প্রেসক্লাব নির্বাচনে আস্থার প্রতীক প্রেসক্লাব নির্বাচনে আস্থার প্রতীক - ajkerparibartan.com
প্রেসক্লাব নির্বাচনে আস্থার প্রতীক

3:05 pm , December 6, 2020

এম.এম আমজাদ হোসাইন, রফিকুল ইসলাম ও দেবাশীষ চক্রবর্তী

জসিম জিয়া ॥ এমএম আমজাদ হোসাইন। শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিক। তবে বরিশালবাসী তাকে শিক্ষাবিদের চেয়ে সাংবাদিক হিসেবেই বেশি চেনেন। কারণ দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় আছেন তিনি। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে ছিলেন বেশ কয়েকবার। কাজ করেছেন বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ন পদে। নিরপেক্ষ সম্পাদকীয় ও কলাম লেখনীর মাধ্যমে তিনি যেমন সবার আস্থা অর্জন করেছেন তেমনি প্রেসক্লাব নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারের দায়িত্ব পালনেও তিনি এক ধরণের বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জন করেছেন প্রার্থীদের কাছে। ফলে নির্বাচন এলেই কমিশনার হিসেবে উঠে আসে আমজাদ হোসেনের নাম। ছোট-বড় সবাই যাকে ‘আমজাদ স্যার’ হিসেবে চেনেন। সবার কাছে গ্রহনযোগ্য এমএম আমজাদ হোসেন দীর্ঘ বছর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের নির্বাচন। নির্বাচনে এবারও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন আমজাদ হোসাইন। প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে এবারও তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এমএম আমজাদ হোসাইন ১৯৭০ সালে বরিশাল সদর উপজেলার সিংহেরকাঠী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী জীবন শুরু করেন। পরে তিনি চাকুরী নেন নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সর্বশেষ হালিমা থাকুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহন করেন। সাংবাদিকতায় আসা ১৯৮২ সালে। তিনি শুরু থেকেই কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতেন। বরিশাল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘খাদেম’ পত্রিকার মাধ্যমে তার প্রথম সাংবাদিকতায় আসা। ওই সময় পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন এস আলী মোহাম্মদ। তিনি আমজাদ হোসেনকে পিটিআইয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে বলেন। ওই রিপোর্টটি করেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। বরিশাল প্রেসক্লাবের সদস্য হন ১৯৯১ সালে। তিনি সাপ্তাহিক আজাদ বানীর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯১ সালে যোগদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ সম্পাদিক ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’ পত্রিকায়। এরপর বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বার্তায় যোগদান করেন। ওই পত্রিকায় প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখনও যুক্ত আছেন তিনি। বর্তমানে আজকের বার্তার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমএম আমজাদ হোসাইন। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘একজন নির্বাচন কমিশনারের প্রধান কাজ হলো নিরপেক্ষ থেকে সকল প্রার্থী ও ভোটারদের আস্থা অর্জন করা এবং নিরপেক্ষভাবে গোপনীয়তা রক্ষা করে নির্বাচন কাজ সম্পাদন করা। সে দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকেন।
এবারের নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দৈনিক কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম এবং লেখক ও গবেষক দেবাশীষ চক্রবর্তী।
বরিশালে সাংবাদিকতা পেশায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সাহসিকতা শব্দটি যুক্ত করে যদি কারও নাম নিতে হয় তাহলে প্রথমেই নাম আসবে রফিকুল ইসলামের। ১৯৯৮ সাল থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম। প্রত্যেকটি পেশায় দলাদলি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সাংবাদিকতা পেশায়ও এর বাইরে নয়। কিন্তু সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের দীর্ঘ সাংবাদিকতায় কারো সাথে দলাদলি কিংবা মনোমালিন্য হয়েছে এমন রেকর্ড নেই। তিনি সাংবাদিকতায় যেমন পাঠক থেকে শুরু করে সবার আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন তেমনি বেশ কয়েকবার প্রেসক্লাবের নির্বাচনে কমিশনারের দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। যার প্রমান এবারের প্রেসক্লাব নির্বাচন। এবার সবার কন্ঠভোটে নির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম। ১৯৯৮ সালে ঢাকা থেকে প্রকশিত শিক্ষা বিচিত্রার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি রফিকুল ইসলামের। এরপর বরিশাল থেকে প্রকাশিক দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকায় ওয়ার্ড প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে দৈনিক আজকের পরিবর্তনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি পত্রিকাটির সাথে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি নিউজ, সবচেয়ে বড় ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টার, মানবজমিন, সাপ্তাহিক ২০০০ এ কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টারের (বরিশাল অফিস) দায়িত্ব পালন করছেন। আলাপকালে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ একজন নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব হলো সকল প্রার্থীদের সমান সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া। যখন সেই কাজটা সঠিকভাবে পালন করা যায় তখনই আস্থার জায়গাটা পাকাপোক্ত হয়।
এবারও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে চিঠি পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক দেবাশিষ চক্রবর্তী। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে সাংবাদিকতা পেশায় নিজেকে যুক্ত রেছেন। পাশাপাশি অমৃত লাল দে কলেজের প্রভাষক পদে চাকুরি করছেন তিনি। তিনি প্রেসক্লাবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পাঠাগার সম্পাদক ও সহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের পরিবর্তন, বিপ্লবী বাংলাদেশ, বরিশাল বার্তা, বরিশাল প্রতিদিনসহ অসংখ্য পত্রিকায় কাজ করেছেন। আলাপকালে দেবাশিষ চক্রবর্তী বলেন, আমি এমন কাজ করিনা যাতে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরী হয়। প্রেসক্লাব হলো একটা সম্মেলনের জায়গা, প্রতিযোগিতার জায়গা নয়। একটি নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে হলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে আগেও যেমন পালন করেছি এবারও চেষ্টা করবো একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT