বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন - ajkerparibartan.com
বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

1:09 pm , December 21, 2020

মোটর সাইকেলের চাবি দিয়ে চোখ উৎপাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে সন্ত্রাসী হামলায় দৃষ্টি শক্তি হারানো ভাইয়ের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বোন। সোমবার সকাল ১১ টায় আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বোন মোসা: মুক্তা আক্তার। তারা ৫ নং ওয়ার্ড মোহাম্মাদপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত সেকান্দার আলী খান এর সন্তান। লিখিত বক্তব্যে মুক্তা আক্তার জানান, গত ৪ ডিসেম্বর নগরীর হাটখোলা কসাই খানা এলাকার বিশ্বাসের হোটেলের সামনে তার (মুক্তা) ভাই মো. সোহাগ পূর্ব শত্রুতার জেরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা মোটর সাইকেলের চাবি দিয়ে সোহাগের দুটি চোখ নষ্ট করে দেয়। হাটখোলা হকার্স মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মোবারক সিকদার এর তি ছেলে এই হামলা চালায়। মুক্তা বলেন, মোবারক সিকদার ও তার সন্তানদের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। হাটখোলা হকার্স মার্কেটের পাশে চর বদনা মৌজায় ভূমিহীন হিসেবে তাদের প্রাপ্ত ৩ শতাংশ খাস জমি নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়। যা তারা ৩০ বছর থেকে ভোগ দখল করে আসছিলেন। ৭ বছর পূর্বে ওই জমি নিজেদের দাবি করে মোবারক সিকদার যা নিয়ে দ্বন্দ তৈরি হয়। আদালতে মামলা হয় এবং মোবারক সিকদার রায় পান। জালিয়াতির মাধমে এই রায় তিনি নিজের পক্ষে এনন বলে অভিযোগ করেন মুক্তা। এর পরেও আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারা জমি ছেরে দেন। কিন্তু তার পরেও মোবারক এবং সন্তানেরা পিছু ছাড়েনি। ঘটনার পরিক্রমায় ৭ বছর পরে ৪ ডিসেম্বর সকালে ভাই সোহাগের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় মোবারক এর তিন ছেলে। বড় ভাই নাজমুল এর নির্দেশে অপর তিন ভাই আল আমিন, সাইফুল এবং রাব্বি কসাইখানা এলাকায় বসে এই হামলা চালায়। এসময় আল আমিন তার মোটর সাইকেলের চাবি দিয়ে ভাই সোহাগের দুটি চোখ নষ্ট করে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছলে স্থানিয়দের চাপে পুলিশ আল আমিন ও সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে। সোহাগকে উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, হামলার কারনে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছে সোহাগ। এর পরে এই ঘটনায় বিচারের দাবিতে কসাইখানা এলাকায় মানবন্ধন করে সাধারন এলাকাবাসী। মোবাবর সিকদার ও চার সন্তানের বিরুদ্ধে ঘটনার দিন রাতেই মামলা দায়ের করা হয়। মামল দায়েরের পর এত সময় অতিবাহিত হলেও অপর দুই আসামী নাজমুল ও রাব্বিকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে ঘটনায় আটক অপর দুই ভাই ও জামিনে বের হয়ে এসেছে এবং পূনরায় হামলা সহ প্রান নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে তারা এমন বেপরোয়া কর্মকান্ড করে যাচ্ছে বলে জানান বোন মুক্তা। থানা পুলিশকেও তারা প্রভাবিত করবে বলেও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে এমন নির্মম ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হামলার শিকার যুবক সোহাগ খান বলেন, আমার স্ত্রী অন্তসত্ত্বা। আর কয়েকদিন পর আমি প্রথম সন্তানের বাবা হতে যাচ্ছি। কিন্তু সন্তানের মুখ দেখার সু-ভাগ্যের আগেই সন্ত্রাসীরা আমার চোখের আলো কেড়ে নিয়েছে। যারা আমার দৃষ্টি শক্তিকেড়ে নিয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানাই। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সোহাগ খান এর মা মাসুদা বেগম, অন্তসত্ত্বা স্ত্রী ইয়াসমীন, শ্বশুর বাবুল খান, বড় ভাই ও মামলার বাদী মোঃ মাসুম খান।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT