রেড জোন ঘোষনার ৪ দিন পড়েও লকডাউন নিয়ে স্বাস্থ্য-প্রশাসন বিভাগ সিদ্ধান্তহীনতায় রেড জোন ঘোষনার ৪ দিন পড়েও লকডাউন নিয়ে স্বাস্থ্য-প্রশাসন বিভাগ সিদ্ধান্তহীনতায় - ajkerparibartan.com
রেড জোন ঘোষনার ৪ দিন পড়েও লকডাউন নিয়ে স্বাস্থ্য-প্রশাসন বিভাগ সিদ্ধান্তহীনতায়

1:48 pm , June 18, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনার অধিক সংক্রমনে ইতপূর্বে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ড রেড জোন বা অতি ঝুকিপূর্ন এলাকা হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে। গত তিন পূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ওই সব রেড জোন বা ওয়ার্ড লকডাউন করার জন্য বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগকে নিদের্শনাও প্রদান করা হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পরের দিনই বিষয়টি নিয়ে অলোচনায় বসে বরিশাল সিটি মেয়রসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু লকডাউন নিয়ে একাধিক মতামত ও পরামর্শ আসায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় ওই সভা। সভায় মেয়র নগরীর বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চিহ্নিত করা ২৭ টি ওয়ার্ড লকডাউন করার প্রস্তাবনাসহ পরামর্শ প্রদান করেন। কিন্তু মেয়রের এই প্রস্তাবনা যুক্তি খন্ডের ম্যারপ্যাচে ফেলে প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর নয় বলে এক একমত পোষন করে স্বাস্থ্য ও জেলা প্রশাসন বিভাগ। যে কারনে মেয়র তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সভা শেষ করেন। কিন্তু মেয়র অনুসারীরা জানিয়েছেন প্রশাসনের অসহযোগীতার কারনে নগরী লকডাউন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তারা বলেন মেয়র হিসাবে সিটি এলাকায় তিনি তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারতেন। কিন্তু মতভেদ থাকায় তিনি তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন নি। কারন সেটা করা হলে কাজে প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হবে। তাই তিনি সবার সাথে কথা বলে এক মতে পৌছানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। নগরবাসীও বলছে মেয়রের সিদ্ধান্তই সঠিক ও যুক্তিযুক্ত। কারন প্রতিদিন যে হারে নগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে দুএকটি ওয়ার্ড পরিক্ষামূলক ভাবে লকডাউন করার কোন সুযোগ বা যুক্তিকতা নেই। কারন এই পরীক্ষার সময়কালে নগরী যে অবস্থায় গিয়ে পৌছাবে তা থেকে তখন আর উত্তরনের কোন পথ খোলা থাকবে না। অনেকে আবার বলছে স্বাস্থ্য ও প্রশাসন বিভাগ বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার অযুহাত দেখিয়ে কিছু যুক্তি প্রদর্শন কাজের চাপ ও দায়িত্ব থেকে পরিত্রান পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাই তারা মেয়রের পরামর্শে এখনো সম্মতি প্রকাশ করেনি। নগরবাসীর স্বার্থে মেয়রের সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য ও প্রশাসন বিভাগকে সমর্থন জানিয়ে লকডাউন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবীও জানিয়েছেন তারা। এদিকে গতকাল পর্যন্ত লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন দপ্তরই আর আলোচনায় বসে নি। আর সিদ্ধান্ত গ্রহনের প্রশ্নে বিষয়টি এখন আরো জটিল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন। বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ফোন করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড কে রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত করে জেলা সিভিল সার্জনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সব ওয়ার্ড লকডাউন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর পরই লকডাউন বাস্তবায়ন করার সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের চিঠি দেন সিভিল সার্জন। পরের দিন মঙ্গলবার এ বিষয়ে জরুরী সভা ডাকা হয়। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন যেহেতু নগরীর ৩০টিঁ ওয়ার্ডের ২৭ টি ওয়ার্ডই রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পরামর্শ ২৭ টি ওয়ার্ডই লগডাউন করা হোক। কিন্তু প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ মেয়রের এ প্রস্তাবে দ্বিমত পোষন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২৭ টি ওয়ার্ড লকডাউন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে যা প্রথম পর্যায়ে সমন্বয় করতে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একসাথে এত বড় এলাকা লকডাউন করা হলে তাতে সফলতা আসার সম্ভবনা খুবই কম। তাই তাদের পরামর্শ ছিলো পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম পর্যায়ে বেশী আক্রান্ত ২ থেকে ৩ টি ওয়ার্ড লকডাউন করা এবং তাতে সফলতা আসলে পরবর্তীতে বাকি ওয়ার্ডগুলো একই ভাবে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু তাদের এ প্রস্তাবে সহমত পোষন করেননি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন পুরো নগরী যেখানে চরম ঝুকিতে সেখানে লকডাউন নিয়ে সময় ক্ষেপন বা সীমাবদ্ধতার অযুহাত দেখানোর সুযোগ নেই। তিনি এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগীতা করার জন্য প্রশাসনের সবাইকে আশ^স্ত করেন। শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে না পৌছেই শেষ হয় সভা। স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন যেহেতু মেয়রই সিটি এলাকার মুখ্য ব্যক্তি হিসাবে গন্য হন। তাই তার সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাবে এবং সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ কাজ করবে। তাই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দিলেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। জানতে চাইলে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হোসেন বলেন মেয়র নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সবার পরামর্শ চেয়েছেন। এমনকি এ কাজে সব ধরনের সহযোগীতা করবেন বলে দৃঢ় ভাবে জানিয়েছেন। তাই আশা করছি খুব অল্প সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারব আমরা। সরকারি হিসেবে বরিশাল নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৩ জন। বুধবার পর্যন্ত এই নগরে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৮’শ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া মারা গেছে ৮ জন। জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘লকডাউন হবে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশন। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব আমরা ও জেলা প্রশাসন। তবে এবার লকডাউন বাস্তবায়ন প্রশ্নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে সব নির্দেশনা রয়েছে তার সবগুলোর আয়োজন সম্পন্ন করে লকডাউনের ঘোষণা দিতে হবে। এখানে অনেকগুলো বিষয় এবং দফতর জড়িত। সে সব সম্পন্ন করেই কেবল লকডাউনে যেতে পারব আমরা। এ দিকে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আসা রেড জোনের ম্যাপিং অনুযায়ী বরিশাল নগরীর ১১, ১২, ১৬ নং ওয়ার্ডে করোনা শনাক্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT