করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরি করছেন শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরি করছেন শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক - ajkerparibartan.com
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরি করছেন শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক

3:24 pm , May 28, 2020

হেলাল উদ্দিন ॥ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ডিভাইস উদ্ভাবনের গবেষনায় থাকা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসককের বদলীর আদেশ স্থগিত হচ্ছে। গবেষক ওই চিকিৎসক হলেন শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিষ্ট্রার ডাঃ এইচএম মাসুম বিল্লাহ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস উদ্ভাবন নিয়ে গবেষনারত ওই চিকিৎসককে সম্প্রতি ভোলা জেলা হাসপাতালে বদলী করা হয়। এতে ডিভাইস উদ্ভাবনের শেষ পর্যায়ে এসে গবেষনা বন্ধের উপক্রম হয়। ওই চিকিৎসকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গবেষনার সুযোগ করে দিতে তার বদলীর আদেশ প্রত্যাহার করে পূর্বের স্থানে স্বপদে বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। তাই ডিভাইস তৈরি নিয়ে গবেষনার সুযোগ ফিরে পাচ্ছেন সদ্য বদলীকৃত ওই চিকিৎসক। তার বদলীকৃত স্থানে বিকল্প কাউকে পদায়নের পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরি নিয়ে গবেষনারত শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিষ্ট্রার ডাঃ এইচ এম মাসুম বিল্লাহকে গত ১৭ মে জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) পদে চলতি দায়িত্ব দিয়ে ভোলা জেলা হাসপাতালে বদলী করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। গত ১৯ মে পূর্বাহ্নের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশনাও প্রদান করা হয়। এর পরই তার গবেষনার বিষয়টি সামনে চলে আসে। কারন ভোলায় এই গবেষনা কাজ করার সুযোগ না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম তৈরী হয়। যে কারনে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে পুরো বিষয়টি অবহিত করে গবেষনার সুযোগ চেয়ে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে আবেদন করেন ডা. এইচএম মাসুম বিল্লাহ।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ভোলা জেলা হাসপাতালে কোন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ না থাকায় স্বাভাবিক নিয়মে তাকে বদলী করা হয়। এর পর বিভিন্ন মাধ্যমে তার গবেষনা বিষয়টি অবহিত হয়েছেন।
অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, যেহেতু ওই চিকিৎসক করোনা প্রতিরোধী বিষয় নিয়ে কাজ করছে। মন্ত্রনালয় তাকে অবশ্যই সুযোগ দিবে। আমরা তার বিকল্প খুজছি। কাউকে পেলেই তার বদলী আদেশ প্রত্যাহার করে পূর্বের স্থানেই বহাল করা হবে। খুব দ্রুত সেটা হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
বদলী আদেশ প্রত্যাহার হবে এমন খবর পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, বদলী আদেশ প্রত্যাহার করে গবেষনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে আমি মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। গবেষনা কাজ শুরুর বর্ননা দিয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস শুরুর পর থেকেই রোস্টারের ভিত্তিতে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি একটি ডিভাইস তৈরির গবেষণা করতে শুরু করেন। তার গবেষণা অনুযায়ী এ ডিভাইস ব্যবহারে করোনা আক্রান্ত রোগীর নিশ্বাসে নির্গত করোনা ভাইরাস, জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে। ফলে করোনা রোগী থেকে অন্য একজন আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে না। তিনি বলেন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ তার প্রোটোকল রিসিভ করে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। গত ১৪ মে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ থেকে নৈতিক অনুমোদনসহ অর্থ পাঠানোর চিঠি দেয়। গত ১৭ মে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠায় সে। এর একদিন পর বদলীর আদেশ পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের গবেষণা সফল করতে এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য যে ধরনের হাসপাতাল ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন তা ভোলায় নেই। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন বলেন, ডা. মাসুমের বদলীর খবর সকলকে হতবাক করেছে। আশা করছি মন্ত্রনালয় তার গবেষনা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT