জলাবদ্ধতায় অতিষ্ট নিম্নাঞ্চলবাসী ঘরে প্রবেশ করছে ড্রেনের আবর্জনা !!! জলাবদ্ধতায় অতিষ্ট নিম্নাঞ্চলবাসী ঘরে প্রবেশ করছে ড্রেনের আবর্জনা !!! - ajkerparibartan.com
জলাবদ্ধতায় অতিষ্ট নিম্নাঞ্চলবাসী ঘরে প্রবেশ করছে ড্রেনের আবর্জনা !!!

3:38 pm , August 6, 2020

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ জলাবদ্ধতায় অপরিচ্ছন্ন ড্রেনের ময়লা আবর্জনা প্রবেশ করছে নগরীর নিম্নাঞ্চল সহ সকল বস্তি বাসিন্দাদের ঘরে। ঘরের মধ্যে হাটু পানি মেনে নিলেও আবর্জনা নিয়ে বিপাকে নগরীর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। প্রাকৃতিক কারনে পানি বাড়ার বিষয়টি মেনে নিলেও আবর্জনার দুর্গন্ধ মেনে নিতে পারছেন না তারা। নগরীর কলাপট্রি বস্তির বাসিন্দা রিক্সা চালক মজিদ মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, ভাঙ্গা ঘরে হাটু পানি। এর মধ্যে রয়েছে সাপ আতংক ও অপরিস্কার ড্রেনের জমে থাকা সকল আবর্জনা। পানি বেড়ে যাওয়ায় ড্রেনের ওই ময়লা আবর্জনা উপচে ঘরে প্রবেশ করে। এছাড়া বিকট ও অসহ্য দুর্গন্ধে কোন মানুষের পক্ষে বসবাস সম্ভব না। পলাশপুর ও রসুলপুর বস্তির নুরজাহান বেগম ও আলেয়া খাতুন বলেন, গত দুদিন থেকে ঘরে হাটু পানি। জোয়ারে বাড়লেও ভাটায় তা নেমে যায়। তবে ড্রেনের আবর্জনা পানিতে ভেসে আসায় ভোগান্তিতে থাকতে হচ্ছে। সামর্থ্য না না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশু সন্তান নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকছেন। নগরীর কেডিসি, ভাটারখাল, বঙ্গবন্ধু কলোনি, স্টেডিয়াম বস্তির সকল বাসিন্দাদের বর্তমান ভোগান্তির কারন এক। তাদের অভিযোগ শুকনো সময়ে যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থার যথাযথ দেখভাল করা হতো, তাহলে হয়ত এতটা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হতো না। পানি বাড়লেও আবর্জনার কারনে তাদের স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়তে হতো না। জানা গেছে, নগরীর ৫নং ওয়ার্ডে ১৩টি, ১০নং ওয়ার্ডে আটটি, ৬নং ওয়ার্ডে পাঁচটি, ৩নং ওয়ার্ডে পাঁচটি এবং ২নং ওয়ার্ডে চারটিসহ মোট ৩৫টি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে কয়েক লাখ হতদরিদ্র মানুষ বাস করছেন। এর মধ্যে পলাশপুর, রসুলপুর, কেডিসি, ভাটারখাল, বঙ্গবন্ধু কলোনি, স্টেডিয়াম ও কলাপট্টি বস্তিতে সবচেয়ে বেশি বসবাস করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। স্বাভাবিক ভাবে এ সকল বস্তি এলাকায় স্বাস্থ্যবিধির পালন তেমন একটা দেখা যায়না। বর্তমানে জলাবদ্ধতায় তা একবারেই শুন্য। এর মধ্যে যোগ হয়েছে আবর্জনার নতুন ভোগান্তি। এমন আবস্থা চললে এ সকল বস্তি এলাকায় পানি বাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা এমন পরিস্থিতিতে ভযংকর স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে বলে জানান। তাই সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত নিম্মআয়ের এই মানুষদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। এ বিষয়ে আলাপের জন্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সাগরে লঘুচাপ এবং পূর্নিমার প্রভাবে নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তণখোলা নদীর পানি বুধবার বিকেলে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে নদীর পানি উপচে নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডেও প্রবেশ করে কীর্তনখোলা নদীর পানি। নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা ড্রেন দিয়ে পানি প্রবেশ করে নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোডের একাংশ, অশ্বিনী কুমার হল এলাকা ও তার আশপাশের সড়ক ডুবে যায়। পানি প্রবেশ করে অনেক বসতবাড়িতেও। নগরীর নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত কীর্তনখোলার তীরের জনপদ সাগরদী ধান গবেষণা সড়ক, পূর্ব রূপাতলী, জাগুয়া, আমানতগঞ্জ, পলাশপুরসহ আরও অনেক এলাকা হাঁটু পরিমান পানিতে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে সংকটে পড়ে কীর্তণখোলা তীরসংলগ্ন রসুলপুর, কলাপট্রি, পলাশপুর, বরফকল ও স্টেডিয়াম বস্তির বাসিন্দারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT