ জেলেকে আহত করে। যদিও চরকালেখান ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোহসিন উদ্দিন খান বলেন, ‘জেলে কার্ড ছাড়া এক শ্রমিককে এক বস্তা চাল দেয়া হয়েছিল। এতে দলীয় প্রতিপক্ষরা সুযোগ পেয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তারা জেলেদের দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করিয়েছেন। তবে আমার কোনো লোক কারো ওপর হামলা করেনি। হামলার নাটক সাজানো হয়েছে।
জেলেদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তার (বিশেষ ভিজিএফ) পুরো চাল করোনা সংকটের মুহুর্তেও আত্মসাত করার অভিযোগ ওঠে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। পরে এই অপকর্ম ঢাকতে ওই চেয়ারম্যান চালের পরিবর্তে তালিকাভূক্ত কয়েকজন কার্ডধারীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বর) বজলুর রশিদ অভিযোগ করেন, বার্থী ইউনিয়নে ৮০ জন জেলের প্রত্যেকের নামে বরাদ্দকৃত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের ৮০ কেজি চাল সঠিকভাবে বন্টন করা হয়নি। চাল বিতরনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন চেয়ারম্যান শাহজাহান প্যাদা। এ কারণে আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ জেলে গত দুই মাসের বরাদ্দকৃত চাল পায়নি। জেলেদের চাল বিতরনের অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর চেয়ারম্যান বার্থীসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু সংখ্যক জেলের মাঝে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে বিতরন করেছেন। পশ্চিম বার্থী গ্রামের ২৭ জন জেলেকে চালের বদলে নগদ এক হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে জেলেদের চাল আত্মসাৎ ও তাদের মাঝে চালের পরিবর্তে টাকা প্রদানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বার্থীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্যাদা। তিনি জানান, আমি কোন অনিয়ম করিনি, আমার ইউনিয়নে ৮০ জন জেলের নামে বরাদ্দকৃত ২ মাসের চাল আমি ১৬০ জন জেলের মাঝে ভাগ করে দিয়েছি। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭৫ হাজার ১২৬টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এব্যাপারে বরিশাল জেলা মৎস্য অফিসার মো: আসাদুজ্জামান বলেন, কার্ড প্রাপ্তিতে অর্থ বিনিময়ে কোন অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, যদি কেউ জনপ্রতিনিধিকে টাকা দিয়ে কার্ড নিয়ে থাকেন তবে তারা ভুল করেছেন। কারণে জনপ্রতিনিধিদের হাতে জেলে কার্ড নেই। এটি একটি কমিটির মাধ্যমে পাশ হয়। তিনি বলেন, প্রতি জেলে দুই কিস্তিতে ৮০ কেজির বেশি চাল পাবে। জেলেদের চাল কম দেয়া হলেও তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জেলা মৎস্য অফিসার জানান।
