দলিল লেখক রিয়াজের মুল সন্দেহভাজন হত্যাকারী মাসুম দুই বছর পর প্রকাশ্যে দলিল লেখক রিয়াজের মুল সন্দেহভাজন হত্যাকারী মাসুম দুই বছর পর প্রকাশ্যে - ajkerparibartan.com
দলিল লেখক রিয়াজের মুল সন্দেহভাজন হত্যাকারী মাসুম দুই বছর পর প্রকাশ্যে

3:26 pm , December 2, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে বরিশাল চরমোনাই এলাকার বাসিন্দা দলিল লেখক রিয়াজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী মাসুম ফরাজী। প্রায় দুই বছর পলাতক থাকার পর গত মঙ্গলবার প্রকাশ্য দিবালোকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিচরন করতে দেখা গেছে তাকে। এমনকি বর্তমানে চরমোনাইর নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন ধুরন্ধর এই পলাতক আসামী। মামলার বাদীর দাবী সম্প্রতি আদালতে জমা দেয়া চার্জশীট থেকে প্রধান আসামী রিয়াজের স্ত্রী লিজা ও মাসুমের নাম বাদ দেয়ার পরপরই প্রকাশ্যে চলে আসে মাসুম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলছে তদন্তে খুনের সাথে মাসুমের জড়িত থাকার প্রমান বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাই তাকে অব্যাহতি দিয়ে চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং সে প্রকাশ্যে আসলেও তাকে গ্রেফতারের প্রয়োজন নেই। এখন প্রশ্ন উঠেছে আদালতে চার্জশীটের বিরুদ্ধে বাদীর না রাজী এবং আদালত কর্র্তৃক এখনো চার্জশীট গৃহীত না হওয়ার পূর্বেই অন্যতমপ্রধান আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশের অনীহা এবং তার প্রকাশ্যে চলে আসার বিষয়টি কিসের আলমত বহন করে ? গত ৩০ নভেম্বর বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দ্বিতীয় দফায় রিয়াজ হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদান করেন তৃতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সগীর হোসেন। ওই চার্জশীটে মামলার প্রধান আসামী রিয়াজের স্ত্রী লিজা তার পরকীয়া প্রেমিক রিয়াজের সহকারী মাসুম ও তার সহযোগীকে বাদ দিয়ে কয়েক মাস আগে গ্রেফতার করা ৪ ছিচকে চোরকে অভিযুক্ত চার্জশীট প্রদান করা হয়। চার্জশীটে নিজের নাম বাদ তথা পুরো চার্জশীট নিজের অনুকুলে দেখে জমা দেয়ার একদিন পরই প্রকাশে চলে আসে খুনের পর থেকে পলাতক থাকা মামলার প্রধান আসামী মাসুম। মঙ্গলবার দিনের বিভিন্ন সময়ে তাকে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক শাখার সামনে তার এক আতœীয়ের দোকানে এবং পরে নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন কাজ নিয়ে অবাধে ঘুরতে দেখা গেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খোজ নিয়ে জানা গেছে মাসুম বুধবার চরমোনাইর নিজের গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করেন।
এদিকে প্রদত্ত চার্জশীটের দেখা গেছে, আসামীদের মামলা থেকে বাদ বা অব্যাহতি থেকে বাদের তালিকার ঘরে ১ নম্বরে প্রধান আসামী লিজা ও তার সহযোগী অপর এক আসামী ইদ্রিস এর নাম উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অথচ মাসুম ও তার সহযোগী হাবিবুর রহমান হাবু এর নাম চার্জশীটের কোন স্থানেই উল্লেখ করেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ সগীর হোসেন বলেন, আমি তদন্তে খুনের সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি তাদের নামই উল্লেখ করেছি এবং যাদের সংশ্লিষ্টতা পাইনি তাদের নাম বাদ দিয়ে চার্জশীট দিয়েছি। তিনি আরো বলেন মাসুম এজাহার ভুক্ত আসামী নয় তাই চার্জশীটে তার নাম উল্লেখ করার আইনী বাধ্যবাধকতা নেই।
বাদী রিয়াজের বড় ভাই রিপন বলেন থানা পুলিশের আচরনে আমরা আগে থেকেই ধারনা করেছিলাম এ ধরনের সাজানো গোছানো একটি চার্জশীট দেয়া হবে। বাস্তবে সেটাই দেখলাম। আমি পরবর্তী তারিখে আদালতে এই চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজি দেব এবং মামলা সিআইডিতে স্থানন্তরের আবেদন জানানো হবে। তিনি আরো বলেন মামলা দায়েরের পর প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে রিয়াজের স্ত্রী লিজা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে যে লিজা ও তার পরকীয়া প্রেমিক মাসুম মিলে রিয়াজ কে হত্যা করেছে। তারপরও পুলিশ মাসুম কে গ্রেফতার করেনি। অথচ এই চার্জশীটে দেখলাম পূর্বের সেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়া আসামীদের বাদ দিয়ে কোথা থেকে ৪ জন চোর ধরে তাদের কাছ থেকে জবানবন্দী আদায় করে চার্জশীট প্রদান করেছে। যা কোন কারনেই গ্রহনযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত,২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে দলিল লেখক রিয়াজ কে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এর পরের দিনই রিয়াজের বড় ভাই রিপন বাদী হয়ে স্ত্রী লিজা ও তার পরকিয়া প্রেমিক রিয়াজের সহকারী মাসুমসহ ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরপরই আটক হওয়া লিজাকে পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। বাকি থাকে মাসুম ও তার এক সহযোগী। সেই অধরা এখনো অধরাই থেকে গেছে। দেড় বছরে পুশিশের একাধিক বিভাগের ৩ তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT