আত্মহত্যা বা আত্মহনন সামাজিক অপরাধ আত্মহত্যা বা আত্মহনন সামাজিক অপরাধ - ajkerparibartan.com
আত্মহত্যা বা আত্মহনন সামাজিক অপরাধ

2:46 pm , October 6, 2020

কাজী মিজানুর রহমান ॥ জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ানো কোন কাজের কথা নয়। প্রচলিত আইন এটা সমর্থন করে না। ধর্মীয় দিক থেকে আত্মহনন মহাপাপ এবং ক্ষমার অযোগ্য। এটা নৈতিকতারও পরিপন্থী। আত্মহত্যা মানবতাবিরোধী কাজও বটে। এটা সামাজিক গতিশীলতা ব্যাহত করে। জীবনের জন্য প্রতিনিয়ত মানুষ যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে চায়,জীবনকে উপভোগ করতে চায়,সেখানে প্রায় প্রতিদিন আমাদের বিভিন্ন মাধ্যমে আত্মহত্যার মত করুণ সংবাদ শুনতে হয়। দেশে বছরে প্রায় ১০ হাজার কিশোর-কিশোরী,নারী-পুরুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মানুষ নিজের জীবনকে নিজে “গলা টিপে” হত্যা করে। এ প্রবনতা বিশ্বব্যাপী। পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে ঝিনাইদহ জেলায় সবচেয়ে বেশী আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। সাধারনত পুরুষের মধ্যে এই প্রবনতা বেশী। বাংলাদেশে কম বয়স্কদের মধ্যে এটা বেশী দেখা যায়। বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করে। এডলফ হিটলার, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, ভিনসেট ভ্যানগগ প্রমুখ বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিগণও আত্মহত্যা করা থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারেননি।
জীবন ফুলশয্যা নয়। মানুষের জীবনে সুখ,দুঃখ- দুর্দশা,ব্যর্থতা,হতাশা, বিপর্যয় আসবেই। এগুলো জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। মানুষ বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন জীব। সাহস ও সহনশীলতার সাথে যে কোন বিপর্যয় মোকাবিলা করাই মানুষের কাজ। ধৈর্য, সাহসিকতা, সহনশীলতা ও দৃঢ় বিশ্বাসের মতো সদগুনাবলির মাধ্যমে এসব সমস্যাকে জয় করার মধ্যেই জীবনের স্বার্থকতা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বে আত্মহত্যার প্রবনতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করে থাকে। আত্মহত্যার কারন অনুসন্ধান এবং তা প্রতিরোধকল্পে কার্যকর ক্ষেত্র প্রস্তুতকরা এর উদ্দেশ্য।
সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানীগণ আত্মহত্যার কারন খুঁজে দেখেছেন!
আত্মহত্যার কারন বিবিধ হলেও তা তাড়িত হয় মূলত মানসিক অস্থিরতার দ্বারা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে আত্মহত্যার প্রবনতা মাথাচাড়া দিয়া উঠে।
বিষন্নতা, সিজোফ্রেনিয়াসহ সকল মনোরোগ, নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহারকারীগন বেশী ক্ষতির সম্মুখীন।
এদের শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কোন না কোন ভাবে মানসিক রোগী। কম বয়স্করা মুভি,কার্টুন, সিনেমা দেখে দেখে শিখে। আত্মহত্যার দৃশ্য তাদের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। অনেকে এতে উদ্বুদ্ধ হয়। অনেকে মনে করেন,টিভি সিনেমা, নাটকের দৃশ্য এবং মিডিয়ায় খবর প্রচারের ধরন বদলানো দরকার। কি করে এই প্রবনতা বোঝা যাবে – কেউ যদি আত্মহত্যা প্রবণ হয়, উদাহরনস্বরুপ কেউ যদিএকাধিকবার ইতোপূর্বে আত্মহত্যায় উদ্যোগী হয়ে (এটেম্পট) থাকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরে আসতে পেরেছে তাদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ৬ গুণ বেশী। হঠাৎ যদি কারো আচরনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় যেমন কথা কমিয়ে দেওয়া, খাওয়াদাওয়া কমিয়ে দেওয়া,মেজাজ খিটমিটে হওয়া,ঘুমের ব্যঘাত হওয়া,এক কথায় স্বাভাবিক জীবনে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসলে বুঝতে হবে সে এই সমস্যায় ভুগছে। এছাড়া মানসিক সমস্যা বা দুরারোগ্যরোগ,পারিপার্শ্বিক অবস্থা,ব্রেকআপ-রিলেশন,মাদক আসক্তি, পরিবারে আত্মহত্যার পূর্ব ইতিহাস,অর্থনৈতিক দুরাবস্থা,বেশী আত্মসম্মানবোধ,বিবাহ বিচ্ছেদ, প্রেমে ব্যর্থতা,পরীক্ষায় খারাপ করা এগুলোও দূর্বল চিত্তের মানুষের আত্মহত্যার অন্যতম কারন।
এসব লক্ষণগুলো থাকলে পরিবারের কাছের মানুষ আন্তরিকভাবে তার সাথে কথা বলে তাকে এই পরিনতি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।তাতে যদি লক্ষণীয় পরিবর্তন না আসে সেক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে হবে।অনেক সময় এরা হুমকি দিয়ে থাকে ,”আমি চলে গেলে দেখ কি হয়,বেঁচে থেকে কি লাভ, আমি মরে যাব”।
এসব ক্ষেত্রে এদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে হবে, ছায়ার মত লেগে থাকতে হবে।বৈজ্ঞানিক উপায় চিকিৎসার মাধ্যমে মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণ সাইকোথেরাপি,কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে এদের সারিয়ে তুলতে চেষ্টা করেন।
আত্মহত্যার প্রবনতা কি ভাবে কমিয়ে আনা যায়-দেশের রাজনৈতিক,সামাজিক স্থিতিশীলতা, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মৌলিকচাহিদা পূরণ, উন্নত সমাজব্যবস্থা, ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক উন্নতি হলে এই প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন উন্নত দেশের মত আমাদের দেশে জাতীয় ভাবে একটি “হট” লাইন থাকলে যেখানে ২৪ ঘন্টা প্রবেশ (একসেস) করে যখন তখন মনের কথা বিনিময় করা যাবে। তাহলে আত্মহত্যার প্রবনতারোধসহ মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব।শেষ কথা,হারিয়ে যেওনা, হারিয়ে ফেলোনা নিজের মূল্যবান সম্পদকে। ফিরে এসো স্বাভাবিক জীবনে। একবার চলে গেলে আরতো ফিরে আসবে না। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার মত বিধ্বংসী ঘটনা এড়াতে সবার আগে পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে।
আর একটিও যেন আত্মহনন না হয় আমরা সেটা কামনা করি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT