ইউপি নির্বাচনে করোনার সংক্রমনের শংকা ইউপি নির্বাচনে করোনার সংক্রমনের শংকা - ajkerparibartan.com
ইউপি নির্বাচনে করোনার সংক্রমনের শংকা

1:00 am , June 5, 2021

অতিথি প্রতিবেদক ॥ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সারাদেশে মহামারী করোনার মধ্যে আগামী ২১ জুন স্থগিত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সংক্রমনের ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। প্রতিদিনই গ্রামে গঞ্জে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচনে আরো সংক্রমনের আশংকায় রয়েছেন তারা। এমনকি করোনার মধ্যে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় অংশ নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কর্মী সমর্থকরা। এছাড়া ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। করোনার মধ্যে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকা ও লকডাউন অব্যাহত থাকার মাঝে নির্বাচনের দিনক্ষন নির্ধারন করার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ সচেতন মহল। করোনার মধ্যে নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়টি পূন বিবেচনারও দাবী জানান অনেকে। তবে করোনার ভয়াবহতার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন স্থগিত রাখার মতামত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো জসিম উদ্দীন হায়দার।
সূত্র জানায় গত ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপের ৩৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে নির্বাচনের আগ মূহুর্তে তা ’স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এতে সাধারন মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে গত ২ জুন ’স্থগিত হওয়া ৩৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদের পূনরায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ জুন স্থগিত থাকা এসব ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে গ্রামে গঞ্জে করোনার ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে করোনার কারনে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই সাধারন মানুষের। এমনকি বিভিন্ন প্রার্থী কর্মী সমর্থকরাও অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। করোনার কারনে তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাইতে সংকোচ বোধ করছেন। এমনকি ভোটারাও কর্মী সমর্থকদের সামনে আসতে চাইছেন না। এতে করে নির্বাচন নিয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে বিরুপ মনোভাবের সৃস্টি হয়েছে। ফলে ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময়ে শহরে করোনার প্রকোপ থাকলে ক্রমান্বয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। বিশেষ করে প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে কিছু মানুষ বাংলাদেশে এসে গ্রামে গঞ্জে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ। এছাড়া পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ গ্রামে ফিরে পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে। এর থেকেই গ্রামে করোনার প্রকোপ কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী খায়রুল বাশার লিটন বলেন, দিন দিন গ্রামাঞ্চলে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার সকালে সাতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হালিম হাওলাদার শেবাচিম হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। একই ইউনিয়নের ব্যাবসায়ী সালমান বিশ্বাস ও নজরুল ইসলাম বিশ্বাস করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার আতংক বাড়ছে। এতে করে অনেকেই ঘর থেকে বের হয় না। একই ভাবে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সেসব বাড়ির লোকজনও ঘর থেকে বের হচেছন না। ফলে আসন্ন নির্বাচনে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচার প্রচারনা চালানো যাচছে না। ফলে অংশ গ্রহন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক নির্বাচন নিয়ে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তিনি বলেন, অন্য যে সব প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে ছিলেন, করোনার কারনে তাদের কর্মি সমর্থকরা এখন মাঠে নেই বললেই চলে। ফলে মহামারী করোনার মাঝে জনগনের স্ব:তস্ফুর্ত অংশগ্রহন মুলক নির্বাচন হবে বলে মনে হচ্ছেনা।
একাধিক ইউনিয়নের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা জানান, করোনার প্রকোপের মঝে নির্বাচন হলেও জনগণের অংশগ্রহনমুলক নির্বাচন হবে না। তাই আগের মতো নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন বন্ধের বিষয়টি পূনর্বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস বলেন, নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়তো হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কোন চিঠি পাইনি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে হয়তো নির্বাচনের দিনক্ষন ঘোষনা করবে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, দেশে করোনার পরিস্থিতি দিন দিন মারাত্মক আকার ধারন করছে। রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় করোনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের সার্বিক পরিস্তিতি বিবেচনা করেই হয়তো এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিবেন। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দীন হায়দার বলেন, করোনার কারনে ১১ এপ্রিল প্রথম দফা নির্বাচন না করার জন্য মতামত দিয়েছিলাম। যে কারনে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিলো। বর্তমানে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলেও করোনার প্রকোপ বাড়ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের সবচেয়ে বড় নির্বাচন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহন অনেক বেশি হয়ে থাকে। যে কারনে করোনার ভয়াবহতা বাড়ার আশংকা থাকে। সব কিছু বিবেচনা করে চেষ্টা করছি নির্বাচন কিছু দিন পিছানো যায় কিনা। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সব কিছু চিন্তা করে নির্বাচন কমিশনকে জানাচ্ছি। আমাদের জনগনের মতের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT