হিজলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশের মামলায় আসামী ৫শ হিজলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশের মামলায় আসামী ৫শ - ajkerparibartan.com
হিজলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশের মামলায় আসামী ৫শ

2:50 pm , December 17, 2020

 

হিজলা প্রতিবেদক ॥ হিজলায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির উপর সম্পাদকের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের চার সদস্যসহ কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। সংবাদকর্মীদের সহ প্রায় ২৫ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর। আহত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংলগ্ন খুন্না গোবিন্দপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোলায়মান হোসেন শান্ত এবং উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের ছেলে নাঈম মোটরসাইকেলযোগে খুন্না বন্দর থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। খুন্নাগোবিন্দপুর এলাকা অতিক্রমের সময় সেখানে উপস্থিত থাকা বিরোধী গ্রুপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপুর অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভির দলবল নিয়ে শান্ত ও নাঈমের উপর হামলা চালায়। এতে শান্ত ও নাঈম দুজনেই আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে আহত দুজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পাশাপশি তাদের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপরই হামলার খবর ছড়িয়ে পরলে পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জড়ো হতে শুরু করে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পাল্টা জড়ো হয় টিপু গ্রুপের লোকজন। উভয় গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হলে উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু এরপরও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে রাত সোয়া ১০টার দিকে দুই গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ৫ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের ঘটনায় হিজলা থানার ওসি তদন্ত তরিকুল ইসলাম তারেক ও চার পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়। ভাংচুর করা হয় ৫টি মোটরসাইকেল। আহত পুলিশ সদস্যদের দুজনকে হিজলা এবং ১ জনকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার বলেন, সংঘর্ষের মধ্যে থেকে ফাঁকা গুলিও ছুড়েছে কোনো একটি পক্ষ। বিষয়টি তদন্ত চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন হিজলার এএসপি সার্কেল মতিউর রহমান। বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত উপজেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচী স্থগিত রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় কর্মসূচী উপজেলা প্রশাসন পালন করবে।এদিকে, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ৫শ জনকে আসামী করে মামলা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার। মামলার আসামীরা সকলেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী। ওসি জানিয়েছেন, ৫০ জনের নাম উল্লেখ এবং সাড়ে ৪শ জনকে অজ্ঞাত করে মামলাটি দায়ের করেছেন থানার এসআই ফারুক খান। মামলা নং-৫। থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আওয়ামী লীগের উভয়পক্ষকেই আসামী করেছে পুলিশ। আসামীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লোকমান সিকদার, কাজল হোসেন রাঢ়ী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর, সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বড়জালিয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি বশির আহম্মেদ, ছাত্রলীগ নেতা জিদান হাওলাদার, যুবলীগ নেতা নিজাম সরদার প্রমূখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT