সাফল্যের কারিগর র‌্যাব-৮ অধিনায়ক আতিকা ইসলাম সাফল্যের কারিগর র‌্যাব-৮ অধিনায়ক আতিকা ইসলাম - ajkerparibartan.com
সাফল্যের কারিগর র‌্যাব-৮ অধিনায়ক আতিকা ইসলাম

3:24 pm , June 29, 2020

নিজস্ব প্রতিবেক ॥ বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার পদে প্রথম নারী কর্মকর্তা হলেন র‌্যাব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার (সিইও) আতিকা ইসলাম। ২০০৭ সালে র‌্যাব-৮ গঠনের পর পুলিশের কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে তিনিই প্রথম সিইওর দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাব-৮ এ যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন। আতিকা ইসলাম ১৮তম বিসিএসে উত্তীর্ন হয়ে ১৯৯৯ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পুলিশ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা র‌্যাব-৮ এ যোগদানের পর থেকে এ অঞ্চলের ১১ জেলার অপরাধ দমনের নেতৃত্বে রয়েছেন। বর্তমান অধিনায়ক আতিকা ইসলামের যোগদানের পর থেকেই র‌্যাব-৮ এর কার্যক্রম গড়ে উঠেছে শক্ত ভিত্তিতে। র‌্যাব-৮ এর আওতাধীন বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং শরীয়তপুরের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ও শান্তিশৃংখলা বজায় রাখতে তার নেয়া কর্মকান্ডে মানুষ এখন শান্তিতে রয়েছে। তার নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র‌্যাব-৮ সদস্যরা। জানা গেছে, র‌্যাব-৮ মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি রোধে অভিযান কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে র‌্যাব। অভিযানের পাশাপাশি মাদকের কুফল সম্পর্কে সকলকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ‘মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করছে র‌্যাব। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নগরীর সরকারি বিএম কলেজ, সরকারি বরিশাল কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে র‌্যাব-৮। এছাড়াও যৌন হয়রানির নামে ইভটিজিং রোধে তাদের সক্রিয় ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সড়কগুলোতে। সুন্দরবন কেন্দ্র করে গড়ে উঠা একাধিক জলদস্যু ও ডাকাত বাহিনীর কার্যক্রম সমুলে উৎপাটনে কাজে সফল হয়েছে র‌্যাব-৮। সিইও আতিকা ইসলামের দক্ষ নেতৃত্বের কারনে সুন্দরবনে র‌্যাব-৮ এর ক্রমাগত অভিযানে একাধিক জলদস্যু বাহিনীর প্রধান নিহত হয়েছে। তাই অস্ত্র-গোলাবারুদসহ অসংখ্য জলদস্যু আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছেন। উদ্ধার হয়েছে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি অস্ত্র-গোলাবারুদ। দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী ফের মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সে জন্য র‌্যাব-৮ কঠোর ভূমিকা রাখছে। একের পর এক জঙ্গীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে নাশকতামুলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে সফল হয়েছে র‌্যাব-৮। এর সিংগভাগ কৃতিত্ব সিইও আতিকা ইসলামের। তার নেতৃত্বের র‌্যাব-৮ সদস্যরা বিভিন্ন নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রেখেছে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন গুরুতপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সফল ছিল র‌্যাব-৮। বিশেষ করে বরিশাল সিটি নির্বাচনে র‌্যাবের টহল ও কঠোর দায়িত্ব পালনে ভোট কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক। র‌্যাবের ভূমিকার কারণে ভোটারদের মাঝেও আস্থা ফিরে আসে।
সড়ক এবং নৌ-পথে দুর্ঘটনা ও অপরাধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব-৮ সফল। আওতাধীন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্সবিহীন যানবাহন আটক ও জরিমানা আদায়ে প্রশাসনকে উল্লেখ্যযোগ্য সহায়তা করেছে র‌্যাব। ঈদ, বড়দিন, দুর্গাপূজা এবং বিভিন্ন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন এবং অতিরিক্ত টহলের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোরভাবে দায়িত্বপালন করে র‌্যাব-৮।
র‌্যাব-৮ এর বিভিন্ন সময়ের সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদক ও ভেজাল ওষুধ, খাদ্যপণ্য ও কারেন্ট জাল উদ্ধার হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র গ্রেপ্তারের মাধ্যমে র‌্যাব-৮ সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নকলের কুফল সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে আসছে। জেএসসি , এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের আটক করে আইনের আওতায় এনেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক বিরোধী অভিযান, জলদস্যু গ্রেপ্তার এবং জঙ্গি দমনের কার্যক্রম আপোষহীনভাবে কাজ করায় স্বস্তির নি:শ^াস ফেলছে জনগণ।
অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম এর উদ্যোগে সম্প্রতি চালু হয়েছে একটি অত্যাধুনিক সাইবার মনিটরিং সেল যা ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাইবার অপরাধ দমন করেছে এবং নিয়মিত ভাবে সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে । এ সাফল্যের প্রধান কারিগর হলেন র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম ” সুন্দরবনের হাসি ” প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যু ও তাদের পরিবারের পুনর্বাসন ও সার্বিক উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যা অত্যন্ত অনুকরণীয় এবং প্রশংসনীয় একটি দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অনবদ্য কৃতিত্বের কারণে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ বিপিএম ( সাহসিকতা ) পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। যা একজন নারী অফিসার হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম । এছাড়া সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত করার জন্যও তিনি বিশেষ পুরষ্কার পেয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT