3:54 pm , May 30, 2021
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মারা যাওয়ার প্রায় দুই মাস পর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল ২৩ মে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে আজ্ঞাত আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসীন্দা কাজী জুয়েল। মামলাটি আমলে নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারক এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বানারীপাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, তিনি তার মা মমতাজ বেগম ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে বসবাস করেন। তার দুই ভাই ও দুই বোন দেশের বাইরে থাকেন। বাদীর ঘরের পেছনে খান বাড়ী সংলগ্ন একটি খালী বাড়ী রয়েছে। যেখানে দীর্ঘ বছর ধরে কেউ বসবাস করেনা। ওই বাড়ীতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছে। জমিতে থাকা গাছপালা ও সম্পত্তি নিয়ে খান বাড়ীর লোকজন এবং স্থানীয় কিছু লোকজনের সাথে বাদীর মামলা চলে আসছে। ঘটনার দিন ৫ এপ্রিল ভোরে ওই এলাকায় প্রচন্ড ঝড় হয়। ঝড়বৃষ্টি শেষ হলে বাদীর মা মমতাজ বেগম স্বচক্ষে ক্ষয়ক্ষতি দেখতে বিরোধপূর্ন জমিতে যান। এসময় একই এলাকার কাজী লতিফুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের চিৎকার শুনে বাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তার মা মাটিতে পড়ে আছেন। তার মাথা ফাটা ও মাথার মগজ বের হয়ে আছে। এছাড়া মমতাজ বেগমের শরীরে আঘাতের অনেক চিহ্ন ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় কাজী জাকির, কাজী শিমুল, কাইউম খান, রাব্বি, মালা, দুলু বেগম মিলে কাজী নজরুলের অটোতে করে আহত মমতাজকে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বাদী আরও অভিযোগ করে অজ্ঞাত আসামীরা তার মায়ের কানে থাকা স্বর্ণের দুল চুরি করে নিয়ে যায়। বাদী মামলায় উল্লেখ করেন তিনি তার মায়ের মৃত্যু শোকে অজ্ঞান এবং মানসিক বিপর্যস্ত থাকায় থনায় অভিযোগ করতে পারেননি। বাদীর ধারণা অজ্ঞাত আসামীরা জমি বিরোধের জেরে তার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
