থমকে যাচ্ছে শেবামেক’র ভর্তি বাণিজ্যের হোতাদের শনাক্ত প্রক্রিয়া থমকে যাচ্ছে শেবামেক’র ভর্তি বাণিজ্যের হোতাদের শনাক্ত প্রক্রিয়া - ajkerparibartan.com
থমকে যাচ্ছে শেবামেক’র ভর্তি বাণিজ্যের হোতাদের শনাক্ত প্রক্রিয়া

3:50 pm , May 8, 2021

 

হেলাল উদ্দিন ॥ ভর্তি বানিজ্যের সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ভর্তি বানিজ্যের হোতাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া। সংগত কারনেই দুই মূল হোতা এবারও ধরাছোয়ার বাইরে থাকার পথ তৈরী হয়েছে। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিঠির প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শেবামেক এর দুই কর্মচারী জাহাঙ্গীর ও নাদিরুজ্জামানকে কলেজ কর্তৃপক্ষ শোকজ করায় ভর্তি বানিজ্যের বিষয়টি উন্মোচন হওয়ার যে পথ তৈরী হয়েছিলো তাতে মাঝপথে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের থাবা পড়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ বলছে এত পুরানো নথিপত্র খুজে পাওয়া কষ্টকর। তাছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রনালয় থেকে এ বিষয়ে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি। শুধু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিঠির প্রেক্ষিতে যতটুকু করার করেছি। এমবিবিএস পরীক্ষার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ বাহলুল হক চৌধুরী এক কথায় জানালেন এটা চরম একটি ভর্তি বানিজ্যের সিন্ডিকেট। অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতায় এরা পার পেয়ে আসছে। আর অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আহসান হাবীব বলেন বিষয়টি অধিদপ্তরের নজরে আনা হয়নি। অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত হবার দাবী রাখে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুরো বিষয়টি ভর্তি বানিজ্যের মাফিয়াদের কবলে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারনা চুনোপুটি থেকে এই বানিজ্যের সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালদের মুখোষ বেড়িয়ে আসতো। তাই এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতরা মুকুলেই তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দিয়েছেন।
তথ্য মতে গত বছরের ৪ নভেম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরী বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষে একটি চিঠি প্রদান করেন। তাতে ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষা বর্ষের এমবিবিএস ভর্তিতে জালিয়াতি হয়েছে উল্লেখ করে ভর্তির রেকর্ডস সমূহ তলব করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কে অনুরোধ করা হয়। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ নথিপত্র খুজতে গিয়ে না না পেয়ে গত ৫ এপ্রিল তৎকালীন ছাত্র শাখায় কর্মরত জাহাঙ্গীর হোসেন ও স্টোর কিপার নাদিরুজ্জামান কে শোকজ করে ৫ কার্য দিবসের মধ্যে নথিপত্র বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু নানা অযুহাতে নথিপত্র বুঝিয়ে না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে অভিযুক্তরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে কঠোর অবস্থানে থাকলেও শেষ ভাগে তাতের অবস্থান পিচ্ছিল হয়েছে। এখন অভিযুক্তদের সুরে অনেকটা সুর মিলিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ ডাঃ মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন দীর্ঘ দিনের নথিপত্র খুজে না পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাছাড়া শুধু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিঠির প্রেক্ষিতে যতটুকু করা প্রয়োজন করেছি। আমার কর্তৃপক্ষ তো তিনি নন। অধিদপ্তর বা মন্ত্রনালয় থেকে এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা আসলে তা পালন করতে আমি বাধ্য। তিনি আরো বলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে অভিযুক্তদের সাথে তো ব্যক্তিগত শত্রুতাও থাকতে পারে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ বাহলুল হক চৌধুরী বলেন আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোন কথা বলব না। শুধু এটুকুই বলব এটা বড় একটা ভর্তি বানিজ্য সিন্ডিকেট। অধিদপ্তরকে ধরেন, তাদের প্রশ্ন করেন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আহসান হাবীব বলেন বিষয়টি সম্পর্কে আমি বা অধিদপ্তর অবহিত নয়। তবে যদি পিপড়ে না খেয়ে ফেলে তাহলে নথি কলেজ থেকে উধাও হওয়াটা অস্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্তের দাবী রাখে। তিনি আরো বলেন কলেজ অধ্যক্ষ বিষয়টি আমাকে অবহিত করেন নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
জানা গেছে দেশে ঢাকায় আইন শৃঙাখলা বাহিনীর অভিযানে মেডিকেল কলেজে ভর্তি জালিয়াত চক্রের একটি গ্রুপ ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে ভর্তি বানিজ্যের সাথে জড়িত দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজসহ নানা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ব্যাক্তিদের নাম উঠে আসে। এদের সনাক্ত করার প্রক্রিয়া হিসাবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তির কাগজ পত্র চেয়ে চিঠি প্রেরন করা হয়। সে চিঠির প্রেক্ষিতে শেবামেকে চিঠি প্রেরন করা হয়েছিলো। জানা গেছে চিঠিতে নির্দিষ্ট একাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তি সংশ্লিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছিলো। এরপরই কলেজ থেকে তা গায়েব করে দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT