নগরীতে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ নগরীতে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ - ajkerparibartan.com
নগরীতে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

3:38 pm , April 11, 2021

 

শিকদার মাহাবুব ॥ গরম কমছে না। কমছে না ডায়রিয়ার প্রকোপও। প্রচন্ড গরমে মানুষ যে শুধু ডায়রিয়ায় ভুগছে তা-ই নয়, করোনা মহামারির মধ্যে অবসাদগ্রস্থতায় ভুগছে, ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারছে না। জন্ডিস, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড ও ভাইরাসজনিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। গতকাল রবিবার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এরআগের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয় ৬২ জন। এ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে গত শুক্রবার। ওই দিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৬ জন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার রোগীর সংখ্যা বেশি। পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানি সরবরাহ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। প্রচন্ড গরমের কারণে অনেকেই হয়তো রাস্তার ধার থেকে বিভিন্ন রকমের শরবত, ফল কিনে খাচ্ছে। এ থেকে সংক্রমণ ঘটছে। মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আক্রান্ত রোগীরা কোনো এক বা দুটি বিশেষ জায়গা থেকে আসছে না। মূলত রোগীরা আসছে বরিশাল ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। এদের কমপক্ষে ৬০ ভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। চিকিৎসকেরা বলছেন, যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে, তাদের ৪০ ভাগ গুরুতর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। প্রতিবছরের মতো এবার চৈত্র মাসে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে জেনারেল হাসপাতালের মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয় হচ্ছে। সেখানে কথা হয় আলম ফকিরের সঙ্গে। তাঁর বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই গ্রামে। তিনি জানান, বারবার স্যালাইন ও ফার্মেসী থেকে ওষুধ সেবন করলেও কাজ হচ্ছে না বলে বাধ্য হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় তাঁর পেছনে আরও কয়েকজন পুরুষ ভর্তির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন।বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের তথ্যমতে, ৩ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৮৫ জন।এর মধ্যে ৩ এপ্রিল ৩১ জন,৪ এপ্রিল ৩০ জন, ৫ এপ্রিল ৪৪ জন,৬ এপ্রিল ৫১ জন,৭ এপ্রিল ৪৬ জন,৮ এপ্রিল ৪০ জন,৯ এপ্রিল ৬৬ জন,১০ এপ্রিল ৬২ জন ও ১১ এপ্রিল ১৫ জন মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ২৪২জন শিশু। জানা গেছে ৩ এপ্রিল ২৯ জন,৪ এপ্রিল ২৫ জন, ৫ এপ্রিল ২৬ জন,৬ এপ্রিল ২৭ জন,৭ এপ্রিল ৩৫ জন,৮ এপ্রিল ২৬ জন,৯ এপ্রিল ৩৮ জন,১০ এপ্রিল ৩৩ জন ও ১১ এপ্রিল ৩ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন শেবামেক হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সেবিকা শাহানাজ পারভীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লেও রোগীদের সেবায় কোনরকম বিঘœ ঘটছে না। এখানে যেসব শিশু রোগী রয়েছে তাদের পরিবারকে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।’ বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস বলেন,গ্রামের অধিকাংশ মানুষ পান্তা ভাত পুকুর কিংবা ডোবার পানিতে ধোয়া-পাকলা করেন । এরকমটা কোনভাবে করা যাবে না। কারন শুকনো মৌসুমে পুকুর অথবা ডোবার পানিতে জীবানুর ঘনত্ব বেড়ে যায়। প্রতিটি জেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল প্রস্তুত আছে।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT