ভঙ্গুর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা ও কীর্তনখোলার তলদেশ ভরাটে প্লাবিত হচ্ছে নগরীর অনেক এলাকা ভঙ্গুর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা ও কীর্তনখোলার তলদেশ ভরাটে প্লাবিত হচ্ছে নগরীর অনেক এলাকা - ajkerparibartan.com
ভঙ্গুর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা ও কীর্তনখোলার তলদেশ ভরাটে প্লাবিত হচ্ছে নগরীর অনেক এলাকা

1:00 am , June 7, 2021

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দুর্বল পয়.নিস্কাশন ব্যবস্থার সাথে কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ ক্রমশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট সহ নগরীর বেশীরভাগ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এমনকি মৌসুমী জোয়ারের সময়ও বিনা বৃষ্টিপাতে নগরীর ড্রেন উপচে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। নগরীর অনেক নিচু এলাকাও জোয়ারের পানিতে সয়লাব হচ্ছে। দিনের পর দিন জলাবদ্ধতার শিকার অনেক এলাকায় মানিবক বিপর্যয়ও সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি গত ২৬ মে ঘূর্নিঝড় ‘ইয়াস’এর প্রভাবে ২৪ ঘন্টায় মাত্র ১৬.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই নগরীর বেশীরভাাগ রাস্তাঘাট ছিল পানি তলায়। বৃষ্টির পানির বদলে ঐদিন মূলত জেয়ারের পানি কির্তনখোলায় সংযুক্ত ৭টি খাল দিয়ে নগরীতে প্রবেস করে জনজীবন অচল করে দেয়। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন কারিগরি জরিপ পরিচালিত না হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধীক দায়িত্বশীল প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘মহানগরীর
পাশে প্রবাহমান কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ ভরাট’এর বিষয়টি স্বীকার করেন। এ কারণে শুধু পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থাই নয়, ভবিষ্যতে নগরীর অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা আরো দীর্ঘ সময় পানির তলায় থাকার আশংকা’র কথাও জানিয়েছেন প্রকৌশলীগন। পরিস্থিতি উত্তরনে কীর্তনখোলার সাথে সংযুক্ত খালগুলোর মুখে রেগুলেটর ও পাম্প হাউস নির্মান সহ মহানগরীর সবগুলো খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তা নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষনেরও তাগিদ দিয়েছেন কারিগরি বিশেষজ্ঞমহল। একই সাথে একটি পরিপূর্ণ ‘মডেল স্ট্যাডি’ করে বরিশাল বন্দরে দীর্ঘ মেয়াদী ড্রেজিং করার উপরও গুরুক্বারোপ করেছেন প্রকৌশলীগন।
গত দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে বরিশাল নদী বন্দরের নাব্যতা রক্ষায় কীর্তনখোলায় অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করে নদীতেই সে পলি অপসারন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি কমিটির দিক নির্দেশনা ছিল মূল ভাটার সময় বন্দরের সামনের পলি অপসরন করে তা কীর্তনখালার অপর পাড়ের ভাঙন কবলিত এলাকায় ফেলার। প্রয়োজনে এ লক্ষে বন্দরের নৌ চলাচল প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা বন্ধ রাখারও সুপারিশ ছিল।
কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ সে নির্দেশনা অনুসরন না করে জোয়ার-ভাটার চিন্তা না করেই তাদের সময় সুযোগ মত ড্রেজিং করে নদীর মধ্যভাগে পলি অপসারন করেছে। ফলে গত প্রায় ২০ বছরে নিরবে বরিশাল বন্দর থেকে ভাটি এলাকার দপদপিয়ায় সেতু পর্যন্ত কীর্তনখোলার তলদেশ ক্রমশ ভরাট হয়ে গেছে। যারই ফলশ্রুতিতে একটি বড় জোয়ার হলেই এখন নগরীর রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
কিন্তু পরিস্থিতি উত্তরনে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বরিশাল সিটি করপোরেশন গত প্রায় ৫ বছর ধরে নগরীর কিছু খাল খনন করে পুনরুদ্ধারের প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রনালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে দৌড়ঝাপ করলেও তা অনুমোদন লাভ করেনি। সাবেক নগর পরিষদের সময় এ লক্ষে প্রায় সোয়া ২শ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি’ দাখিল করলেও ইতোমধ্যে নতুন নগর পরিষদ দায়িত্ব গ্রহন করে। বর্তমান পরিষদ প্রায় সাড়ে ১১শ কোটি টাকার একটি ভিন্ন ডিপিপি দাখিল করে। কিন্তু মন্ত্রনালয় থেকে পরমার্শক নিয়োগ করে প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে ডিপিপি’টি পূণর্গঠনের দিকনির্দেশনা দিয়ে তা ফেরত দেয়। নগর কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে পরামর্শকের মাধ্যেমে প্রায় ২ হাজার ২শ কেটি টাকার একটি সংশোধিত ডিপিপি দাখিল করলেও মন্ত্রনালয় তা অনুমোদন না করে ফেরত পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ডিপিপি প্রস্তুতে পানি উন্নয়ন বোার্ডের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহন করা হয়নি বলে একটি অসমর্থিক সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অনেকটা স্বপ্রনোদিত হয়ে নগরীর ৭টি খাল সংস্কারে ১০.৭৫ কোটি টাকার একটি ডিপিপি মন্ত্রনালয়ে দাখিল করেছে বলে জানা গেছে। আগামী অর্থ বছরে নগরীর পলাশপুর খাল, আমানতগঞ্জ খাল, জেলখাল, ভাটার খাল, চাঁদমারী খাল, সাগরদী খাল ও রূপাতলী খালগুলোর প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করার প্রস্তাবনা রয়েছে ডিপিপি’তে। প্রকল্পের আওতায় এসব খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মান সহ বসার জন্য কিছু অবকাঠামো নির্মানের কথাও বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব খল সংস্কার করে দিলেও তার পরবর্তী মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনই বহন করবে বলে জানা গেছে। তবে নবগ্রাম রোড খালটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না করায় নগরীর পশ্চিম অংশের পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রকৌশলী। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েকটি খাল সংস্কার করার উদ্যোগ নিলেও নগর ভবনকে নগরীর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি তা রক্ষনাবেক্ষনে অধিকতর মনযোগী হবারও পরামর্শ নিয়েছেন একাধিক পরিবেশবিদ।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT