‘সাংবাদিক’ নাম ভাঙিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে চলছে দালালদের অপকর্ম ‘সাংবাদিক’ নাম ভাঙিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে চলছে দালালদের অপকর্ম - ajkerparibartan.com
‘সাংবাদিক’ নাম ভাঙিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে চলছে দালালদের অপকর্ম

3:52 pm , May 8, 2021

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে সাংবাদিক পরিচয়ে বির্তকিতরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাংবাদিকতা ও সংবাদ তৈরির প্রাথমিক শিক্ষা না থাকলেও বির্তকিতরা সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতিদিন নানা অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে। এসব কথিত সাংবাদিকদের প্রধান কাজই হলো নানা অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকান্ড করা। এদের কারনে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। কথিত ও সাংবাদিক বেশধারী বির্তকিতদের প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকরি উদ্যোগ নেয়া জরুরী বলে মন্তব্য করছেন পেশাদার সংবাদিকরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিনাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র হলো শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় হাজারের অধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। এছাড়াও বহি. বিভাগে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন হাজারখানেক রোগী আসে। এদের মধ্যে সিংহভাগ রোগী থাকে বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকার। যারা সহজ-সরল। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে যে ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হয় তা তারা করতে পারে না। এই সুযোগ নেয় দালাল চক্র। নিরীহ ও সহজ সরল মানুষদের দ্রুত ও সহজে সঠিক চিকিৎসা সেবা পাইয়ে দেয়ার নামে সাংবাদিক নামধারি দালালরা হাতিয়ে নেয় সর্বস্ব। এছাড়াও হাসপাতালে রোগী ভর্তি, ছাড়পত্র ও বিভিন্ন সনদ এনে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে নামসর্বস্ব সাংবাদিক নামধারি একটি দালাল চক্রের। এরা মেডিকেল সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে। এসব দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান করে। অভিযানে অনেক দালাল আটক হয়। এছাড়াও কারাদন্ডেও দন্ডিত হয়েছে দালাল সাংবাদিক চক্রের হোতা। তারপরও থেমে নেই তার অপতৎপরতা। প্রশাসনের এমন অভিযান থেকে নিজেদের রক্ষায় দালাল চক্র বিভিন্ন ভুই ফোর সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের শরনাপন্ন হয়। হাসপাতাল অভ্যন্তরে দালালী নির্বিঘেœ করার জন্য তথাকথিতদের মাধ্যমে সাংবাদিকতার পরিচয় পত্র নেয় এসব দালালরা। সংবাদ সংগ্রহের নামে হাসপাতালে রোগীর দালালী, নিরীহদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকে তারা। সাংবাদিক পরিচয়ে শেবাচিম হাসপাতালে নানা অপকর্ম করায় প্রকৃত সাংবাদিকতা এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এসব দালালরা তাদের অপকর্ম দৃঢ় করতে সংগঠন করে। সংগঠনের নামে এরা আরো হয়ে উঠছে বেপরোয়া।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, একটি সংবাদ তৈরির প্রাথমিক জ্ঞান না থাকার পরেও নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক ও কথিত সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়া ব্যক্তির রয়েছে নানা অপকর্ম। ওই ব্যক্তির গ্রামের বাড়ি ভোলায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালেই থাকে তার অবস্থান। চাঁদাবাজী ও চিকিৎসাধীন রোগীদের হয়রানিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিকবার র‌্যাব-পুলিশের হাতেও আটক ও দন্ডিত হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা। শেবাচিম হাসপাতালের কর্মচারীরা জুতা ও ঝাড়– পেটা করাসহ নানা নাজেহাল করে। কোন নৈতিকতা ও মান সম্মানহীন ওই কথিত সাংবাদিক এর পরেও হাসপাতাল অভ্যন্তরে গিয়ে নানা বির্তকিত কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। ভিক্ষুকের টাকা চুরি, রোগীদের মালামাল চুরি, পকেটমারীসহ টাকার জন্য অন্ত.সত্ত্বা নারীকে লাথি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কথিত ওই সাংবাদিকের কারনে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকরা। তাই কথিত ওই সাংবাদিকসহ পরিচয়ে নানা অপকর্মকারীদের চিহিৃত করা জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন প্রকৃতরা। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা। হাসপাতালে ‘সাংবাদিক’-এর গ্রহণযোগ্যতা ও সহজ প্রবেশাধিকারের কারণে এর অপব্যবহারের প্রবণতা দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা আদায়, অপরাধ ঢাকা দেওয়া ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য ‘সাংবাদিক’ পরিচয় ব্যবহার করছে তারা।
সিনিয়র সাংবাদিক গোপাল সরকার বলেছেন, এসব কথিত সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করে আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীদের কাছে দেয়া উচিত। এদের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সঠিক আইন প্রয়োগ করা হলে প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
সাংবাদিক অপূর্ব অপু বলেন, এজন্য প্রকৃতদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এলে এরা আর অপকর্ম করতে পারবে না। তার মন্তব্য কথিতদের অস্তিত্ব সীমিত সময়ের জন্য। এরা বেশিদিন স্থায়ী হতে পারে না। প্রকৃত সাংবাদিকতাই টিকে থাকবে।
সৈয়দ মাহামুদ চৌধুরী বলেন,‘সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা বেড়ে যাচ্ছে। ‘সাংবাদিক’ নামধারী অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলেই এই প্রতারণা রোধ করা সম্ভব। এ জন্য গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরী।’
শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু বলেন,‘আমরা অবাধ তথ্যপ্রবাহ চাই। কিন্তু তথ্যপ্রবাহের মাধ্যমটি কার হাতে যাচ্ছে, সেটি যথাযথ ব্যবহারের যোগ্যতা তার আছে কি না, মাধ্যমটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী এসব বিষয় যাচাই করা উচিত। প্রতারণামূলক কাজে যারা সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এদের বিরুদ্ধেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা উচিত বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।’

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT