আমাদের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার্থে আরো উদ্যোগী হতে হবে আমাদের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার্থে আরো উদ্যোগী হতে হবে - ajkerparibartan.com
আমাদের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার্থে আরো উদ্যোগী হতে হবে

1:16 pm , January 1, 2021

কাজী ফিরোজ ॥ আমাদের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ‘২০১২ আছে। মাঝেমধ্যে বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনায় তদন্ত দেখা যায়। বন্যপ্রাণী,দেশি,পরিযায়ী পাখি হত্যায় জরিমানা,ছোটখাটো শাস্তির কথাও সামাজিক মাধ্যম,পত্রিকায় আসে। আবার কখনও চোরা শিকারীর ফেলে যাওয়া হরিনের মাথা, চামড়া, গোশত উদ্ধার হওয়ার কথাও শোনা যায়। চোর পালিয়ে যায়,কদাচিৎ ধরা পরে। আবার লাখ টাকার হাতি গুলি করে মারার ঘটনা ঘটে অন্য দিকে কালেভদ্রে কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক উদ্ধার হয়।মাথায় বিষ্ঠা ত্যাগের দোষে দুষ্ট! পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল শতাধিক গাছের ডালপালা ছেঁটে দেওয়া হয়।আবার অসুস্থ পাখিকে সুস্থ করে আকাশে উড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়! এসকল ঘটনাগুলি কিছুটা আইনগত, কিছুটা মানুষের প্রবৃত্তিগত। কিন্তু মানুষের উদাসীনতা এবং অংশত অবহেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের উপজেলা সংযোগ সড়কে যানবাহনের ও রেললাইনে ট্রেনের নীচে পিষ্ট হয়ে যখন প্রতিদিন অন্তত ২/৩ টি অবুঝ বন্য প্রানী মারা যাচ্ছে তখন পরিবেশ এবং প্রানী প্রেমিকদের মনোকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষনের জন্য দেশের চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের ১২৫০ হেক্টরের ‘লাউয়াছড়া’কে জাতীয় উদ্যাণ ঘোষণা করা হয় ১৯৯৬ খৃস্টাব্দে। বিরল বৃক্ষ, উদ্ভিদ এবং বিপন্ন প্রানীর আবাস এখানে। বিশ্বব্যাপী মহাবিপন্ন চীনাবনরুই এখানে ভালভাবেই বেঁচে আছে। কিন্তু এই বনের মধ্যে দিয়েই ৬.৫ কি:মি:সংযোগ সড়ক এবং প্রায় ৮ কি:মি: রেলপথ আছে। প্রতিদিন এই পথে চার, পাঁচশত গাড়ী চলাচলে পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে বন্যপ্রাণী। বিশেষত রাতের বেলায় প্রাণীকূলের চলাচল বেশী হওয়ায় এবং হেড লাইটের আলোয় বিভ্রান্ত হয়ে বেঘোরে প্রান হারায়। বর্ষাকালে সরিসৃপ এবং উভচর প্রানীদের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।এর বাইরে বনের মধ্যে দিয়ে টানা বিদ্যুৎ লাইনের কারনে বাদুড়,বানর মারা যাচ্ছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এই প্রাণীকূলের মৃত্যুর মিছিল ঠেকানোর উদ্যোগ নামসর্বস্ব আশ্বাসে সীমাবদ্ধ। বনকে পাশ কাটিয়ে রাস্তা, রেল লাইন করা গেলে অপঘাতে মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো সম্ভব তবে সেটা সময় এবং ব্যয়সাধ্য। আপাতত জনপ্রতিনিধি, প্রকৃতি প্রেমিক জনগন এগিয়ে আসলে সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান খুব কঠিন কিছু নয়। পৃথিবীর অনেক দেশে বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশ বান্ধব বিশেষ প্রকৌশল পদ্ধতি গ্রহন করে পারাপারের ঝুঁকি কমিয়ে প্রানীকূলের জীবনরক্ষায় সুফল পাওয়া গেছে। এগুলি দৃষ্টিনন্দন এবং আকর্ষণীয়। সিংগাপুরের ‘ইকোব্রীজ’ এর কথা প্রথমেই উল্লেখ করা যায়। এই ব্রীজের উপর দিয়ে প্রানীকূল নির্বিঘেœ বনের একদিক থেকে অন্যদিকে নিরাপদে যেতে পারে। আমেরিকা, নেদারল্যান্ড, কানাডা, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম জাপান প্রভৃতি দেশ পরিবেশবান্ধব ‘এনিমেল ব্রীজ’ ওভারপাস, আন্ডারপাস, ফানেল পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে বন্য প্রানীর জীবনরক্ষা করছে। আমরাও পারি এই পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীদের অপমৃত্যু রোধ,জীবন রক্ষা করে প্রকৃতির ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে। আমাদের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন নাই। শুধু দরকার পরিবেশ ও প্রানীদের প্রতি দরদ মাখানো ভালবাসা এবং আন্তরিক উদ্যোগ। যত দ্রুত করা যায় সবার জন্য ততই মঙ্গল।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT