বেকার শেবাচিম হাসপাতালের ৩০ স্টাফ বেকার শেবাচিম হাসপাতালের ৩০ স্টাফ - ajkerparibartan.com
বেকার শেবাচিম হাসপাতালের ৩০ স্টাফ

3:06 pm , March 2, 2021

 

হেলাল উদ্দিন ॥ গত বছরের মার্চে সারা দেশে শুরু হয় করোনার প্রকোপ। শুরুতেই মহামারীতে রুপ নেওয়া এই রোগের ছিলো না কোন ঔষধ বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা। তবুও এই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার দায়িত্ব বর্তায় দেশের চিকিৎসক ও নার্সদের উপর। কিন্তু এমন ঘটনাও ঘটেছে আক্রান্তগ্রস্থ হয়ে অনেক চিকিৎমক নার্স এ কাজে অপারগতা প্রকাশ করে চাকুরী ছেড়েছেন। কিন্তু নি¤œ সারির অনেক স্বাস্থ্য কর্মী বা স্টাফ ইচ্ছার বাইরে হলেও নিরবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সার্বিক সেবা করেছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় দেশে কোভিড ১৯ মহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য এদের কে সাপোটিং স্টাফ হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এরকমই ৩০ জন সাপোর্টিং স্টাফ দায়িত্ব পালন করেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যদিও তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো চুক্তি ভিত্তিক ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সে সময় শেষ হয়েছে তাই যথারীতি তাদেরকে চাকুরী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। অন্তর জুড়ে অনেক চাওয়া পাওয়া দাবীর বাক্য উচ্চারিত হলেও তা রয়ে গেছে বোবা কান্নার মত। কারন তারা তো চুক্তিতেই এ চাকুরীতে এসেছিলেন। কর্তৃপক্ষও সময় শেষে তাদের বিদায় দিয়ে দায়মুক্ত হয়েছেন। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় তাদের যে অবদান তা থেকে কি এতটুকুতেই দায়মুক্ত হবার? হাসপাতাল প্রশাসন জানান এতে তাদের কিছু করনীয় নেই। এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিষয়। তাদের কে একটি প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিলো। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ তাই চাকুরীও শেষ।
তথ্য মতে গত মার্চ মাসে করোনা শুরুতে পিইএফ প্রকল্পের আওতায় ও বিশ^ ব্যাংকের সহায়তায় সারা দেশে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসে ৪০৬ জন কে সাপোর্টি স্টাফ নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের মধ্য থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে দেওয়া হয় ৩০ জনকে। যারা করোনা রোগীর সেবা সংশ্লিষ্ট কাজ ছাড়া হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে রোষ্টার ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে তাদের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই যথারীতি বেকার হয়ে পড়েছে এই ৩০ জন কর্মী। ইত মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তাদের চাকুরী স্থগিত করে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডাঃ ফরিদ হোসাইন মিয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে পরবর্তী নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত সাপোটিং স্টাফদের চাকুরী স্থগিত করা হলো।
শেবাচিম হাসপাতালের একাধিক সাপোটিং স্টাফ বলেন এটা সত্য যে আমরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জেনে শুনেই চাকুরীতে এসেছি। কিন্তু শুধু টাকার জন্যই নয় আমাদের মানবিকতাও কাজ করেছে। যখন করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য মানুষের আকাল পড়েছিলো তখনই আমরা এসব রোগীদের সেবা ও সরকারকে সহায়তা করার জন্য এ কাজে আতœ নিয়োগ করি। নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়েছে,আমাদের চাকুরীও শেষ হয়েছে। মনে অনেক দাবী থাকলেও বাস্তবে আমরা কিছু দাবী করার অধিকার রাখি না। তারা বলেন করোনা পরবর্তী সময়ে অনেক ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের প্রনোদনা পুরস্কার পেয়েছে। অনেক ছাত্র যারা সেচ্ছা শ্রমে টেকনেলোজিষ্ট হিসাবে কাজ করেছে সরকার তাদেরকে স্থায়ী চাকুরী দিয়ে দিয়েছে। সেরকম কোন পুরস্কার দিয়ে যদি আমাদের একটু কাজ বা চাকুরী করার সুযোগ করে দিত তাহলে চির কৃতজ্ঞ থাকতাম।
শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে তাদের কে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিলো। যাদের চাকুরীর মেয়াদ ও বেতন নির্দিষ্ট করা ছিলো। সুতরাং এখানে আমাদের কিছু করার নেই। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই হয়ত তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT