নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে দক্ষিণাঞ্চলের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ভোগান্তিতে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে দক্ষিণাঞ্চলের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ভোগান্তিতে - ajkerparibartan.com
নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে দক্ষিণাঞ্চলের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ভোগান্তিতে

3:21 pm , June 2, 2021

 

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ করোনা মহামারি সংকটে কর্মসংস্থানের অভাবের সাথে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের নি¤œ ও নি¤œ-মধ্যবিত্তের মানুষ খুব কষ্টে আছেন। টিসিবি’র পণ্য বিক্রি বন্ধ হবার পর থেকে পেয়াঁজ, ভোজ্য তেল এবং ডাল সহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ক্রমশ নি¤œ ও নি¤œ-মধ্যবিত্তের আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে চালের দাম বৃদ্ধির প্রবনতাও অব্যাহত রয়েছে। তবে আগামী ৬ মে থেকে ১০ দিনের জন্য বরিশাল মহানগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলের অপর ৫টি জেলা সদর ও উপজেলা সদরে শুধুমাত্র চিনি, ভোজ্য তেল ও মুসুর ডাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় এ বানিজ্য সংস্থাটি। ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের খোলা বাজারে দেশীয় পেয়াঁজের কেজি ৬০ টাকা অতিক্রম করেছে। আমদানীকৃত পেয়াঁজও ৫৫ টাকা কেজি। মুসুর ডাল ১শ টাকা কেজি। মুগ ডালের কেজি ১৩০-১৩৫ টাকা। খেসারি ডালও ৮০-৮২ টাকা কেজি। সয়াবিন তেল লিটারে আরো ৫ টাকা বেড়ে এখন ১৪৫-১৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজা ও ঈদ উল ফিতরে পরে চিনির দাম কমার আশা করা হলেও তার কোন লক্ষন নেই। এখনো দক্ষিণাঞ্চলের খোলা বাজারে চিনির কেজি ৭৫ টাকা। চালের বাজারে আরো ৬ মাস আগে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল তা প্রশমিত হওয়া দুরের কথা অব্যাহত রয়েছে। বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে এখনো নি¤œ-মধ্যম মানের ‘বি-আর ২৮’ বা ‘২৮Ñবালাম’ চালের কেজি ৪৫ টাকা। আর মধ্যমÑভাল মানের মিনিকেট চালের কেজি প্রায় ৬০ টাকা। ভাদ্রমাসের অমাবশ্যার প্রভাবে প্রবল বর্ষণের সাথে ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ারে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় প্রায় দেড় লাখটন উৎপাদন হ্রাস পায়।
তবে সারা দেশে আমনের উৎপাদন গত বছরের চেয়ে বেশী হলেও দূর্যোগের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চালে দাম বেড়ে যায় কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এরপরে বোরো ধানের ভাল ফলন হলেও চালের দাম আগের পর্যায়ে হ্রাস পায়নি। বরং তা ক্রমাগত উর্ধ্বমুখি। অপরদিকে রোজার আগে থেকে গত ৯ মে পর্যন্ত সারাদেশের মত দক্ষিণাঞ্চলেও এবার টিসিবির পেয়াঁজ, চিনি, ভোজ্যতেল এবং মুসুর ডাল ছাড়াও সীমিত সময়ের জন্য ছোলাবুট ও খেজুর বিক্রি করে। এমনকি টিসিবি ৩৫ টাকা দরে পেয়াজ বিক্রি শুরু করলেও ক্রেতার অভাবে এক পর্যায়ে তা ১২ টাকায় হ্রাস করলেও পর ২০ টাকা দরে সব পেয়াঁজ বিক্রি শেষ করার পরেই বাজারে বিরূপ পরিস্থিতি ফিরে আসে। সাথে করোনা সংকটে ভারত থেকে আমদানী হ্রাস পবার ফলেও পেয়াজের বাজারে বিরূপ পড়ছে। তবে ৬ জুন থেকে টিসিবি দক্ষিণাঞ্চলে যে মাত্র ৩টি পণ্য নিয়ে বাজারে ফিরছে, তাও খুবই সীমিত আকারে। বরিশাল মহানগরীতে আগের ৮টি ট্রাকের স্থলে এবার মাত্র ৫টি এবং জেলা পর্যায়ে ১টি ট্রাকে শুধুমাত্র চিনি, মুসুর ডাল ও ভোজ্য তেল বিক্রি করবে সংস্থাটি। এর বাইরে উপজেলা সদরগুলোতে পর্যায়ক্রমে এসব পণ্য বিক্রি হবে বলে টিসিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে টিসিবি’র অতি সীমিত এ পন্য বিক্রি বাজারে খুব ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন না বাজার পর্যবেক্ষকগন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT