যুবারা বেপরোয়া ॥ কাল গেছে চাঁদ রাতের মার্কেটিং করোনায় এবার আক্রান্ত বেশি ! আতঙ্ক কম !! যুবারা বেপরোয়া ॥ কাল গেছে চাঁদ রাতের মার্কেটিং করোনায় এবার আক্রান্ত বেশি ! আতঙ্ক কম !! - ajkerparibartan.com
যুবারা বেপরোয়া ॥ কাল গেছে চাঁদ রাতের মার্কেটিং করোনায় এবার আক্রান্ত বেশি ! আতঙ্ক কম !!

3:01 pm , April 13, 2021

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে মেডিকেল আর সদর রোড, চক বাজার, কাঠপট্টি, গীর্জা মহল্লা, ফজলুল হক এভিনিউ, পদ্মাবতীর চেহারার কোন মিল নেই। মেডিকেলে করোনার কান্নার আর্তনাদ আর এসব স্থানে কেনাকাটার উৎসব, আনন্দের বন্যা। আজ থেকে কঠিন লক ডাউন শুরু তাই গতকাল নগরীর বিপনী এলাকালাগুলোতে ঈদের চাঁদ রাতের রাস দেখা গেছে। মানুষের ভীড় আর কেনাকাটার তোড়ে এসব স্থানে যানজট দেখা গেছে ঘন্টার পর ঘন্টা। যে কিছুই কেনেনি সেও এসেছিলো ভীড় দেখতে। এদিকে মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ছিলো না তিল ঠাই। এখানে প্রতি মুহূর্তে শোনা গেছে আর্তনাদ আর আর্তনাদ। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে এবার করোনায় আক্রান্ত বেশি হলেও আতংক মিলছে না। সদর রোডের একটি ব্রান্ড সপ থেকে ৫২ হাজার টাকার পোষাক কিনেছেন এমন এক গৃহবধুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত ঈদে এই করোনার কারনে কাউকে কিছু দেয়া হয়নি, এবারেও তা করলে ভালো দেখায় না। তাই রোজার চাঁদ ওঠার আগেই সেরেফেলেছেন ঈদের কেনাকাটা। গতকাল লক ডাউনের আগের দিনে বরিশালে শুধু পোষাক বিক্রি হয়েছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের। সদর রোডের একটি দোকানে কাল বেলা ১টা পর্যন্ত বিক্রি দেখা গেছে ৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। ধরা হয়ে থাকে যে বরিশালে ছোট বড় ১১শ পোষাক বিক্রির দোকান আছে, আছে বেশ কিছু শপিং মল ও মার্কেট। মানুষে যে হারে এবার আগাম কেনাকাটায় নেমেছে তাতে এরা করোনাকে কেয়ার করছেন না। ইতিমধ্যে বরিশাল বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছুই ছুই করছে। মৃতের সংখ্যা ২৩০ জন। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের মিছিল। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তথ্য মিলেছে যে বরিশালে করোনা আক্রান্তদের ৯৫ ভাগ এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে না। শেবাচিম করোনা ইউনিট ছাড়া প্রায় সব হাসপাতালের করোনা বেড শুন্য। সেবা না পাওয়ায় এমন হাসপাতাল বিমুখতা বলছেন রোগীরা। এরা বিভিন্ন ঔষধের দোকান থেকে করোনার পথ্য নিয়ে সেবন করছেন। গত বছর মার্চ মাসে বরিশালের এই জেনারেল হাসপাতালকে করোনার ডেডিকেটেট সেন্টার ঘোষনা করে এখানে চিকিৎসা দিতে ১৩ বেডের করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়। কিছুদিন ওয়ার্ড পূর্ণ ছিলো রোগীতে। এখন করোনার ভয়াবহ সময়েও এখানে রোগী আসে না। ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে অন্য রোগী। এখানে করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত ৭ জন ডাক্তারকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালে। একই অবস্থা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের। এখানেও রোগীরা থাকতে চাচ্ছেন না। রোগীদের বক্তব্য হলো করোনা চিকিৎসা পয়েন্টগুলোতে ভর্তি হবার পর থেকে শুরু করে প্রতি মূহুর্ত ডাক্তার, নার্স এমনকি বয় বেয়ারাদের লঞ্চনা, অবহেলা, অপরিচ্ছন্নতা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ জন্য করোনা নিয়ে ভর্তি হয়ে সেবা সম্পন্ন না করেই ঘরে ফিরে আসেন অনেকেই। অবস্থা এমন নাজুক হয়েছে যে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ি গত ১১ এপ্রিল বরিশাল বিভাগে ১ হজারা ৪৯৪ জন করোনা রোগীর মধ্যে হাসপাতালে আছেন মাত্র ৭১ জন। অর্থাৎ শতকারা ৯৫ জন করোনা রোগী রয়েছেন ঘরে। এদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি গত এক বছরে মাত্র ১৫% করোনা রোগী হাসপাতালে সেবা নিয়েছে। বাকি ৮৫% রয়েছে ঘরে। এসব রোগীরা ডাক্তার মুখো না হয়ে বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে ৭ ধরনের ঔষধের প্যাকেজ কিনে সেবন করেছেন। দোকানীদের মতে, রোগীদের হাসপাতালে ভক্তি নেই বলে রোগীরা উপশম হতে এখানে আসে। অবশ্য স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে যে এ ধরনের প্রক্রিয়া জনস্বাস্থের জন্য ঝুকিপূর্ণ। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে গত এক বছরে বরিশালে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৫২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ জন। সেবা নেয়নি ৮৫ ভাগ রোগী। বর্তমানেও বরিশাল বিভাগে করোনা সেবা দিতে ৫৫৪ বেড তৈরি থাকলেও রোগী না আসায় এর মধ্যে ৪৮৩টি শুন্য পড়ে আছে। বরিশাল বিভাগের ৬টি করোনা ডেডিকেটেট জেলা হাসপাতাল ও ৪৩টি উপজেলা আইসোলেশন কেন্দ্রের করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত যে ৩৯৭ জন ডাক্তার ও ৫৬৩ জন নার্সকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চালু রয়েছে ১২টি আইসিইউ । বলা হচ্ছে ৩৯টি হাই ফ্লো নেজাল কেনোলা ২৬টি ভেন্টিলেটর ১০টি অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেইটর, ১ হাজার ৬৩ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য কোথাও রোগী নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ স্বীকার করেছে যে বরিশালসহ দক্ষিনের জেলাগুলোতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৪৯ ভাগ ২১ থেকে ৪০ বছরের যুবক হলেও এদের করোনা সচেতনতার আওতায় আনা যাচ্ছে না। বাজার ঘাট, মিছিল মিটিং, মানব বন্ধন উল্লাস কিংবা সামাজিক সব অনুষ্ঠানে যুবকরা করোনাবিধি না মেনেই অংশ নিচ্ছে। পরিস্থিতি সামালে জোর উদ্যোগের দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে গত এক বছরে বরিশাল বিভাগে যে ১১ হাজার ৩২৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৫ হাজার ৫০৪ জনের বয়স ছিলো ২১ থেকে ৪০ বছর। শতকরা ২০ ভাগের বয়স ছিলো ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং শতকরা ১৫ ভাগের বয়স ছিলো ৫১ থেকে ৬০ বছর। একই সাথে গত মার্চ মাসে যে ৫৫৩ জন করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে শতকরা ৫৪ ভাগ যুবক। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বরিশাল মহানগরীর। কিন্তু কোন ভাবেই এদের আমলে বিষয়টি আনা যাচ্ছে না। এ নিয়ে চিন্তিত খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ। এবার আগাম ঈদ বাজারেও এসব যুবক যুবতীদের আগমন সবচেয়ে বেশি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT