সমবায় দিবস পালনে সমিতি থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সমবায় দিবস পালনে সমিতি থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ - ajkerparibartan.com
সমবায় দিবস পালনে সমিতি থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

3:23 pm , November 7, 2020

শামীম আহমেদ ॥ জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপনের জন্য বরিশাল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তারা তাদের নিবন্ধিত সমিতি থেকে দশ থেকে দুই হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমিতির টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সমবায় কর্মকর্তারা নিবন্ধন বাতিলের হুমকি দিয়েছে। সমিতির নিবন্ধন রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়েছেন সদস্যরা। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক সমিতির সদস্য বলেন, করোনার কারনে সমিতর সঞ্চয় ও ঋন আদায় বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও অনেক ঋন গ্রহিতা গ্রামে গেছে। তাই সমিতির সদস্যরা প্রতি মাসে লোকসান গুনছেন। এরপরও নিবন্ধন রক্ষার জন্য সমবায় কর্মকর্তাদের দাবি করা চাঁদা দিতে হয়েছে।
সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, সমিতি প্রতি দশ থেকে দুই হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। সমবায়ীরা অভিযোগ করেন, চাঁদার টাকার বৈধতা দিতে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে সমবায় কর্মকর্তারা। উপজেলা ও জেলা সমবায় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির (শ্রেণির) প্রায় ৩০০টি সমবায় সমিতি রয়েছে। এর মধ্যে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির (বহুমুখী সমবায় সমিতি) রয়েছে।
সমবায় কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর নভেম্বরের প্রথম শনিবার জাতীয়ভাবে সমবায় দিবস পালন করা হয়। এবার সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন’। সরকারিভাবে দিবসটি উদযাপনের জন্য ছিল বরাদ্দও। কিন্তু দিবস উদযাপনের নামে গত এক সপ্তাহ ধরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেছে জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস। অভিযোগ উঠেছে জেলা সমবায় অফিসার গোলাম কবির শরীফ অধীন্যস্ত অফিসার ও সমবায়ীদের কাছ থেকে দিবস পালনের জন্য প্রায় দশ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছেন।
নাম প্রকাশ করলে হয়রানির ওই কর্মকর্তার হয়রানির শিকার হবেন জানিয়ে জেলা সমবায় অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সমবায় দিবস পালনের নামে চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত ছিল জেলা সমবায় অফিসার গোলাম কবির শরীফ। বড় আকারের একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তা জানান, তিন-চার দিন আগে সমবায় কর্মকর্তারা কার্যালয়ে এসে সমবায় দিবস উদযাপনের জন্য একটি চিঠি দেন। পরে দিবস উদযাপনের জন্য তাঁদের সমিতির জন্য ১০ হাজার টাকা চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। একই দাবী করেছেন বিভিন্ন সমবায় সমিতির লোকজন। তারা জানান, সমবায় কর্মকর্তাদের হুমকির কারণে তাঁরাও চাঁদা দিয়েছেন। বিভিন্ন সমিতির সদস্য ও সমবায়ীরা জানান, নানা প্রতিকূলতায় তাঁরা বহুমুখী অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ে জড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতার বদলে উপজেলা ও জেলা সমবায় কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় চাঁদা ও ঘুষ আদায় করছেন। সমবায় কর্মকর্তাদের দাবি করা চাঁদা ও ঘুষ না দিলে সমিতির নিবন্ধন বাতিলের হুমকি দিয়ে তাঁদের জিম্মি করে রেখেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমিতির সদস্যরা জানান, প্রতিবছর সমিতির অডিট (সরকারিভাবে হিসাব পরীক্ষা) করতে হয়। দাবি করা মোটা অঙ্কের ঘুষ। না দিলে অডিট করতেও আসেন না সমবায় কর্মকর্তারা। পর পর দুই বছর সমিতির অডিট না হলে সমিতির নিবন্ধন বাতিল হয়। ফলে সমিতির সদস্যদের অনেকটা জিম্মি করে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করেন কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগী সমবায়ীরা বলেন, ‘জাতীয় সমবায় দিবস আর সমিতির অডিটকালেই নয়, প্রতিবছর সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনকালেও সমবায় কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয়।’ চাঁদাবাজি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা সমবায় অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও সমবায়ীরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল কিছু সমিতির সদস্যদের সহযোগিতায়। তবে কোনো সদস্যকে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করা হয়নি।
সদর উপজেলা সমবায় অফিসের শেখ ইউনুস সাংবাদিকদের জানান, আমরা চাঁদা তুলে জেলা সমবায় অফিসে জমা দিয়েছি, আয়োজক ছিল বিভাগীয় ও জেলা সমবায় অফিস।
দিবস উদযাপনের জন্য সমবায়ীদের থেকে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজী প্রসঙ্গে উপ- নিবন্ধক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, চাঁদা আদায় করেছে জেলা সমবায় অফিস।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা সমবায় অফিসের উপ-সহকারী নিবন্ধক মোহাম্মদ খোর্শেদ আলমের মোবাইলে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
বিভাগীয় সমবায় অফিসের বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সমবায়ীদের থেকে চাঁদা নয় কিছু আর্থিক অনুদান নেয়া হয়েছে। অফিসে আসেন সরাসরি কথা বলি বলে কল কেটে দেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT