পায়রা বন্দর সহ পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার সাথে সারা দেশের সরাসরি সংযোগ স্থাপন পায়রা বন্দর সহ পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার সাথে সারা দেশের সরাসরি সংযোগ স্থাপন - ajkerparibartan.com
পায়রা বন্দর সহ পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার সাথে সারা দেশের সরাসরি সংযোগ স্থাপন

1:00 am , April 1, 2021

 

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের লেবুখালী সেতুর ‘ক্লোজিং সেগমেন্ট’ ঢালাইয়ের মাধ্যমে পায়রা বন্দর সহ পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার সাথে বরিশাল সহ সারা দেশের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হল । বুধবার সকাল ৫টা ৫৬ মিনিটে ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯.৭৬ মিটার প্রস্থ চার লেনের লেবুখালী সেতুর মূল অংশের স্লাবের শেষ ঢালাই সম্পন্ন হবার মধ্যে দিয়ে পায়রা নদীর দুই পাড়ের সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পায়রা বন্দর এবং পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র সারা দেশের সাথে ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসছে। বাংলাদেশ, চীন ও কুয়েতের যৌথ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান- ‘আইসিটি-কুনহুয়া-নারকো-ইপিসি-জেভি’র প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে চীনের ‘লংজিয়ান রোড এন্ড ব্রীজ কনস্ট্রাকশন কোম্পানী’র প্রকৌশলী ও কর্মীগন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বুধবার ভোরে সেতুটির মূল অংশের ঢালাই কাজটি সম্পন্ন করেন। এ সময় সেতু প্রকল্পটির উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক সড়ক অধিদপ্তরের প্রকৌশলী কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগনও উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সেতুটির নির্মান কাজ শেষ করছে চীনা নির্মান প্রতিষ্ঠানটি। তবে লেবুখালীতে পায়রা নদী শাসন সহ নির্মিত সেতু ও সংযোগ সড়কের যেকোন ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধনে জন্য প্রকল্প মেয়াদকাল ২০২২-এর ৩০ জুনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করবে প্রতিষ্ঠানটি। জুলাই-এর যেকোন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরে লেবুখালী সেতু সর্বসাধারনের জন্য উস্মুক্ত হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সেতু পারাপারের টোল নির্ধারন করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয় গেজেট প্রকাশ করেছে।
‘এক্সট্রা ডোজ প্রী-স্ট্রেসড বক্স গার্ডার’ ধরনের এ সেতুটি নির্মানে অর্থায়ন করছে কুয়েত উন্নয়ন তহবিল এবং ওপেক। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় কর্নফুলী সেতুর আদলে নকশায় লেবুখালীর মূল সেতুটি বক্স গার্ডার ছাড়াও স্টেÑক্যাবলের উপর স্থিতিশীল থাকছে। ২০০৫Ñ০৬ সালে পরিকল্পনা করা এ সেতুটি নির্মানে কুয়েতের সাথে প্রথম ঋন চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০১২’র ১৩ মার্চ। ঐ বছর ৮ মে সোয়া ৪শ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় সম্বলিত ডিপিপি একনেক-এ অনুমোদন লাভের পরে ইতোমধ্যে দুই বার ব্যয় সংশোধনের ফলে প্রকল্প ব্যয় প্রায় সাড়ে তিনগুন বেড়ে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। দক্ষিনাঞ্চলের প্রথম ৪ লেনের এ সেতুটির দু প্রান্তে ১ হাজার ২৬৮ মিটার সংযোগ সড়ক এবং টোল প্লাজাও নির্মিত হচ্ছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯-এর এপ্রিলে সেতুটির নির্মান কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও ‘আম্পান’ ও ‘করোনা’র মত প্রাকৃতিক দূর্যোগে তা দু বছর পিছিয়েছে।
সেতুটির মূল অংশের মূল নদীর ৬৩০ মিটার ৪টি স্প্যানের উপর নির্মিত হয়েছে। যার মূল অংশ ২শ মিটার করে দুটি স্প্যান ১৮.৩০ মিটার ভার্টিক্যল ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে পায়রা সমুদ্র বন্দরের সাথে চলাচলকারী উপকুলীয় পণ্য ও জ¦ালানীবাহী নৌযান চলাচলের জন্য। এছাড়া সেতুর মূল অংশের দুই প্রান্তে ৮৪০ মিটার ভায়াডাক্ট-এ ৩০ মিটার করে ২৮টি স্প্যানে সেতুটির বর্ধিত অংশের ভার বহন করছে। ফলে ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ লেবুখালী সেতুটির ৩২টি স্প্যান এখন দাড়িয়ে আছে ৩১টি পিয়ার-এর উপর। সেতুটির ২৮টি স্প্যানের ১২টি বরিশাল প্রান্তে এবং ১৬টি পটুয়াখালী প্রান্তে।
খর¯্রােতা পায়রা নদীর ভাঙন থেকে ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ দেশের অন্যতম বৃহত লেবুখালী সেতু রক্ষায় পটুয়াখালী প্রান্তে ১ হাজার ৪৭৫ মিটার নদী শাসন কাজও এগিয়ে চলছে। আগামী মার্চের মধ্যে নদী শাসনের এ কাজ সম্পন্ন হবার কথা থাকলেও সেতুটির ভবিষ্যত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশাল প্রান্তেও নদী শাসনের কাজ করার কথা জানিয়েছেন নদী বিশেষজ্ঞগন।
প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ফুটপাথ সহ ১৯.৭৬ মিটার প্রস্থ চার লেনের মূল সেতুটির সাথে ঢাকাÑফরিদপুরÑবরিশালÑপটুয়াখালীÑকুয়াকাটা মহাসড়কের সাথে ১ হাজার ২৬৮ মিটার সংযোগ সড়ক ছাড়াও টোল প্লাজা ও বরিশালে একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হচ্ছে। সেতুটির বরিশাল প্রান্তে ৬১০ মিটার ও পটুয়াখালী প্রান্তে ৬৫৮ মিটার সংযোগ সড়কের নির্মান কাজও শেষ পর্যায়ে। মূল সেতু ও তার ভায়াডাক্টের জন্য টেষ্ট পাইল, ওয়ার্কিং পাইল, পীয়ার ক্যাপ, পীয়ার এবং ভায়াডাক্ট সহ মূল সেতুর ফাউন্ডেশন ছাড়াও সাব-স্ট্রাকচার-এর নির্মান কাজ ইতোপূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্টের সুপার স্ট্রাকচার শতভাগ শেষ করে বুধবার প্রত্যুষে মূল সেতুর সুপার স্ট্রাকচারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্টের ওয়ার্কিং পাইল সহ পাইল ক্যাপ, এ্যাবাটমেন্ট ওয়ালও ইতোপূর্বে সম্পন্ন হয়।
ইতোপূর্বে মূল সেতুটির বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেষ্ট পাইল সহ দশটি পীয়ার, পাইল ও পীয়ার ক্যাপ-এর নির্মানও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ১৬৭ টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট-এর নির্মান কাজও ইতোপূর্বে সম্পন্ন হয়েছে। নগরী থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিনে লেবুখালী সেতুটি পায়রা সমুদ্র বন্দরকে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর ছাড়াও দেশের সবগুলো স্থল বন্দর সহ সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। এ সেতুর ওপর দিয়েই ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কুয়াকাটায় পৌছতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭ ঘন্টা। এমনকি উত্তরবঙ্গের সাথেও সাগর পাড়ের কুয়াকাটার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করবে লেবুখালী সেতু।
দেশের বিশিষ্ট অর্থনতিবীদদে মতে, লেবুখালী সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মত সারা দেশের আর্থÑসামাজিক ব্যবস্থা উন্নয়নেও এক অনন্য মাইলফলক হয়ে উঠবে অদ্রু ভবিষতেই।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT