বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম - ajkerparibartan.com
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম

2:51 pm , March 16, 2021

 

মোঃ পলাশ হাওলাদার, বাকেরগঞ্জ ॥ বাটেকরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে উল্টো হয়রানি ও জটিলতার ফাঁদ সৃষ্টি করে ব্যবসা সম্প্রসারণ কেন্দ্রে পরিনত করার অভিযোগ উঠছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপজেলার ১৪ টা ইউনিয়ন ও একটা পৌরসভার বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা স্থল উপজেলা পরিষদ সন্নিকটে গড়ে ওঠা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে এখানে এসে নানান ফন্দি করেন। কিভাবে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা যায়। কুট-কৌশল অবলম্বন করে চলছে তাদের মিশন বাস্তবায়ন। সরকারি বিধি অনুসারে সকাল ৮ টায় মেডিকেল চেম্বারে উপস্থিত হবার নিয়ম থাকলেও ১০ টার আগে কোনো চিকিৎসককে মেডিকেল চেম্বারে উপস্থিত হতে দেখা যায় না, অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি প্রায়ই হচ্ছেন নানা হয়রানির শিকার। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শতশত রোগীর দীর্ঘ লাইন। ভিতরে কর্তব্যরত ডাঃ ফজলে রাব্বি চেম্বার বন্ধ করে ১০/১৫ জন বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে দেন দরবারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিষয় টি নজরে এলে একজন অসুস্থ রোগীর টিকেট নিয়ে সংবাদকর্মী পরিচয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য অনুরোধ করলে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পরে আসতে বলেন। তখন উপস্থিত ঔষধ কোম্পানি আগে না রোগী আগে দেখা, কোনটা বেশি জরুরী, বিষয় টি জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে তেড়ে আসেন। এবং ওখান থেকে বের হয়ে যেতে বলে, একই সাথে সাংবাদিক করিনা বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায় উপস্থিত লোক জনের অনুরোধে বের হয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোনায়েম সাদকে বিষয় টি জানালে তিনি ডাঃ ফজলে রাব্বির হয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মিটিয়ে ফেলতে জোর প্রচেষ্টা চালান। পরবর্তীতে অধিকতর তথ্য সংগ্রহের তাগিদে ঘটনা স্থল থেকে বেরিয়ে ভুক্তভোগী রুগীদের সাথে কথা বললে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। যে কোনো রোগী চিকিৎসকের কাছে এলেই কারণে অকারণে তাঁকে পাঠানো হচ্ছে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সেবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। সকাল ১১ টায় দেখা রুগীরা পরীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে অনেকেই ঐ দিন আর রিপোর্ট দেখাতে পারে না। অসুস্থ রুগীকে যেতে হয় তাদের নির্ধারিত ক্লিনিকের চেম্বারে আর গুনতে হচ্ছে বড় অংকের ভিজিট। এসব বিষয় পরিচালনা করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক ও দালাল চক্র। এদের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ নানা হয়রানির শিকার হয়ে ও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করে না। এছাড়াও সরকারি ঔষধ চুরির কারণে ঠিক মত ঔষধ পাচ্ছেন না রোগীরা। অভিযোগ সূত্রে সরোজমিনে গিয়ে আরো দেখা যায়, খলিলুর রহমান (৩৫) নামে এক রুগী বহিঃ বিভাগ থেকে টিকিট সংগ্রহ করে ২নং রুম ডাক্তার দেখালে তিনি রুগীকে ফিক্সোকার্ড (৫০ মিলিগ্রাম) ইসোনিক্স (২০মিলিগ্রাম) ঔষধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন। রুগী খলিলুর রহমান ঔষধ বিতরণ কাউন্টারে গিয়ে টোকেন ও ব্যবস্থাপত্র দিলে কর্মরত ফার্মাসিস্ট মোস্তাফিজুর রহমান ইসোনিক্স২ ০ মিলিগ্রাম না দিয়ে ফিক্সোকার্ড ৫০ মিলিগ্রাম দিয়ে দেয়। রুগী খলিলুর রহমান ইসোনিক্স (২০ মিলিগ্রাম) ঔষধ চাইলে মোস্তাফিজ বলে সাপ্লাই নাই । এ বিষয় স্টোর কিপার মামুন বলেন ইসোনিক্স (২০ মিলিগ্রাম) স্টোর রুম থেকে দেয়া হয়েছে, না থাকার তো কারণ দেখিনা। বিষয় টি পুনরায় অভিযুক্ত ফার্মাসিস্ট মোস্তাফিজুর রহমানকে ট্রাই করলে বলেন, ইসোনিক্স (২০ মিলিগ্রাম) সাপ্লাই ছিল না তাই দিতে পারিনি। অথচ রুগী আসার ১ ঘন্টা পূর্বে (১১টা ৩০ মিনিটের সময়) ঔষধ স্টোর থেকে আনা হয়েছে। যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। এ বিষয় ভুক্তভোগী রুগী খলিলুর রহমান বলেন আমি ১২টা ৩০ মিনিটের সময় ঔষধ বিতরণ কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করি। কিন্তু ইসোনিক্স (২০ মিলিগ্রাম) না দেয়ায় তাকে প্রশ্ন করলে তিনি সাপ্লাই নাই বললে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা.মোনায়েম স্যারের কাছে অভিযোগ করি, তিনি ফার্মাসিস্ট মোস্তাফিজ ও অফিস সহায়ক তারিকুলকে ডেকে কাগজের টোকেনে যে ঔষধ লেখা থাকবে সেটাই দিতে হবে বলে জানিয়ে দেন এবং আগামীতে এ রকম অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দেন। তথ্য সূত্রে জানা যায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপত্রের সাথে টোকেনের ঔষধ না দিয়ে রেজিস্টার খাতা পূরণ করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয় স্টোর কিপার মামুনের ও রয়েছে রহস্য জনক ভূমিকা। টাকা ছাড়া মিলছেনা সরকারি এম্বুলেন্স সেবা, রুগীদের সাথে করা হচ্ছে চরম অমানবিক আচরণ। চিকিৎসা রসিদ সরকার নির্ধারিত ফি ৩ টাকার স্থলে রাখা হচ্ছে ৫ টাকা কিংবা ভাংতি নেই অযুহাত দেখিয়ে ১০ টাকা এক কথায় এমনি শতশত অভিযোগে অভিযুক্ত বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ কমপ্লেক্স। এসব বিষয়ে কোনো অনিয়ম দুনীতির তথ্য জানতে চাইলে সংবাদকর্মীদের প্রায়ই অপমান অপদস্ত করার অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ বিষয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল অচিরেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT