রক্তাক্ত ছেলের হামলকারীদের বিচার চেয়ে কোতয়ালী থানায় মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ! রক্তাক্ত ছেলের হামলকারীদের বিচার চেয়ে কোতয়ালী থানায় মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ! - ajkerparibartan.com
রক্তাক্ত ছেলের হামলকারীদের বিচার চেয়ে কোতয়ালী থানায় মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ!

3:03 pm , November 18, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বীর মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ কানে পৌছেনি বরিশাল পুলিশের। মাধরের শিকার রক্তাক্ত ছেলের হামলাকারীদের বিচার চেয়ে আকুল আকুতি আমলেই নেয়নি বরিশাল কোতয়ালী পুলিশ। দিনের পর দিন বিচারের জন্য থানায় আসলেও বিরক্ত পুলিশ পাত্তাই দেয়নি ওই মুক্তিযোদ্ধাকে। এমনি প্রতিপক্ষের লালিত পুলিশ সদস্যের মদদে এক পর্যায়ে থানায় প্রবেশ বন্ধ করতে হামলাও চালানো হয় ওই মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর। পুলিশের এমন আচরনে শেষ পর্যন্ত কাউকে কিছুু না বলে পুন:রায় ইতালি পাড়ি জমান হামলার শিকার ওই মুক্তিযোদ্ধার প্রবাসী ছেলে রাব্বী খান জুয়েল। আর ব্যাথিত হৃদয়ে মন কষ্টে নিজ বাসায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক।
জানা গেছে, নগরীর সিএন্ডবি রোড কাজীপাড়া নিবাসী সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিকের বড় ছেলে আবু সাইদ খান খানের গাজিপুরে একটি সোয়েটার কারখানা আছে। যে কারখানায় সাঈদের ছোট ভাই ইতালি প্রবাসী রাব্বী খান জুয়েলও বিনিয়োগ করেন। ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও অন্য ব্যবসা পরিচালনার কারনে ওই কারখানা সার্বিক দেখাশুনার সকল দায়িত্ব প্রদান করা হয় নিকট আতœীয় নওশের জাহান সুহান কে। পরবর্তীতে ব্যবসার হিসেব নিকেশ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে উভয়পক্ষ একাধিক বার বৈঠকে বসলেও সৃষ্ট সমস্যার সমাধান বা সুরাহা হয়নি। সর্ব শেষ ৩১ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক এর শ্যালক বজলুর রহমান মোল্লার অক্সফোর্ড মিশন রোডের বাসায় উভয় পক্ষ আবার শালিস বৈঠকে বসে। বৈঠকের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সালিশদাররা বৈঠক স্থগীত করে। বৈঠক থেকে বের হয়ে কিছুক্ষন পরই সুহান ও শোয়েবসহ অপরিচিত ১৫/২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বজলুর রহমানের বাসায় অতর্কিত হামলা করে এবং রাব্বি খান জুয়েল কে এলোপাথারী ভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আশেপাশের লোকজন রাব্বী খান জুয়েল কে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় রাব্বী খান জুয়েল এর ভগ্নিপতি রানা ২ নভেম্বর বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন এবং পরের দিন ৩ নভেম্বর রাব্বী খান জুয়েল এর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জিডি তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক মাহবুব ফোনে অভিযোগকারী বা জিডিকারীর সাথে ফোনে দুএকবার কথা বললেও অদ্যাবধি ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত যান নি তিনি। আর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক এর লিখিত অভিযোগ ফাইলবন্দী হয়েই পড়ে আছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহন তো দূরের কথা তদন্ত করতেও উদ্যোগ নেয়নি থানা কর্তৃপক্ষ। পুলিশের এমন পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরন ও নিস্ক্রিয়তায় ক্ষুব্দ ও হতাশ হয়ে গত ২/৩ দিন পূর্বে পরিবারের সদস্যদের কাউকে কিছু না জানিয়ে পুনরায় ইতালিতে ফিরে গেছেন রাব্বী।
জানতে চাইলে রাব্বী খানের ভগ্নিপতি রানা বলেন, থানার এক পুলিশ সদস্য আমাদের প্রতিপক্ষের পরিচিতজন ছিলেন তার প্রভাবে আমাদের কোন অভিযোগ আমলেই নেয়নি। এমনি থানার সামনে একবার আমাদের উপর হামলাও চালানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমার শ^শুর একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার অভিযোগ আমলে না নেয়া ও হয়রানীমূলক আচরন করে চরম অপমান ও অসম্মান করা আমাদের বিস্মিত ও হতাশ করেছে।
জানতে চাইলে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয় তদন্তে কোন অফিসার কে দায়িত্ব দেয়া হলে নিশ্চিই তাকে প্রয়োজনীয় তদন্ত করতে হবে। কেন কি কারনে এত দিনেও তদন্ত হয়নি সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। একজন মুক্তিযোদ্ধা অবশ্যই আমাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সেবা পাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT