ঝালকাঠিতে ব্যস্ত লেপ-তোষকের কারিগররা ঝালকাঠিতে ব্যস্ত লেপ-তোষকের কারিগররা - ajkerparibartan.com
ঝালকাঠিতে ব্যস্ত লেপ-তোষকের কারিগররা

3:13 pm , November 28, 2020

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি॥ ঝালকাঠিতে শীত নিবারণে ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোষকের কারিগররা। শীতের আগমনী বার্তা শুরু হতেই ভীড় জমেছে লেপ-তোষকের দোকানে। প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবছরও তার ব্যতয় ঘটেনি। কোভিট-১৯ জনজীবন থমকে দিলেও থামাতে পারেনি শীত নিবারনের কারিগরদের ব্যস্ততা। সকাল হলেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন শীত নিবারণের জন্য লেপ-তোষক বানানোর কাজে। শনিবার সকালে ঝালকাঠির পূর্ব চাদকাঠির পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিপরীতে বিআইপি সড়কের পাশে লেপতোষক তৈরির কারিগর মো: জহিরুল ইসলাম চাঁন এর সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে তারা খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাঁনের দোকানের নাম মা মনি বেড সাপ্লাই। তার দাদা মো: মোসলেম খানও এ পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তার সাথে আলাপকালে জানা যায়, বিভিন্ন রকম তুলা দিয়ে লেপ-তোষক তৈরি হচ্ছে। তুলার দাম মান ভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন পচা তুলা ৩০ টাকা, উইল তুলা ৫০ টাকা, সাদা সুপার ১০০ টকা, পলি তুলা ২৫০ টাকা, কার্পাস তুলা ২৭০ টাকা, শিমুল তুলা ২২৫-৩৫০টাকা, ফোম তুলা ১০০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। ৬ফুট বাই ৭ ফুট প্রতিটি লেপের মজুরী ২৫০ টাকা, তোষক ৩০০টাকা, বালিশের কভার ২০টাকা এবং লেপের কভারের মজুরী ৩০ টাকা নেয়া হয়।
এছাড়া জাজিম তৈরির জন্য নারকেলের ছোবরা ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
কারিগর মো: জহিরুল ইসলাম চাঁন ও জব্বার এ প্রতিবেদককে জানান, “বছরে প্রায় তিন লাখ লাখ টাকা বেচাকেনা হয়ে থাকে এবং তাতে ৫০ হাজার টাকার মত লাভ হয়। তবে এ আয় দিয়ে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। বছরে দেড় হাজার টাকা লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং দোকান ভাড়া দেয়ার পর তেমন একটা লাভ থাকে না।”
তবে কারিগররা ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি কমানেরা দাবী জানান পৌর মেয়রের নিকট। করোনাকালে ৬/৭ মাস কোন কাজ না থাকায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করেছেন। এ সকল কারিগরদের সরকারী প্রণোদনা দেয়ার দাবী জানান। এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সুদ বিহীন কারিগরদের লোন দেয়া প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠির জনপ্রিয় পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ বলেন, “শীত নিবারণে লেপ তোষকের কারিগররা দেশ ও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু সমাজে তারা অবহেলিত। তাদের পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারীভাবে প্রণোদনা দেয়া উচিত। সুদ বিহীন ব্যাংক থেকে লোন দেয়ার ব্যবস্থা করা হলে ভাল হয়। তারা আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের পেশাকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।”
এ ব্যাপারে ঝালকাঠির পৌর মেয়র আলহাজ্ব লিয়াকত আলী তালুকদার জানান, “করোনায় সকল ব্যবসায়ী কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে ট্রেড লাইসেন্সের নবায়ন ফি কমানো বা মওকুফ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আবেদন করলে ট্রেড লাইসেন্স এর সুদ মওকুফ করা যেতে পারে।”

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT