যানজট নিরসনে নগরীতে ওয়ান ওয়ে চালুর সিদ্বান্ত যানজট নিরসনে নগরীতে ওয়ান ওয়ে চালুর সিদ্বান্ত - ajkerparibartan.com
যানজট নিরসনে নগরীতে ওয়ান ওয়ে চালুর সিদ্বান্ত

3:25 pm , October 21, 2020

হেলাল উদ্দিন ॥ যানজটের শহরের তালিতকায় এখনো পর্যন্ত নাম লেখায়নি নগরী। মানুষের মুখে মুখেও যানজটের নগরী হিসাবে উচ্চারিত হচ্ছে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাস্তবিক চিত্র পাল্টে গেছে। বিভিণœ ধরনের ছোট বড়, বৈধ-অবৈধ যানবাহনের ছড়াছড়িতে যানজটের শহরে রুপ নিয়েছে নগরী। এক দিকে ব্যস্ততম সড়কের অপ্রশস্ততা এবং অন্য দিকে বৈধ’র তুলনায় কয়েকগুন অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারনে নগরীতে যানজট বেড়েছে। এছাড়া করোনার কারনে পেশা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়াদের সহজ আয়ের মাধ্যম হিসাবে যানবাহনকে বেছে নেয়ায় নগরীর যানজটের চিত্র আরো প্রকট আকার ধারন করেছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে যানজট নিরসনে এক ধরনের হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। তাই সাধারন সময়েও গুরুত্বপূর্ন সড়ক ওয়ানওয়ে করার পরিকল্পনা গ্রহন করেছে ট্রাফিক বিভাগ। ইতিমধ্যে তা বাস্তবায়নও শুরু করেছে।
তথ্য মতে, ৫৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের নগরীতে মোট ৫৯৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। যার মধ্যে ২৬৭ কিলোমিটার পিচ ঢালাই সড়ক। এর মধ্যে গুরুত্ব পূর্ন ও ব্যস্ততম সড়ক রয়েছে মাত্র কয়েকটি। মূলত ওই কয়টি সড়ক ঘিরেই নগর জীবনের সকল ব্যস্ততা। যে কারনেই মোট যানবাহনের বেশীর ভাগই এই সড়ক গুলোতেই চলাচল করে। বাস্তবতা হচ্ছে যানচলাচলে আধিক্য থাকা এই সড়ক গুলোই অপ্রশস্ত বা সরু। যে কারনেই এ যানজট। সিটি করপোরেশনের হিসাবে নগরীতে ২ হাজার ৬’শ লাইসেন্সধারী ব্যাটারী চালিত হলুদ আটোরিক্সা রয়েছে। কিন্তুট্রাফিক পুলিশের দাবী বাস্তবে এ সংখ্যা আরো ৩ গুন বেশী। যা সম্পূর্ন অবৈধ। সর্বশেষ যানবাহন হিসাবে নগর জীবনে যুক্ত হওয়া গ্যাস চালিত সিএনজিও রয়েছে ৪ শতাধিক। এছাড়া মাহিদ্রা,কয়েকশ ব্যাটারী চালিত রিক্সা, প্যাডেল চালিত রিক্সা প্রতিনিয়ত চলাচল করছে । যে কারনে আচমকা যানজট চেপে ধরেছে নগরবাসীকে।
যানজটের এই চিত্র দেখে ব্যস্ততম সড়ক চিহ্নিত করে ওয়ান ওয়ে বা একমুখী যান চলাচলের পরিকল্পনা গ্রহন করেছে ট্রাফিক বিভাগ। যা ইতিমধ্যে একটি সড়কে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ট্রাফিকের টি আই আবদুর রহিম বলেন, আগে নগরীর চৌমাথা থেকে ছেড়ে যানবাহনগুলো বটতলা, গোড়াচাঁদদাস রোড হয়ে হোটেল এরিনার পাশ দিয়ে প্রবেশ করে কাকলীর মোড় দিয়ে লঞ্চঘাট যেত। একই ভাবে লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে সকল যানবাহন চৌমাথা যেত। এতে কাকলীর মোড় তথা সদরে ব্যাপক যানটন হয়। যে কারনে ডিসি স্যারের নির্দেশে (উপ পুলিশ কমিশনার) চৌমাথা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন হোটেল এরিনার পাশ দিয়ে প্রবেশ না করিয়ে ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড হয়ে সার্কিট হাউজের সামনে দিয়ে প্রবেশ করে ক্লাব রোড বা প¦ার্শ অপর একটি সড়ক দিয়ে লঞ্চঘাট যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যা কয়েক দিন ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উপ পুলিশ কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, মূলত যানজন নিরসনের জন্যই এ পদক্ষেপ। যা একটি সড়কে বাস্তবায়ন করে বেশ সুফল লক্ষ্য করা গেছে। কোন সড়কে যানজটের আধিক্য লক্ষ্য করা গেলে ভব্যিষ্যতে প্রয়োজনে আরো সড়ক একই ভাবে ওয়ান ওয়ে করা হবে। তিনি আরো বলেন এবার পূজা উপলক্ষে কেনাকাটায় তেমন ভিড় দেখা যাচ্ছে না। তাই পূজায় যানজট নিয়ে আলাদা কোন পরিকল্পনা নেই ট্রাফিক বিভাগের। তবে পুজোর অনুষ্ঠান উপলক্ষে মন্ডপ কেন্দ্রিক অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের ট্রাফিক পুলিশও নিয়োজিত থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT