হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে অসহায় মা হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে অসহায় মা - ajkerparibartan.com
হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে অসহায় মা

3:07 pm , March 17, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যে মায়ের পরম স্নেহে সন্তানের জীবনে পরিপূর্ণতা এসেছে সেই গর্ভধারিনী মাকে চিকিৎসা না করে হাসপাতালে ফেলে রেখে গেছেন সন্তানরা। অসহায় ওই মা হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে
মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। গত ১৩ দিন হাসপাতালের বেডে পড়ে আছেন সেতারা বেগম নামে ষাটোর্ধ মা। অজ্ঞাত এক নারী গত ৫মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে যাওয়ার পর থেকে তার খোঁজ খবর নিতে কেউ আসেনি। ৫ দিন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দেয়ার পরেও তাকে কেউ নিতেও আসেনি। ষাটোর্ধ এই নারী বর্তমানে কার্ডিওলজি বিভাগে মৃত্যুর দিন গুনছেন। সে চলাফেরায় পুরোপুরি অক্ষম। একাধিক রোগে জর্জরিত সেতারা বেগম পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন কার্ডিওলজি বিভাগের কর্তব্যরত সেবিকারা। তার স্বামীর নাম জয়নাল বলে জানায় তারা। এই নারীকে তার চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই অসহায় এই নারীর চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ তার পরিবারের সন্ধানে সাহায্যে চেয়েছেন সেবিকারা। কার্ডিওলজি বিভাগের কর্তব্যরতরা পরিবর্তনকে জানায়, ৩ মাস আগে সেতারা বেগম নামের ওই মাকে হৃদরোগের কারনে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করে তার স্বজনরা। ওই সময় কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সাথে চলে যায়। গত ৫ মার্চ পুনরায় মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে মৌসুমি নামের ৩০ বছর বয়সী এক নারী কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করিয়ে পালিয়ে যায়। এর পর থেকেই শুরু হয় অসহায় এই নারীর নির্মম পরিনতি। ৫ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত সেতারা বেগমকে হৃদরোগের জন্য কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই তাকে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। বহুরোগে আক্রান্ত এই নারীর প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বলে জানায় সেবিকারা। হৃদরোগ, ডায়াবেটিকস, উচ্চরক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট সহ নানা রোগে আক্রান্ত এই নারী চলাফেরা তো দূরের কথা কারো সাহায্য ছাড়া উঠে বসতেও অক্ষম। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার কেউ না থাকায় কার্ডিওলজি বিভাগেই একটি কক্ষের মেঝেতে মানবিক বিবেচনা করে তাকে অবস্থান করতে দিচ্ছে। অনেকটা নিয়মের বাইরে গিয়েই অসহায় এই মায়ের যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা সেবা, খাদ্য ও ঔষধ দেয়ার চেষ্টা করছে কার্ডিওলজি বিভাগের কর্তব্যরতরা। সেতারা বেগম বর্তমানে মানষিক ভারসম্য হারিয়েছেন। তিনি তার স্বজনদের কোন পরিচয় জানাতে পারছেন না। কখোনো বলছেন তার ৫ সন্তান, কখোনো আবার বলছেন তার এই পৃথিবীতে কেউই নেই। তবে এতটুকু জানা গেছে এই নারীর দুই সংসারে বেশ কিছু সন্তান-সন্ততি রয়েছে। যারা মায়ের উপরে এতটাই বিরক্ত যে তাকে এই নির্মম পরিনতিতে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। প্রথম বার ভর্তি করানোর পরে একটি মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছিল যোগাযোগের জন্য। ০১৪০৭৯৩৭২০৮ এই নম্বরে সেতারা বেগমের স্বজনদের খোঁজ নেয়ার জন্য ফোন দেয়া হলে সেতারা বেগম নামের কাউকে তারা চেনেনা বলে জানান। তার স্বামী জয়নাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সেতারা বেগমে চিনতে অস্বীকৃতি জানান। কেউ না চিনলেও একাধিক ব্যাধি ঠিকিই চিনে নিয়েছে সেতারা বেগমকে। প্রতিদিন তার কমপক্ষে ইন্সুলিন সহ ১০ ধরনের ঔষধ প্রয়োজন। তবে এক ধরনের ঔষধও জুটছে না সেতারা বেগমের। রোগির স্বজনদের দেয়ার উচ্ছিষ্ঠ খাবার খেয়ে কোন ভাবে বেচে আছে এই নারী। সেবিকারা জানায় সেতারা বেগম বিছানা থেকে উঠতেও পারে না। তাই তাকে কৃত্রিম ভাবে মল-মূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে। তার স্বজনদের খোজ পাওয়া না গেলে বেশিদিন তাকে হাসপাতালে রাখা সম্ভব না। কারন পরিচর্যার জন্য সর্বক্ষনিক একজন লোক প্রয়োজন এই নারীর। তবে তার পাশে সেবা করার লোক তো দূরের কথা পরিচয় দেয়ার মতো লোক খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মো. জাকির হোসেন বিভিন্ন উপায়ে সেতারা বেগমের স্বজনদের খোজা সহ তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তিনি পলাশপুরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথেও সেতারা বেগমের বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন। তবে এতেও কোন সমাধান হয়নি। প্রশাসনের সাহায্য নিয়েও কিছুই করা যাচ্ছে না বলে জানায় সেবিকারা। তাই এই নারীর পরিচয় খোজা, তার চিকিৎসা ভার বহন করা সহ প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্ব-হৃদয় বানদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সাথে যারা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT