সংসারের হাল পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রের কাধেঁ সংসারের হাল পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রের কাধেঁ - ajkerparibartan.com
সংসারের হাল পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রের কাধেঁ

1:00 am , February 18, 2020

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি ॥ ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তাওহীদের ১১ বছর বয়স। এ দূরান্তপনা বয়সে ৩বেলা পেট ভারে খাবে, স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল যাবে। বিকেলে মাঠে সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলায় মাতবে। শিক্ষকদের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যার পরে ঘরে বসে পাঠ প্রস্তুত করবে। পরের দিন আবার সকাল হলেই খেয়ে স্কুলে যাবে। এমনটা হবার কথা থাকলেও সম্পুর্ণ বিপরীত শিশু জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে তাওহীদকে। যে বয়সে কাঁধে স্কুল ব্যাগ থাকার কথা, ঠিক সেই বয়সে কচি হাতে নিজের মাথায় উঠিয়ে নেয় বালু-সিমেন্ট মিশ্রিত কড়াই। সহযোগী হিসেবে পৌছে দেয় নির্মাণ শ্রমিকের কাছে।
জানাগেছে, ৩ সন্তানের জনক আক্কেল আলী। ৫ সদস্যের সংসারে রিক্সা চালিয়ে সার্বিক খরচ বহন করতেন তিনি। গত বছরের মার্চ মাসে ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সাথে তার শ্রবণ শক্তিও হারিয়ে যায়। কর্মে পুরোপুরি উপার্জনহীন হয়ে পড়েন, স্বাভাবিক কথা বললেও মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয় তাকে। এ অবস্থায় সংসারের হাল ধরেছে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া তাওহীদ। তাওহীদ নির্মাণ শ্রমিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করে বেতন যা পাচ্ছে তা দিয়ে মা, বাবা, ছোট ভাই ও নিজের খরচ বহন করতে হচ্ছে। এমন খবর পেয়ে সদর উপজেলার বাসন্ডা গ্রামে আক্কেল আলী’র বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় টিনের একটি জীর্ণ ঘরে আক্কেল আলী স্বপরিবারে বসবাস করছেন। ঘরের সামনেই একবছরেরও বেশি সময় ধরে রিক্সাটি পড়ে থাকায় মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আক্কেল আলী’র বিশ্বাস (অগোছালো কথায় তিনি বলেন) একদিন তিনি সুস্থ্য হবেন, তখন আবার রিক্সা চালিয়ে উপার্জন করবেন।
এসময় তাওহীদের মা হালিমা বেগম জানান, ৩সন্তান নিয়ে রিক্সা চালিয়ে হলেও আমাদের সংসার বেশ ভালোই চলছিলো। মেয়ে পারভিন নেছারাবাদ জিনাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসা থেকে ২০১৭ সালে দাখিল (জিপিএ ২.৯০ পেয়ে) পাশ করার পরেই তাকে বিয়ে দিয়েছি। গতবছরের মার্চ মাসে আমার স্বামী (আক্কেল আলী) ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে চিকিৎসা করালেও তাকে আর সুস্থ্য করা যায়নি। প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে তাকে ঢাকায় নিয়ে ভালো চিকিৎসা করাতে পারি নাই। এরপর আস্তে আস্তে কানেও শুনতে পাচ্ছেন না। তিনি এখন কথা বললে তা পুরোপুরি বুঝা যাচ্ছে না। ভালো কথা বললেও মনে হয় আবোল-তাবোল বলছেন। বড় ছেলেও তখন তাওহীদ পিপলিতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র। সবাইকে নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। তাই রাজমিস্ত্রির সাথে (নির্মাণ শ্রমিক সহযোগী) কাজ করা শুরু করে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার জন্য গাউড না থাকায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একটি গাইড কিনে দেন এবং সমাপনী পরীক্ষার ফি’ও তিনি দিয়ে দেন। পরীক্ষায় পাশ করে পিপলিতা মাধ্যমিক ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। পারিবারিক অবস্থা জেনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী ভর্তি ফি নেন নি। ৪বছর বয়সী তানভীর নামের একটি শিশু সন্তান রয়েছে আক্কেল আলী ও হালিমা বেগম দম্পতির।
শিশু শ্রমিক তাওহীদ’র সাথে কথা বলতে নেছারাবাদ ইসলামী কমপ্লেক্সের পিছনে নির্মাণ শ্রমিক হুমায়ুনের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে। এসময় তাওহীদ জানায়, আব্বা অসুস্থ্য। ঘরে মা ও ছোট ভাই আছে। আমাদের ৪জনের সংসার। আয় করার মতো কেউ নেই। তাই আমাকেই কাজ করতে হচ্ছে। এখান থেকে যা পাই তা দিয়েই আমাদের সংসার চলছে। সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আর পড়তে ইচ্ছা করে না। তারপরেও সবার দিকে চেয়ে (তাকিয়ে) কস্ট হলেও প্রতিদিন ২ঘণ্টা সময় পড়ছি। বাসায় পড়াশুনার নির্দেশনা দেয়ার কেউ নেই, কোন স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো তারও টাকা নেই। মূল বই দিয়ে পড়ছি আর মুখস্ত করছি কিন্তু কিছুই বুজছি না। ৬ষ্ঠ শ্রেণির একসেট গাইড বই হলেও তা থেকে পড়াশুনা করা যেতো। কিন্তু প্রতিদিনের আয়ের টাকা থেকে সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে। টাকার অভাবে গাইড কিনতে পারছে না বলেও জানায় তাওহীদ।
নির্মাণ শ্রমিক হুমায়ুন জানান, তাওহীদের বাবা অসুস্থ; ওদের কাজ করার আর কেউ নেই। তাওহীদ আমার সাথেই কাজ করে। ছোট মানুষ, কাজে কষ্ট হলেও সে হাসিমুখে কাজ করতে থাকে। শিশু শ্রমিক হিসেবে নিয়মিত হাজিরা অনুযায়ী ৩৮০ টাকা পায়। মানবিক দৃষ্টিতে ওভার টাইম করিয়ে তাকে প্রতিদিন ৫শ টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যাতে তাওহীদের সংসার ও পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, তাওহীদের মা হালিমা বেগমের ব্যবহৃত ০১৭২৯৪২১২৩০ নম্বরটিকে বিকাশ ও নগদ একাউন্ট খোলা আছে। যে কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি সহায়তার হাত বাড়াতে পারেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT