চরফ্যাসনে ৪দিনেও যায়নি ত্রান ॥ দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট চরফ্যাসনে ৪দিনেও যায়নি ত্রান ॥ দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট - ajkerparibartan.com
চরফ্যাসনে ৪দিনেও যায়নি ত্রান ॥ দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট

1:23 pm , May 28, 2021

চরফ্যাসন প্রতিবেদক ॥ চরফ্যাসনে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পানিবন্ধী চরকুকরী মুকরী, চরপাতিলা ঢালচর,চর নিজাম, চর মানিকা ও নজরুল নগর ইউনিয়নের দূর্গতরা ত্রাণ পায়নি। বসতঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন ৫০ হাজার পরিবার জোয়ারের সাথে লড়াই করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে অতি জোয়ারে টানে গতকাল শুক্রবার আরো ভোগান্তি বেড়েছে পানিবন্ধী প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। এ থেকে নতুন করে ঘুরে দাড়ানোর জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। ঘূর্ণি ঝড়ের প্রভাব কেটে গেলেও অতি জোয়ার যেন পরিবার গুলো মরার ওপর খাড়া ঘাঁ হয়ে দাড়িয়েছে। দূর্গত এলাকা ঘুরে দেখাযায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উত্তাল সাগরের টেউয়ের আঘাতে তছনছ হওয়ায় অনেক ঘর কোন ভাবে দাড়িয়ে আছে। ¯্রােতের টানে ভিটের মাটি সাথে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বসত ঘরের বেড়া ও আসবাব পত্র। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে স্বজনদের বাড়িতে আবার কেউ মাচা করে রাত কাটাচ্ছেন অনহারে। জোয়ারের টানে ভেসে গেছে গবাদিপশু, মাছের ঘের, রবি শষ্য ও ঘর ভিটার মাটি। কিছু এলাকায় জোয়ারের পানি নেমে গেলেও ধ্বংস্তুপ সরিয়ে কেউ কেউ নতুন করে ঘর তোলার প্রস্ততি নিচ্ছে। অসহায় হয়ে পরেছে ঢালচর, কুকরী মুকরী ইউনিয়নসহ ২১ টি ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষ গুলো। উপজেলা প্রশাসনের দেয়া শুকনা খাবার মুড়ি, বিষ্টুট খেয়ে চারদিন কেটেছে পানিবন্দীদের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরন করা হয়েছে। তবে পৌছায়নি ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে ত্রানসমগ্রী। কুকরী মুকরী ইউণিয়নের চর পাতিলা গ্রামের বাদশা মিয়া জানান, টানা ৪দিনের অতি জোয়ারে মেঘনায় ভেসে গেছে ঘর ভিটার মাটি। খাল বিল সবই নোনা পানিতে তলিয়ে আছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের দেয়া মুড়ি ও বিস্কুট খেয়ে কাটিয়েছেন ৪দিন। পথ ঘাট তলিয়ে থাকায় কোথায় যেতে পারছেনা তারা। ৪দিন অতিবাহিত হলেও সরকারী কোন সহায়তা পাননি এখনও। ঢালচর ইউনিয়নের জামাল মাঝি জানান, নিজেদের ঘর ভিটে ছাড়া কোন সহায়-সম্পত্তি নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী জামাল মাঝির উপর নির্ভরশীল স্ত্রী, ৪ পুত্র এবং এক কন্যাকে নিয়ে ৭ জনের সংসার।ঘূর্ণি ঝড়ের প্রভাবে ভিটে মাটি বসত ঘর ভেসে যাওয়ায় গোটা পরিবারটি বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্ত ঝড়ের পর ৪দিন কেটে গেলেও সরকারী বা বে-সরকারী ভাবে কেউ পরিবারটির খবর নেয়নি। মিলেনি এতটুকু সহায়তা। কুকরী মুকরী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুকরী মুকরী ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের চর কুররী মুকরী ও পাতিলা গ্রামের ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সম্পুর্ন এলাকার প্রায় ১৪ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরেছে। ক্ষতি গ্রস্তদের মাঝে শুকনা খবার ও নগদ অর্থ বিতরন করা হয়েছে। চর পতিলার প্রায় ৫ হাজার মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংটক দেখা দিয়েছে। ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সলাম হাওলাদার জানান,বেড়ি বাধ না থাকায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢাল চরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অতি জোয়ারে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পনিবন্ধী হয়ে পরেছে ওই ইউনিয়ন। দূর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ বিতরন করা হলেও এখনও পায়নি সরকারী কোন ত্রান সমগ্রী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এখনও প্রস্তুত করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর তালিকা প্রস্তুত করে অতি শীগ্রই ত্রান বরাদ্দ দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT