থামছে না নথুল্লাবাদ থেকে থ্রী হুইলারের মাওয়া যাত্রা ॥ স্বাস্থ্য ঝুঁকি চরমে থামছে না নথুল্লাবাদ থেকে থ্রী হুইলারের মাওয়া যাত্রা ॥ স্বাস্থ্য ঝুঁকি চরমে - ajkerparibartan.com
থামছে না নথুল্লাবাদ থেকে থ্রী হুইলারের মাওয়া যাত্রা ॥ স্বাস্থ্য ঝুঁকি চরমে

3:32 pm , April 11, 2021

হেলাল উদ্দিন ॥ সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকদের ম্যানেজ করে বরিশাল নথুল্লাবাদ থেকে মাওয়া যাচ্ছে থ্রী হুইলার। এতে এক দিকে যেমন রয়েছে যাত্রীর জীবন ঝুকি তেমনি রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকি। পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সামনে দিয়ে এধরনের স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি একের পর এক মাহিন্দ্রা, সিএনজি, মাইক্রোবাস চলাচল করলেও কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। করোনা প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও নথুল্লাবাদ এলাকায় গেলে মনে হবে এখানে করোনার কোন চিহ্ন নেই। লকডাউনে সিটি এলাকা ছাড়া পরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে কি করে লক ডাউনের শুরু থেকে এই অবৈধ যাত্রী পরিবহন চলছে তা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। সরেজমিন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, শুরুতে বাস স্টাফ এবং পরে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কে ম্যানেজ করে নির্বিঘেœ চলাচল করছে থ্রী হুইলার চালকরা। তবে বরিশাল মেট্টোপলিটন ট্রাফিকের ডিসি বলেছেন সরকারী নির্দেশের পর এক জেলার যানবাহন অন্য জেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জানা গেছে ৫ এপ্রিল লকডাউন ঘোষনার পর পরই বাস চলাচল বন্ধের সুযোগে বরিশাল নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে মাওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল শুরু করে থ্রী হুইলার মাহিদ্রা, সিএনজি ও অটো রিক্সা। মুহুর্তের মধ্যে এই যাত্রী পরিবহন নিয়ে শুরু হয় চাঁদাবাজী ও ঘুষ বানিজ্য। নথুল্লাবাদ বাস তথা পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি প্রতি এক থেকে দেড়শ টাকা নিয়ে ট্রিপ দিতে সহায়তা শুরু করে। এরপর পথে পথে শুরু হয় চাঁদাবাজী ও ঘুষ বানিজ্য। যা চলে মাদারীপুর পর্যন্ত। সিটি এলাকার মধ্যে দুই স্থানে পুলিশ কে এবং এর পরে প্রত্যেকটি স্ট্যান্ডে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের গাড়ি প্রতি এক থেকে দেড়শ টাকা করে দিতে হয়। একাধিক চালক ও যাত্রীর সাথে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশী নির্দেশনায় সামনে বাদ দিয়ে শুধু পিছনের ছিটে যাত্রী নিয়ে চলছে থ্রী হুইলার গাড়িগুলো। সিটি এলাকায় চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও নিজ নিজ জেলার মধ্যে চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে অভ্যন্তরীন রুট ছাড়িয়ে সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে মহাসড়কে চলাচল করছে এসব থ্রী হুইলার যানবাহন। আর এই অবৈধ কাজ বৈধ করার নেপথ্যে কাজ করছে লাখ লাখ টাকা ঘুষ ও চাঁদাবাজী। আগে বরিশাল নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে মাহিদ্রা,গ্যাস চালিত সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা সর্বোচ্চ গড়িয়ারপার থেকে বানারীপাড়া-উজিরপুর পর্যন্ত চলাচল করলেও লকডাউনের সুযোগ নিয়ে তা মাওয়া পর্যন্ত চলাচল করছে। চালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলাচল করা এসব থ্রী হুইলার থেকে অর্ধ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ ও চাঁদাবাজী হচ্ছে। যার একটি অংশ যাচ্ছে বন্ধ থাকা বাস স্টাফদের পকেটে আর অপর অংশটি যাচ্ছে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা বরিশাল এয়ারপোর্ট পুলিশের পকেটে। এদিকে এ সব থ্রী হুইলার কে মহাসড়কে চলাচল করার বিষয়টি সম্পূর্ন অবৈধ জানিয়ে বরিশাল বিআরটিএ বলছে স্বল্প ও সীমিত পরিসর ক্ষমতা ইজ্ঞিন সম্পন্ন এই যানবাহনগুলো দুরপাল্লায় চলাচল করা খুবই ঝুকিপূর্ন। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। বরিশাল সার্কেলের সহকারী পরিচালক আতিকুল আলম বলেন, মহাসড়কে সব ধরনের থ্রী হুইলার সম্পূর্ন অবৈধ। এর পাশাপাশি এক সাথে বিরতি ছাড়া এক’শ থেকে দেড়শ কিলোমিটার পথ চলাচল করা এসব গাড়ির জন্য খুবই ঝুকিপূর্ন। কারণ এসব গাড়ির ইঞ্জিন সীমিত ক্ষমতা সম্পন্ন। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিলে যে কোন সময় ইঞ্জিন বিস্ফোরন হয়ে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে থ্রী হুইলারের পাশাপাশি সাদা ম্যাজিক গাড়ি ও কিছু প্রাইভেটকারও যুক্ত হয়েছে এই অবৈধ বানিজ্যে। মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্য বিধি। আর এক একটি গাড়ি যাত্রীতে ভরে গেলেই চালকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা রেখে দিচ্ছে পরিবহন শ্রমিক নেতারা। জানতে চাইলে একাধিক চালক বলেন বাস শ্রমিকরা আমাদের যাত্রী তুললে সাহায্য করছেন তাই তাদেরকে আমরা গাড়ি প্রতি এক’শ থেকে দেড়শ টাকা দেই। তারা আরো বলেন মাওয়ার একজন যাত্রীর কাছ থেকে ৫’শ ও ইচলাদী ও ভুরঘাটার যাত্রীদের কাছ থেকে ২’শ থেকে ৩’শ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাওয়ার পথে দুই যায়গায় পুলিশ কে দিতে হয় ট্রিপ প্রতি ১’শ থেকে দেড়শ টাকা। তারপরও আমাদের ভালো ইনকাম হয়। চালকরা বলেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ট্রিপ হয়। তাদের হিসাবে এসব ট্রিপ থেকে অর্ধ লাখ টাকারও বেশী উত্তোলন করা হয়। প্রত্যেক ট্রিপে মাদীপুর পর্যন্ত অন্তত ৫ থেকে ৭ টি স্ট্যান্ডে শ্রমিক নেতাদের এক থেকে দেড়শ টাকা করে দিতে হয়। এছাড়া মাঝে মধ্যে পুলিশকে ঘুষ দেওয়ার কথা বলেন তারা। বরিশাল মেট্টোপলিটন ট্রাফিকের ডিসি মোঃ জাকির হোসেন বলেন সরকার থেকে লকডাউন কার্যকর করতে দুই দফায় যে সব নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে তা পালন করতে বদ্ধ পরিকর। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। তারপরও অনেকে চুরি করে ভিন্ন ভিন্ন রুট দিয়ে চলাচল করছে বলে খবর পেয়েছি। সেসব পথও বন্ধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT