প্রাকৃতিক দূর্যোগে দক্ষিণাঞ্চলে আমন উৎপাদন ঘাটতি দেড় লক্ষাধিক টন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দক্ষিণাঞ্চলে আমন উৎপাদন ঘাটতি দেড় লক্ষাধিক টন - ajkerparibartan.com
প্রাকৃতিক দূর্যোগে দক্ষিণাঞ্চলে আমন উৎপাদন ঘাটতি দেড় লক্ষাধিক টন

3:07 pm , March 6, 2021

 

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ভাদ্রের প্রবল বর্ষনের সাথে ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ার এবং উজানের ঢলের পানিতে গোটা দক্ষিণাঞ্চল সয়লাব হয়ে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের উৎপাদন বিপর্যয়ে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড় লক্ষাধীক টন চালের উৎপাদন ঘাটতিতে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। কম অবস্থাপন্ন কৃষক ও গৃহস্থ পরিবারে ইতোমধ্যে অভাব কড়া নাড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধান এখনো প্রধান খাদ্য ফসল। কিন্তু প্রায় সম্পূর্ণ প্রকৃতি নির্ভর এ ফসলের যেকোন ক্ষতি খাদ্য উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিÑঅর্থনীতি সহ আর্থÑসামাজিক ব্যবস্থায় যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব ফেলে থাকে। সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় বোনা আমন সহ ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯২২ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর বেশী ৭ লাখ ১৯ হ্জাার ২০৪ হেক্টরে আমন ধানের আবাদ হয়। প্রকৃতি অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭ টন চাল উৎপাদনের কথা থাকলেও ভাদ্রের অমাবশ্যা দক্ষিণাঞ্চলে কৃষকের সব স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের (ডিএই) বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বশীল মহল প্রথম দিকে আগষ্টের ভয়াবহ বর্ষন ও প্লাবনে কৃষি সেক্টরে ক্ষতির সম্ভাবনাকে প্রথমে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু সপ্তাহ খানেকেরও বেশী সময় পরে যখন আমনের জমি প্লাবনমূক্ত হতে শুরু করে, তখনই পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুভব করেন কৃষিবীদগন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, প্লাবনমূক্ত হবার পরে ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে আর আমনের বীজতলা তৈরী সহ রোপন সম্ভব হয়নি।
ফলে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসলের উৎপাদন বিপর্যয় চরম আকার ধারন করে। ১৯ লাখ ৯৪ হাজার টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মৌসুমের শেষে প্রকৃত উৎপাদন দাড়ায় ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭০ টনে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ টন কম। অথচ সদ্য সমাপ্ত খরিপ মৌসুমে সারা দেশে আমন উৎপাদন ছিল গত বছরের চেয়ে ১ লাখ টনেরও বেশী। ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, বিগত খরিপ-২ মৌসুমে সারা দেশে লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর অতিরিক্ত ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৮ হাজার টন আমন চাল উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৩ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের মাধ্যমে প্রায় ৩৭ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।
তবে আমনে উৎপাদন ঘাটতি হলেও আউশ আবাদে দক্ষিণাঞ্চল যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবী করেছেন ডিএই’র দায়িত্বশীল মহল। বিগত খরিপ-১ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৫ টন চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৫০ হাজার টন অতিরিক্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৫ টন চাল উৎপাদন হয়েছে বলে ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। এমনকি আম্পান’র ভরা ছোবলের মধ্যেই আউশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত হলেও এ প্রকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে আরো ৫০ হাজার টন চাল অতিরিক্ত পাবার সম্ভবনা ছিল বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগন। তবে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের এ বিপর্যয়ের ফলে দক্ষিনাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা কিছুটা ব্যহত হবার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার টন খাদ্য উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলে এবার পরিমানটা ৬লাখ ৭০ হাজার টনে নামিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন কৃষিবীদগন। ডিএই’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার প্রায় ৯৯ লাাখ ৬৮ হাজার ২৭১ জন মানুষের জন্য দৈনিক গড়ে ৪৪২ গ্রাম হিসেবে বছরে খাদ্য চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ ৮ হাজার ১৮১ টন। এছাড়াও বীজ বাবদ বছরে আরো ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৬ টন খাদ্য শষ্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু বিগত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দক্ষিণাঞ্চলে গম এবং আমন, আউশ ও বোরো সহ মোট দানাদার খাদ্যশষ্য উৎপাদনের পরিমান ছিল ২৭ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৫ টন। ফলে নীট উদ্বৃত্তের পরিমান ছিল ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টন। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে আমনের উৎপাদন বিপর্যয় যথেষ্ঠ নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।তবে এসব বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সরকার বোরো আবাদে বিশষ নজর দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএই’র দায়িত্বশীল মহল। চলতি রবি মৌশুমে দেশে ৪৭.৮৪ লাখ হেক্টরে আবাদের মাধ্যমে ২ কোটি ৫ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ নির্ধারন করছে কৃষি মন্ত্রনালয়। ইতোমধ্যে লক্ষমাত্রার প্রায় শতভাগ আবাদ অর্জিত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় বোরো আবাদ পরিস্থিতিও যথেষ্ঠ আশাব্যঞ্জক। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের ৬ জেলায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৫ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১২০% অর্জিত হয়েছে। বাস্তবে যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৬ হেক্টর। ফলে রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে ৬ লাখ ৩ হাজার টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অন্তত ১ লাখ টন অতিক্রমের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগন। তবে এর অনেকটাই নির্ভর করবে আবহাওয়া অনুকল থাকা সহ সার ও নির্বিঘœ সেচ ব্যবস্থার ওপর।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT