3:32 pm , June 1, 2021
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্ত্বরে বিশৃঙ্খলার পেছনে বড় কারণ চাঁদাবাজি। এমন অভিযোগ এ্যাম্বুলেন্স চালক-মালিকদের। এমনকি খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বলছে এ্যাম্বুলেন্স থেকে চাঁদাবাজি এ মেডিকেলে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ। মেডিকেল চত্ত্বরে চলতে একটি এ্যাম্বুলেন্সকে মাসে ৩ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এই টাকা তুলতে এ্যাম্বুলেন্সগুলোর বাড়তি ট্রিপ মারার প্রবণতায় পেয়ে বসে। মেডিকেল চত্ত্বরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত চাঁদাবাজিটা বেশি হয় এ্যাম্বুলেন্স মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে। এর অংশ আবার যায় পুলিশ প্রশাসনে। মেডিকেল চত্ত্বরে এ্যাম্বুলেন্স সেক্টরে চাঁদাবাজির যে চিত্র উঠে এসেছে তাতে দেখা যায়, মাসে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মতো চাঁদা তোলা হয় এ্যাম্বুলেন্সগুলো থেকে। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৬০ হাজার টাকা। তবে নিজেদের মধ্যে ঝুট-ঝামেলা হলে মাঝে মধ্যে চাঁদাবাজির বেপরোয়া প্রবণতা কিছুটা কমলেও তা আবার পুরোদমে চলছে। একাধিক এ্যাম্বুলেন্স মালিকের দাবি, সম্প্রতি এ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে মারামারি হলে পর পর কয়েক মাস চাঁদা তোলা বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের অভিযানে হাসপাতালে দালাল ও পকেটমার চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ্যাম্বুলেন্স সেক্টর নিয়ে বিশৃঙ্খলা চললেও এখানকার প্রভাবশালীদের প্রভাব বজায় আছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজিব আহমেদ বলেন, ‘রোগী ও স্বজনদের কথা মাথায় রেখে এ্যাম্বুলেন্স সেক্টরে অভিযান পরিচালনার বিষয়য়ে অফিসিয়াল মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে।’
বর্তমানে আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা রবিন ও চরের বাড়ির সাহাদত এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ এখানকার চালকদের। তাদের ভাষ্য, এই রবিন গত কয়েক বছরে নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ব্যানারে একাধিক এ্যাম্বুলেন্স নামিয়েছেন। বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অনুসন্ধান বলছে, মেডিকেল চত্ত্বরে শতাধিক এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। প্রথমে এসব এ্যাম্বুলেন্স মেডিকেল চত্ত্বরে ঢুকলে মালিক সমিতির নামে এ্যাম্বুলেন্স প্রতি ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়। অর্থ্যাৎ রুট পারমিট কিনতে হয়। কথিত এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত এ্যাম্বুলেন্স থেকে কী পরিমাণ চাঁদা তোলা হয় তার একটি তালিকা এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায়, এই এ্যাম্বুলেন্স সেক্টরে শতাধিক এ্যাম্বুলেন্স থেকে চাঁদা তোলা হয়।প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। মাসে চাঁদার পরিমান দাড়ায় ৩ লক্ষ টাকা। এসব এ্যাম্বুলেন্স থেকে বছরে চাঁদাবাজী হয় প্রায় ৩ কোটি ৬০ হাজার টাকা ।কিন্তু এসব টাকার কোনো হদিস মালিক সমিতির গুটি কয়েকজন ছাড়া কেউ জানেন না। এই রুটে সবচেয়ে বেশি এ্যাম্বুলেন্স রবিন ও সাহাদতের। এমনকি হাসপাতালের দুই তলায় (প্যাথলজি বিভাগের সামনে) একটি কক্ষ দখল করে কথিত মালিক সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জাকির নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে এখানে সহসা-ই কেউ এ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহন করতে পারে না। রোগী বহন করতে এ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনেক কাঠ-খর পুড়তে হয়।তাছাড়া রুট পারমিটের কথা বলে ৪০ হাজার টাকা করে ১০০ এ্যাম্বুলেন্স মালিকের কাছ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্রটি।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তা অকপটে স্বীকার করেন এখানকার কথিত এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি রবিন। রবিন বলেন,‘মেডিকেল চত্ত্বরে রোগী বহন করতে হলে এ্যাম্বুলেন্স প্রতি ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়। মাসে আরও ৫শ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। সংগঠনের সদস্যরা সমস্যায় পড়লে তাদেরকে এখান থেকে ঋণ দেওয়া হয়।কিন্তু যারা চাহিদা মত টাকা দেয়না তাদেরকে কোন ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয় না।তাছাড়া এখানে ৭০টি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সংগঠনে ৪৫ জন সদস্য রয়েছে।’ তবে মুঠোফোনে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে কথিত এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক সাহাদত হোসেন বলেন,‘আমি এখন ঘুমাচ্ছি। ভাই (প্রতিবেদক) আমি এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।
এদিকে আরো অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সামনে এ এ্যাম্বুলেন্সগুলোর কোনটির ফিটনেস সনদ নেই। সিংহভাগ এ্যাম্বুলেন্স লক্কর-ঝক্কর মাইক্রোবাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। চলাচলের শক্তি ফুরিয়ে আসা এসব এ্যাম্বুলেন্স রোগী ও মৃতদেহ নিয়ে পথিমধ্যে বন্ধ হয়ে পড়ার বেশ কিছু নজির রয়েছে। এছাড়াও এসব এ্যাম্বুলেন্সের চালকদের মধ্যে সিংহভাগের নেই কোন যানবাহন চালনার কাগজ পত্র। সম্পূর্ন অবৈধভাবে তৈরি ও চলাচল করার জন্য ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি হয়। যার কারনে কেউ প্রতিবাদে এগিয়ে আসে না।
