রমজানকে পুজিঁ করে নিত্যপণ্যের মূল্যে আগুন ঃ নেই বাজার মনিটরিং রমজানকে পুজিঁ করে নিত্যপণ্যের মূল্যে আগুন ঃ নেই বাজার মনিটরিং - ajkerparibartan.com
রমজানকে পুজিঁ করে নিত্যপণ্যের মূল্যে আগুন ঃ নেই বাজার মনিটরিং

2:56 pm , March 24, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রমজানকে কেন্দ্র করে নিয়মিত বাজার মনিটরিং না হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে মুরগি, মাংস, সবজি, চিনিসহ অধিকাংশ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে নগরীর নিম্নআয়ের মানুষ। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
বাজার রোডের মুরগি ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে বাজারে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। তাই কেজি প্রতি বিভিন্ন জাতের মুরগির দাম বেড়েছে ২০-৪০ টাকা। ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ পূর্বে ছিলো ১৩৫ টাকা। তেমনি সোনালী মুরগি ২৮০ থেকে ৩২০ ও লেয়ার ২০০ থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম আরো বাড়তে পারে আশংকা করেছেন তিনি। এছাড়াও অধিকাংশ বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। সপ্তাহখানেক পূর্বে ডিমের হালি ছিলো ২৮ টাকা। বর্তমানে ডিম হালি প্রতি ২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকায়। গরুর মাংস বাজার ভেদে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে। ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক কেজি খাসির মাংস। নগরীর আকন ভিলা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ সাকিব জানান, সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির মূল্য কেজি প্রতি বেড়েছে ২-১০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহের চেয়ে কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে পটল ৬০ ও ঢেরশ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুইশাক ২৫, চিচিঙ্গা ৪০, করলা ৫০, কাঁচামরিচ ৪০, ফুলকপি ৩০, গাজর ২৫, শালগম ১০, বেগুন ৫০, বরবটি ৬০, ধনেপাতা ১০০, মটরশুঁটি ৬০ টাকা, শিম ৫০, মিস্টি আলু ৪০, গোলআলু ১৬-১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও কেজি প্রতি ২-৪ টাকা বেড়ে পেঁপে ২৫, শসা ৩৫, মিষ্টি কুমাড়া ২০, টমেটো ১০ ও বাঁধাকপি ১৫ টাকা হয়েছে। প্রতিহালি প্রতি ৫ টাকা বেড়ে কাঁচাকলা ৩০ ও লেবু ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
ক্রেতা মোসলেম উদ্দিন জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিন দিন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় কম দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
মুদি ব্যবসায়ী মো. জুয়েল জানান, চিনির দাম কেজিপ্রতি ৬৬ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি ও বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকায়। প্যাকেট আটা ৩২, বেসন ৮০-১২০, মুড়ি ১২০ ও চিড়া ৬০-৬৫ টাকা, পিঁয়াজ ৪০, আদা ৭৫, মসুর ডাল ৭০ থেকে ৭৫, রসুন ১১৫-১২০ টাকায় অবস্থান করছে।
এছাড়াও ইফতার সামগ্রী ছোলা ৭০-৭৫ ও মানভেদে খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে। তবে চালের বাজারে তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। মিনিকেট চাল ৬৪, বিআর-২৮ চাল ৫৪ টাকা, পাইজাম ৪৮ টাকা ও নাজিরশাইল ৭০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতলা, বোয়াল, তেলাপিয়া, চাষের কই, শিং, মাগুর বাদে অধিকাংশ মাছ কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১শ টাকা বেড়েছে।
বরিশাল জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মানওয়ারুল ইসলাম অলি জানান, প্রতিবছরই রমজানের আগমুহূর্তে কিছু ব্যবসায়ী বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। তারই ধারাবাহিকতায় এবছরও সবকিছুর দাম বেড়েছে। বরিশালে বাজার মনিটরিং বলতে কিছু নেই। থাকলে বাজারের পরিস্থিতি এমন হতো না। তাই অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য তদারকি কার্যক্রম বাড়ানো দরকার বলে জানান তিনি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বরিশালের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ্ শোয়াইব মিয়া জানান, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কয়েকদিনের মধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরিশাল জেলা জুড়ে প্রত্যেকদিন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT