দক্ষিণাঞ্চলের সড়কে মাইকিং করে পেয়াঁজ ক্রেতার খোজে টিসিবি দক্ষিণাঞ্চলের সড়কে মাইকিং করে পেয়াঁজ ক্রেতার খোজে টিসিবি - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলের সড়কে মাইকিং করে পেয়াঁজ ক্রেতার খোজে টিসিবি

2:49 pm , November 20, 2020

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিনাঞ্চলে এখন পেয়াঁজের ক্রেতার খোজে রাষ্ট্রীয় বানিজ্য সংস্থা-টিসিবি। এতদিন পেয়াঁজ ও ভোজ্যতেল সহ বিভিন্ন পণ্য কেনার জন্য টিসিবি’র গাড়ীর খোজে মহানগরী সহ বিভিন্ন জেলা সদরের সাধারন মানুষ হণ্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এক কেজি পেয়াঁজের জন্য ভোক্তাদের আকুতি চোখে পড়েছে। আর এখন পেয়াঁজ কেনার জন্য ক্রেতাদের তোয়াজ করছে টিসিবি’র ডিলাররা। শুক্রবারও দিনভরই টিসিবি’র ডিলাররা ‘টিসিবি’র পণ্য কিনে হন ধণ্য’ এ শ্লোগান দিয়ে ভোজ্য তেল, মুসুর ডালও চিনির সাথে অনেকটা বাধ্যতামূলক ভাবেই পেয়াঁজ বিক্রি করেছে। মহানগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলা সদরেও এ দৃশ্য চোখে পড়ছে। তবে উপজেলা পর্যায়ে টিসিবি আজ পর্যন্ত তার পণ্য পৌছাতে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়নি। গত দুদিন বাজারে টিসিবি’র চেয়ে ভাল মানের পেয়াঁজের সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দরপতনও ঘটেছে। ফলে ক্রেতারা হাতের নাগালে ভাল মানের পেয়াঁজ পাচ্ছেন। যদিও তার দাম টিসিবির’র পেয়াজের চেয়ে কেজি প্রতি ৫ টাকা বেশী। কিন্তু টিসিবি’র পেয়াঁজের মান খোলা বাজারের চেয়ে কিছুটা খারাপ হওয়ায় ভোক্তারা হাতের নাগালে ভাল মানের পেয়াঁজ একটু বেশী দামে কিনতেও স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন। কারন এতে টিসিবির পেয়াঁজের গাড়ী খুজে বেড়ানোর বিড়ম্বনা থাকছে না। গত দুদিন নগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলা সদরগুলোতে টিসিবি’র ডিলাররা পেয়াঁজ, ভোজ্যতেল, চিনি ও মুসর ডাল নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় মাইকিং করছে। এমনকি আগে যেখানে মাথাপিছু ১ কেজির বেশী পেয়াঁজ বিক্রি হতোনা, এখন সেখানে কোন উর্ধ্বসীমা নেই। কারন পচনশীল এ পণ্য বিক্রি করার কোন বিকল্প নেই। মূলত টিসিবি’র আমদানীর সাথে বেসরকারী পর্যায়েও বিপুল পরিমান পেয়াঁজ দেশে আসতে শুরু করেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির সাথে দরপতনও ঘটছে। শুক্রবার নগরীর বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেয়াঁজ ৭০Ñ৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও আমদানীকৃত পেয়াঁজের কেজি ছিল ৩৫-৪০ টাকার মধ্যে। তবে সে পেয়াঁজের মান টিসিবি’র চেয়ে ভাল বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। আর টিসিবি পেয়াজ বিক্রি করছে ৩০ টাকা কেজি। টিসিবি’র কেন্দ্রীয় পর্যায়েও পেয়াঁজ নিয়ে দূর্ভাবনা শুরু হয়েছে। পচনশীল এ দ্রব্যটির পরিবহন ও মজুত অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই প্রতি মূহর্তে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সবগুলো আঞ্চলিক অফিসের বিক্রি ও মজুত মনিটরিং করা হচ্ছে। শুক্রবার ডিলারদের মধ্যে সরবরাহের পরেও বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের গুদামে প্রায় ১০ টনের মত পেয়াঁজ মজুত ছিল। উপরন্তু আরো প্রায় ৪০ টন রাতের মধ্যেই বরিশালে পৌছার কথা। ফলে এ ৫০ টন পেয়াঁজ নিয়ে কতৃপক্ষের দূর্ভাবনার শেষ নেই। কারন বরিশাল আঞ্চলিক অফিস থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ টন পেয়াঁজ বিক্রি করাও এখন দুরুহ হয়ে পড়েছে ডিলারদের অনিহার করনে। বেশীরভাগ ডিলারই এখন আগ্রহী হচ্ছে না বাজারে আরো ভালমানের পেয়াঁজ চলে আসায়। দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিকেজি চিনি ৫০ টাকা এবং মুসুর ডাল ৮০ টাকা ও সয়াবিন তেল ৮০ টাকা লিটারে বিক্রি করছে টিসিবি। তবে ডিলারদের দাবী, অবিলম্বে পেয়াঁজের দাম ২৫ টাকা নির্ধারন না করলে তারা হয়তএ পণ্য বিক্রি করতে পারবেন না। বিষয়টি নিয়ে টিসিবি’র বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও সব কিছু সদর দপ্তর অবিহত আছে বলে জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT