উজিরপুরে সাতলার পটিবাড়ি বিলে মৎস্য চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছে চাষীরা উজিরপুরে সাতলার পটিবাড়ি বিলে মৎস্য চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছে চাষীরা - ajkerparibartan.com
উজিরপুরে সাতলার পটিবাড়ি বিলে মৎস্য চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছে চাষীরা

3:33 pm , April 18, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ এক সময়ের অবহেলিত এক ফসলের জমি এখন যেন সোনার ডিম। অল্প সময়ে এ অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছে গ্রামঞ্চলের মানুষের একত্রিত হয়ে গড়ে তোলা মৎস্য সমবায় সমিতি। এ সমিতির মাধ্যমে উজিরপুর উপজেলার সাতলার বিলজুড়ে গড়ে উঠেছে মৎস্য চাষ প্রকল্প। ময়লা অবর্জনার কারনে এ বিলে এক সময় তেমন কোন ফসল হতো না। সেই জমিতে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে মাছ চাষ করে শত শত মানুষ নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন। মৎস্য চাষাবাদ শেষে শুকনা মৌসুমে ধানের চাষাবাদ করেন। সেকারনে জমিটি ১২ মাস চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করে জমির মালিকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। একটি মহল ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাতলার পটিবাড়ি ৯০০ বিঘা জমির মৎস্য সমবায় সমিতির কমিটি নষ্ট করে ঘেরটি তাদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে নানা ষড়যন্ত্র’র ফাঁদ তৈরী করছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির একাধিক বৈধ মালিকরা। জানাগেছে , এক সময়ের অবহেলিত সাতলা জনপদে’র রুপকার উজিরপুর উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি সাতলা ইউপির প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আজাদ। পটিবাড়ি পতিত জমির একাধিক বৈধ মালিকদের নিয়ে সমবয় সমিতি করে মৎস্য চাষ শুরু করেন প্রায় ১২ বছর আগে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর মৎস্য ঘেরের মাছ বিক্রি করে জমির পরিমান ও চাষাবাদে অংশীদারিত্বের পরিমান মতো লভ্যাংশ টাকা তুলে দেয়া হয় জমির মালিকের হাতে। সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকরা ঘেরটি পরিচালনা করেন। গত বছর সাতলার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আজাদ মারা গেলে তার পুত্র মশিউর মিয়া ও প্রিয় লাল মন্ডল সমিতি’র মাধ্যমে অন্যসব সদস্যদের নিয়ে মৎস্য ঘেরটি পরিচালনা করছেন। ওই ঘেরের মধ্যে আব্দুল খালেক আজাদের জমির পরিমান বেশী হলেও মশিউর সকল সদস্যদের মতো লাভের টাকা সমপরিমান ভাগ করে নেন। একটি মহল ঘেরটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করলেও ঘেরের জমির অধিকাংশ মালিকরা একাট্ট্রা হয়েছেন তাদের ঘেরটি রক্ষা করার জন্য। পটিবাড়ি মৎস্য ঘেরের জমির মালিক হরসিদ বৈদ্য জানিয়েছেন, তার পতিত জমিতে মাছ চাষ করে সে লাভবান হয়েছেন। একই ভাষ্য আতাহার বিশ্বাস নামক অপর এক জমির মালিকের। সুমনাথ হালদার বলেন তার জমিতে সমিতির মাধ্যমে তিনি মৎস্য চাষ করতে চান। মাছ বিক্রি’র পর ওই জমিতে বিনা খরচে ধান চাষের উপযোগী জমি পান সে কারনে তিনি লাভবান হচ্ছেন । তিনি অভিযোগ করেন একটি মহল তাদের মৎস্য ঘেরটি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। মৎস্য সমিতির সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ প্রিয় লাল মন্ডল বলেন, ৪ শত সদস্যর মাধ্যমে ঘেরের জমিতে মাছ চাষ করা হয়। মাছের ঘেরের লাভ সকল সদস্য সমান ভাগে অর্থ পায়। অনেক কৃষকই ঘেরের লাভের টাকায় শুকনো মৌসুমে ধান চাষ করছেন এবং নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন। একটি মহল ঘেরটির নিয়ন্ত্রন নিতে মরিয়া। তারা চাষীদের নানা ভাবে হুমকিও দিচ্ছে। প্রয়াত চেয়ারম্যান খালেক আজাদের পুত্র মশিউর রহমান বলেন, শতশত মানুষ পটিবাড়ি মাছের ঘের দিয়ে লাভবান হলেও একটি কুচক্রি মহল যাদের ওই ঘেরে কোন জমি নাই তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। ঘেরের সমিতি অকার্যকর করে ঘেরটি তাদের দখলে নিয়ে মাছ চাষ করতে। এ ঘেরের মধ্যে তাদের প্রায় ১০০ বিঘা জমি রয়েছে। জমির অন্যসব মালিকদের মতো সমান ভাগে লাভের টাকা ভাগ করে নেন। সাতলার ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল বাশার লিটন ক্ষমতার দাপটে ঘেরটি নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT