কর বৃদ্ধিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের রেকর্ড কর বৃদ্ধিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের রেকর্ড - ajkerparibartan.com
কর বৃদ্ধিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের রেকর্ড

1:00 am , February 26, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পানি, পয়:নিস্কাশন ও রাস্তাঘাটের অভাবে সহ সরকারী হাউজিং এস্টেট-এর অন্তত ২৫ হাজার মানুষ অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিগত তিন দশকেও এ হাউজিং-এর উন্নয়নে গৃহায়ন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রনালয় সহ জাতীয় গৃহায়ন বাস্তব সম্মত কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় কবে এ হাউজিং এলাকাটি একটি মানুষ বসবাসের আদর্শ পল্লীর রূপ লাভ করবে তা বলতে পারছেন না কেউ। তবে নানা অজুহাতে গৃহায়ন কতৃপক্ষ এ হাউজিং-এর জমির মালিকদের কাছ থেকে নানা ধরনের ফি বদ্ধি করে চলেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনও নুন্যতম কোন নাগরিক সুবিধা সৃষ্টি না করেও কর বৃদ্ধিও রেকর্ড গড়ছে।
বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালীতে ৩টি আদর্শ আবাসিক এলাকা তৈরীর লক্ষ্যে ১৯৭৯-৮০ সালে সরকার ভুমি হুকুম দখল ও তা উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহন করে। এ প্রকল্পের আওতায় তৎকালীন বরিশাল পৌরসভার বাইরে সাগরদী এলাকার রূপাতলী মৌজায় ৫০ একর নিচু জমি হুকুম দখল করে তা উন্নয়ন করে। ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে আবেদনকারীদের মধ্যে ২ কাঠা, সাড়ে ৩ কাঠা ও ৫ কাঠার ৪৭০টি প্লট বরাদ্ব দেয়া হয়। কিন্তু পৌর এলাকার বাইরে এ আবাসিক পল্লীতে জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষ কোন ধরনের পাইপ লাইন, পাম্প হাউজ এবং ওভার হেড ট্যাংক নির্মান করেনি। পয়ঃনিস্কাশনের জন্যও কোন ড্রেন নির্মান করা হয়নি। এমনকি হাউজিং এস্টেটটির অভ্যন্তরীন ২৫ ফুট ও ৩০ ফুট প্রশস্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তাও নির্মান করা হয় যেনতেনভাবে। নির্মান করা হয়নি কোন বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনও।
ফলে এ হাউজিং এস্টেটে মানুষের বসবাস অত্যন্ত পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছে। ১৯৯০ সালের আগেই বরিশাল হাউজিং-এর সমুদয় প্লট বরাদ্ব ও হস্তান্তর সম্পন্ন হলেও পৌর এলাকার বাইরে থাকায় সেখানে বাড়ীঘর নির্মানে কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি সরকারী হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন সহ সরকারীÑবেসরকারী ব্যাংকগুলোও এখানের আবাসন খাতে তোন ঋন মঞ্জুর করেনি। ফলে দীর্ঘদিন এ হাউজিং এস্টেট অনেকটা ভুতুড়ে পল্লীর মতই ছিল।
তবে ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন গঠনের সময় এ হাউজিং এস্টেট সহ আরো বিশাল এলাকা ঐ করপোরেশনের আওতাভুক্ত হলে পুরো হাউজিং সহ সন্নিহিত এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সরকারীÑবেসরকারী আর্থিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সেখানের আবাসন খাতে ঋন মঞ্জুরী শুরু করে। এমনকি বিগত সরকারের সময় এ হাউজিং এস্টেটের এক একর জমির উপর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ ভুমি মালিক হাউজিংটির জমিতে বাড়ী ঘর নির্মানও করেছে।
কিন্তু এরপরেই দেখা দিয়েছে চরম বিপত্তি। ৫০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ হাউজিং-এর অভ্যন্তরীন রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার অভাবে পুরো এলাকাটি মানুষ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে ক্রমশ। হাউজিংটির বেশীরভাগ রাস্তাই সামান্য বৃষ্টিতে পানির তলায় চলে যায়। যদিও অতি সম্প্রতি জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষ হাউজিংটির আড়াই কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে সোয়া কিলোমিটারের সংস্কার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ সে কাজের মান নিয়েও প্লট মালিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। হাউজিং এরাকায় কোন পানির পানির পাইপ লাইন সহ গভীর নলকুপ ও পাম্প হাউজ স্থাপন না করায় প্লট মালিকরা নিজেদের প্রয়োজনে দেড় ইঞ্চি ব্যাসার্ধের বিপুল সংখ্যক গভীর নলকুপ খননের ফলে পুরো এলাকায় পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে হাউজিং সহ সন্নিহিত এলাকার ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঐ এলাকার অনেক নলকুপেই শুষ্ক মৌসুমে পানি উঠছে না। এতে করে হাউজিং এলাকার মানবিক সমস্যা আরো ঘনিভুত হচ্ছে।
এমনকি জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের যে অফিসটি রয়েছে, সেখানে একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রয়েছে, তার তেমন কোন ক্ষমতা নেই। পুরো বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ফরিদপুর অঞ্চল সহ ২১টি জেলা নিয়ে গঠিত গৃহায়ন কতৃপক্ষের একমাত্র নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসটি খুলনাতে। তবে তহবিল সংকট সহ গৃহায়ন কতৃপক্ষের তেমন কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা না থাকায় বরিশাল বিভাগীয় সদরের সরকারী এ হাউজিং এসেস্ট-এর তেমন কোন উন্নয়ন লক্ষ্যও নেই। এসব বিষয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বরিশাল হাউজিং এসেষ্টট’র বাসিন্দাগন। তাদের মতে হাউজিং কতৃপক্ষ নানা অজুহাতে ফি বৃদ্ধি করছেন, অথচ নাগরিক সুবিধার দিকে নুন্যতম নজরও দিচ্ছেন না। এমনকি গত এক বছরে এ হাউজিং’র ভুমি হস্তান্তর ফি ১০ গুন বদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে সিটি করপোরেশন এ হাউজিং থেকে বছওে অন্তত ৫০ লাখ টাকা কর আদায় করলেও এখানের রাস্তাঘাট, পয়ঃনিস্কাশন ও বিজলী বাতির বিষয়ে তাদের কোন নজর নেই বলেও অভিযোগ করেন একাধিক বাসিন্দা। সেটি করপোরেশন গত একবছরে এ হাউজিং এস্টেটে হোল্ডিং ট্যাক্স কয়েক গুন বদ্ধি করেছে বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের।
এসব বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, গৃহায়ন কতৃপক্ষ ভুমি উন্নয়ন করে বরাদ্ধ দিয়ে থাকে। এর পরে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা ঐসব এস্টেট থেকে কর আদায় ও তার নাগরিক সুবিধাসমুহ দেখভাল করার দায়িত্বে থাকে। বরিশাল হাউজিং এস্টেটে নতুন করে কতৃপক্ষের তেমন কিছু করণীয় নেই বলেও জানান তিনি। তবে বরিশাল হাউজিং এস্টেটে পানির লাইন ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা কেন নির্মান করা হয়নি, তা তিনি বলতে পারেন নি। এ প্রকল্পটি অনেক পুরনো বিধায় বিষয়টি সম্পর্কে তার দপ্তর অবহিত নয় বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT