হেমন্তের শুরুতে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা আর মাঝারী কুয়াশায় ফসল নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলে হেমন্তের শুরুতে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা আর মাঝারী কুয়াশায় ফসল নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলে - ajkerparibartan.com
হেমন্তের শুরুতে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা আর মাঝারী কুয়াশায় ফসল নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলে

3:40 pm , November 5, 2020

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ হেমন্তের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিদায়ের সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপের প্রভাব বিলীন হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসেরও বেশী নিচে নামল। দিনের প্রখর রোদের সাথে তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রী সেলসিয়াসে থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ২০.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যায়। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৪ ডিগ্রী এবং স্বাভাবিকের চেয়ে দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস কম। অপরদিকে এসময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকার কথা। কিন্তু তা ৩১ ডিগ্রীর ওপরে। কার্তিকের শেষ দশকে এসে বুধবার রাতে মাঝারী কুয়াশায় ঢেকে যায় দক্ষিনাঞ্চলের সব জনপদ সহ মেঘনা অববাহিকার নদ-নদী। এ আগাম কুয়াশা ফসলের জন্য বাড়তি বিপদ ডেকে আনতে পারে। ফলে বৃহস্পতিবার রাতের প্রথম প্রহরে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী সহ সারা দেশের নৌ যোগাযোগ অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুটা ঝুকি নিয়ে যাত্রীবাহী নৌযানগুলো বরিশাল নদী বন্দরে পৌছে বৃহস্পতিবার সকালে। দক্ষিণাঞ্চলে অন্যন্য গন্তব্যের নৌযানগুলোও এক থেকে দেড় ঘন্টা বিলম্বে যাত্রীদের পৌছে দেয়। অপরদিকে গতমাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৪.৯% বেশী বৃষ্টি হলেও বরিশালে তা ছিল ১৩৯% বেশী। অক্টোবরে বরিশালে স্বাভাবিক ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হবার কথা থাকলেও ৪২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সয়লাব হয়ে যায়। ফসলের ক্ষতিও ছিল ব্যাপক। মূলত গত দু মাস ধরেই বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশী বৃষ্টি হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে বরিশালে ৩২৫ মিলিমিটারের স্থলে ৪৩৩ মিলি বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। অপরদিকে ভাদ্রের বড় অমাবশ্যায় ভর করে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারনে বরিশাল অঞ্চলে আগষ্টে স্বাভাবিক ৪৩৩ মিলিমিটারের স্থলে ৫১২ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। যা ছিল স্বাভাবিকের ১৮% বেশী। কিন্তু জুলাই মাসে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান স্বাভাবিকের চেয়ে ১১.৩% বেশী হলেও বরিশাল অঞ্চলে তা ছিল ১৫.৬% কম। জুন মাসেও সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২% বেশী বৃষ্টি হলেও বরিশাল অঞ্চলে তা ছিল ০.৬% কম। এবার দক্ষিণাঞ্চলে জুন-জুলাই মাসে স্বাভাবিকের কম এবং আগষ্ট,সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে অতিভারি বর্ষনে ফসলের আবাদ ও স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উঠতি আউশ ও আমন বীজতলা দু দফা প্লাবিত হবার পরে রোপা আমনও সয়লাব হয়ে যায় আগষ্ট-সেপ্টেম্বরের বর্ষনে। এমনকি গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতিও ছিল ব্যাপক। অক্টোবরের বর্ষনে দক্ষিণাঞ্চলের আগাম শীতকালীন শাক-সবজির ব্যপক ক্ষতির পাশাপাশি এসব ফসলের আবাদও যথেষ্ঠ পিছিয়ে পড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৫২ হাজারর হেক্টর জমিতে ১১ লাখ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারন করেছে কৃষি মন্ত্রনালয়। কৃষকদের সে লক্ষে প্রস্তুতি থাকলেও দুদফার অতি বর্ষনের সাথে জোয়ারের প্লাবনে আর্থিক ক্ষতিও ব্যাপক। গত ভাদ্রের অমাবশ্যায় ভর করে লঘু চাপে ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ারের সাথে প্রবল বর্ষন আর উজানের বণ্যার পানিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি বিনষ্টের পরে আরেকটি নি¤œচাপে ভর করে গত ২২ ও ২৩ অক্টোবরের প্রবল বর্ষন ও জোয়ারে আগাম শীতকীলন সবজির পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেসব দূর্যোগ কেটে যাবার পরে শরতের শেষপ্রান্তে এসে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামার সাথে আগাম কুয়াশা আমনের ফলন বাধাগ্রস্থ করতে পারে। পপাশাপাশি শীতকালীন শাক-সবজির গুনগত মানও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষিবীদগন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT