অপ্রস্তুত স্কুলে গোয়াল ঘর অপ্রস্তুত স্কুলে গোয়াল ঘর - ajkerparibartan.com
অপ্রস্তুত স্কুলে গোয়াল ঘর

1:00 am , June 7, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কিন্তু দীর্ঘ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে নোংরা, অপরিস্কার ও গরু ছাগলের গো শালা তৈরি হয়ে গেছে। যদিও সরকারি স্কুল খোলার আগে স্লিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতি স্কুলের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ রেখেছে। তারপরও কোন কোন স্কুল প্রস্তুতি নিচ্ছে না। বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে গত বছর ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় সারা দেশের স্কুল, কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কিন্তু বরিশাল জেলার মাধ্যমিক স্কুল ও প্রাথমিক স্কুল প্রস্তুত নয়। কোন কোন স্কুলে গরুর খামার হয়ে গেছে। স্কুলের ক্লাস রুমেই বেঁধে লালন পালন করা হচ্ছে। কোন কোন স্কুলের মাঠ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও মেঝেতে শ্যাওলা জমে গেছে। এ বিষয়ে যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই। মাধ্যমিক স্কুলের তুলনার জেলার ১ হাজার ৫৯৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা বেশি বেহাল। যদিও এসব স্কুল খোলা জন্য প্রস্তুতি স্বরুপ স্লিপের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্ধ করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ দক্ষিণ হেলিপ্যাড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে গত শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি গরু বাঁধা রয়েছে। স্কুল মাঠ ব্যবহার অনুপোযোগি। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঝর্না রানী বিশ্বাস বলেন, তার স্কুল খোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্তবর্তি পাঠ পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি স্কুল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। গরু বাধাঁর বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ থাকলে কেউ বাঁধতে পারে। অথবা বর্ষা হলে এটা হতে পারে। কিন্তু স্কুল খোলার দিনে এমনটা হতে পারে না। একই অবস্থা উপজেলা কলসকাঠি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্কুলে। আর শুধু বাকেরগঞ্জেই নয় এই অবস্থা বিরাজ করছে জেলার ১০ উপজেলার স্কুলগুলোতেই।
বাকেরগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ডাকুয়া বলেন, করোনাকালীন সময় দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকায় উপজেলার ২৮০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বেশিরভাগই এরকমের অবস্থা হয়ে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ারের খামখেয়ালিপনায় স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা না পাওয়ায় স্কুল খোলার আগেই সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বলেন, স্কুল খোলার জন্য প্রতি স্কুলের জন্য সরকার বরাদ্ধ রেখেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুইবার চিঠি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি স্কুলে সেনিটাইজার, সাবান ক্রয় করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা হাত ধোয়ার জন্য স্থান নির্ধারণ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল কম্পাউন্ড পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বলা হয়েছে। প্রতি শিক্ষার্থীর মাস্ক নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। তারপরও কোন স্কুল এই নির্দেশ অমান্য করে সেটার দায় ওই স্কুল কর্র্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT