চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হোসেন কালু চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হোসেন কালু - ajkerparibartan.com
চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হোসেন কালু

3:03 pm , March 30, 2021

শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের শোক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ভাষা সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হোসেন কালুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর বগুড়া রোডের চৈতন্য মোহন বিদ্যালয় মাঠে তার প্রথমনামাজে জানাজা হয়। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠীর রাজাপুরের গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ জোহর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) মো. নাজমুল হুদা। মরহুমের প্রথম জানাজা নামাজে অংশ নিয়েছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, প্যানেল মেয়র গাজী নাঈমুল হোসেন লিটু, এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. নাজমুল হুদা, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক ও এমজি কবির ভুলু, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ, নুরুল আলম ফরিদ, নজরুল ইসলাম চুন্নু, মাহমুদ হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ দুলাল, জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বহু মানুষ। প্রথম জানাজার পূর্বে চৈতন্য স্কুল মাঠে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হোসেন কালুকে পুলিশের একটি চৌকষ দল গার্ড অব অনার এবং রাষ্ট্রিয় সালাম প্রদান করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রশান্ত কুমার দাস, আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সভাপতি এ্যাড. মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু, সাবেক সভাপতি এ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যাল, সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ, নুরুল আলম ফরিদ, নজরুল ইসলাম চুন্নু, মাহমুদ হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ দুলাল, জাকির হোসেন, দেবাশীষ চক্রবর্তী, সাগর বৈদ্য প্রমূখ। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় বার্ধক্যজনিত কারণে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হোসেন কালু (৯১) ইন্তেকাল করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হোসেন কালুর ছেলে মোঃ সোহাগ।
ইউসুফ কালু ছিলেন জীবন্ত ইতিহাস। মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত ভাষা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তার জন্ম ১৯৩১ সালের ১৭ জানুয়ারী বর্তমান ঝালকাঠী জেলার রাজাপুরের কানুদাসকাঠী মিয়াবাড়িতে। বাবা ওবায়দুল করিম (রাজা মিয়া) ও মা ফাতেমা খাতুন। ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবা রাজা মিয়া প্রথমে ১৯২০ সালের দিকে কোলকাতা পোর্ট কমিশনে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে রাজা রায় বিহারীর জমিদারীর নায়েব নিযুক্ত হন। আমুয়া, ভান্ডারিয়া, কানুদাসকাঠী অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
ইউসুফ হোসেন কালুর হাতেখড়ি পাঠশালায়। সংগঠন শুরু শিশু কিশোরদের মুকুলফৌজ দিয়ে। তিনি বরিশাল ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের (বিএম স্কুল) ছাত্র ছিলেন। ১৯৪৮ সালে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালীন সময়ে ভাষা আন্দোলনের কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। প্রগ্রেসিভ ছাত্রফ্রন্টে নিজের নাম লেখান। তিনি মিছিলের অগ্রভাগে থাকতেন। মেট্রিকুলেশন পাস করে ১৯৫১ সালে আইএ ভর্তি হন বিএম কলেজে কমার্স বিভাগে। এই সময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িত ছিলেন। তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ও বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়াকে আহ্বায়ক করে বিএম কলেজে গঠন হয় ২৫ সদস্যের ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ। সেই কমিটির সদস্য হন ইউসুফ হোসেন কালু। আন্দোলনের গতি বাড়লে সেই কমিটির কলেবর বৃদ্ধি করে ৮১ সদস্য বিশিষ্ট বৃহত্তর বরিশাল ভাষা সংগ্রাম পরিষদ করা হয়।
১৯৫৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বরিশালে প্রচারণায় আসেন তৎকালীন পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী খান আব্দুল কাইউম। কাইউমকে ঠেকাতে কালো পতাকা মিছিলসহ আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেন কালু। ওই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংর্ঘর্ষে কাউনিয়ার বাসিন্দা মালেক নামে একজন নিহত হন। এ ইউসুফ কালুসহ ৩৫ জন গ্রেফতার হন। ২২ দিন পর জামিন পেয়ে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের হয়ে কাজ শুরু করেন।
৬৯’র গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি আন্দোলনেই দেশ ও মানুষের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধও করেন তিনি। ৭১ সালের ১৪ মে কলকাতা লালবাজারে বাংলাদেশ সহায়ক সমিতির সহযোগিতায় হাসনাবাদ, হিংগলগড়, টাকি হেড কোয়ার্রের প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে ৯নং সেক্টরের অধীনে কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন নুরুল আলম ফরিদ সম্পাদিত রনাঙ্গনের মুখপত্র ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ পত্রিকার পরিচালকদের একজন ছিলেন। ৭১ সালে তার বাড়ি লুট হয়। তখন দলিলপত্র, ব্যক্তিগত কাগজপত্র সবকিছুই খোয়া যায়। শিক্ষা জীবনের প্রথমে ছাত্র ইউনিয়ন করেছেন তিনি। ৫২ সালে যোগ দেন ছাত্রলীগে। পরে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী ও প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন সক্রিয়ভাবে। ১৯৬২ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন। প্রথমে আজাদ ও পরে দৈনিক পয়গামের বরিশাল সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত। ওই একই সময়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল খেলায় পারদর্শী তিনি বরিশাল ক্রীড়া সংস্থারও সদস্য ছিলেন। ইউসুফ কালুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মু ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু সাধারন সম্পাদক কাজী মিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক এ্যাড. বলরাম পোদ্দার সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT