বাবুগঞ্জে ৪ লাখ মিটার জাল উদ্ধার ১৩ জেলের জেল-জরিমানা বাবুগঞ্জে ৪ লাখ মিটার জাল উদ্ধার ১৩ জেলের জেল-জরিমানা - ajkerparibartan.com
বাবুগঞ্জে ৪ লাখ মিটার জাল উদ্ধার ১৩ জেলের জেল-জরিমানা

3:11 pm , October 20, 2020

প্রতিবেদক ॥ মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার সন্ধ্যা, সুগন্ধা, আড়িয়াল খাঁ নদীতে প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান চলছে। সোমবার ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযানে ১৩ জেলেকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়। জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল। তবে এতেও থেমে নেই ইলিশ নিধন ! কতিপয় অসাধু জেলেরা গোপনে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মৎস্য নিধন অব্যাহত রেখেছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন। বাবুগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানাগেছে, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘেœ ও নিশ্চিত করতে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাছ ধরা ছাড়াও ইলিশ বেচাকেনা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও মজুত করাও নিষিদ্ধ করা হয় ওই পরিপত্রে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যিনি বা যাঁরা ইলিশ শিকার করবেন, তাঁর বা তাঁদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয় ওই পরিপত্রে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা, আড়িয়াল খাঁ নদীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ইলিশ শিকারের জন্য জেলেরা কারেন্ট জাল পেতে রাখছেন। এসব জালের দুই প্রান্ত প্লাস্টিকের বোতল বা কলা গাছের গুঁড়ি, কচুরিপানা দিয়ে বাঁধা। জালের আশপাশে কোনো জেলে নেই। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে জেলেরা এসব এলাকায় কারেন্ট জাল ফেলছেন। জেলেদের সোর্সদের মাধ্যমে অভিযানের খবরাখবর প্রায়ই আগেভাগে জেনে যান তাঁরা। এ জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের ধরা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে মা ইলিশ রক্ষা করা যাবে না। বাবুগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইদুজ্জামান জানায়, মা ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদীর কামাড় পাড়া থেকে ছানিদেকার পুর, সন্ধ্যা নদীর মোল্লার হাট পয়েন্টে, সুগন্ধ্যা নদীর ক্ষুদ্রকাঠী থেকে দেহেরগতি ইউনিয়নের চর-মালেঙ্গা এলাকা পর্যন্ত ৩০ থেকেে ৩৫ টি অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য কার্যালয় ও পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করেন। গত এক সপ্তাহের অভিযানে এসব এলাকা থেকে ১৩ জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় প্রায় ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এসময় প্রায় ২০০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করে বিভিন্ন এতিমখানায় প্রদান করা হয়। মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জাম বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা, আড়িয়াল খাঁ নদীল ইলিশ রক্ষার অভিযান চালানো হলেও তাঁদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ সব নদী সীমানার বিভিন্ন স্থানে কতিপয় অসাধু ও মৌসুমি জেলেরা কারেন্ট জাল পেতে ইলিশ নিধন করছেন। নিষেধাজ্ঞাকে আমলেই নিচ্ছেন এসব না অনেকে। সচেতনতার অভাবে তাঁরা এটি করছেন। তিনি আরও বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলায় জেলের সংখ্যা ১ হাজার ৯ শত ৩৮ জন। এসব জেলের প্রত্যেককে ২০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। তবু তাঁরা নদীতে অবৈধ ভাবে জাল ফেলছেন। তবে আমাদের অভিযান সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি হাতে নিয়ে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আমীনুল ইসলাম বলেন, ইলিশ রক্ষার অভিযানের পাশাপাশি জেলেদের খাদ্যসহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তবু জেলেরা ইলিশ ধরছেন। এটি তাঁদের মানসিক দুর্বলতা। শতভাগ কার্যকর অভিযান চালাতে হলে তাঁদের স্পিডবোট দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে এ-জাতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নেই এছাড়াও অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্ধ কম তবু ইলিশ রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT