শেবাচিমের সিসিইউর রোগীরা জিম্মি দালাল ডাক্তার হুমায়ূনের কাছে শেবাচিমের সিসিইউর রোগীরা জিম্মি দালাল ডাক্তার হুমায়ূনের কাছে - ajkerparibartan.com
শেবাচিমের সিসিইউর রোগীরা জিম্মি দালাল ডাক্তার হুমায়ূনের কাছে

1:00 am , February 16, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করনারি কেয়ার ইউনিট’র (সিসিইউ) চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক কার্ডিওলজি বিভাগের হুমায়ূন কবিরের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রোগীরা। নগরীর রুপাতলি এলাকার ডা. হুমায়ূন কবিরের নিজস্ব ডায়াগনষ্টিক আব্দুল্লাহ হাসপাতাল ও মেডিকেলের সামনের আবিদ ইসলামিয়া মেডিকেল সার্ভিসেস থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে বাধ্য করেন তিনি। অথচ আবিদ ইসলামিয়া মেডিকেল সার্ভিসেস এর বিরুদ্ধে রাত ১০ টার পরে কোন চিকিৎসক এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই ভূল-ভাল রিপোর্ট প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সিসিইউ কর্তৃপক্ষ জানলেও দালাল ডাক্তার হুমায়ূন কবিরের কারনে কেউ মুখ খুলছে না। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে রাতের পরীক্ষা নিরীক্ষাতে যেহেতু ডাক্তারের কমিশন বেঁচে যাচ্ছে, বেচে যাওয়া সেই অর্থ সিসিইউর সিএ ও রেজিস্ট্রারদের ভাগ করে দেয়া হয়। ফলে ভূল রিপোর্ট প্রদান করা হলেও বিষয়টি চেপে যান সিসিইউর সংশ্লিষ্টরা। বলা হয়ে থাকে, ভূল রিপোর্ট এর কারনে ভূল চিকিৎসায় সিসিইউতে যে সব রোগী মারা যায় তার জন্য অনেকটাই দায়ী ডাক্তার হুমায়ূন কবির।
এসব কারনে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ তাকে একাধিকবার নোটিশ করলেও তিনি তা কেয়ার করছেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শেবাচিম কর্তৃপক্ষ। এমনকি ইউনিট প্রধান ডাক্তার জাকির হোসেন তার এই দালালি কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলেও অদৃশ্য কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দালাল ডাক্তার হুমায়ূন কবির যখন সিসিইউতে রাউন্ডে যায় তখন তার ডায়াগনিস্টিক আবিদ ইসলামিয়ার মার্কেটিং এর লোক সাথে নিয়ে যান। যাদের মধ্যে রয়েছে অপু (পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক স্টোর কিপারের ছেলে), রাসেল, আরিফ, রাকিব, শাকিল, নিপু, খাদিজা, রিমা, ফাতেমা ও হাসান। রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে তা রোগীর হাতে না দিয়ে বরং তার লোকদের হাতে ধরিয়ে দেন। যাতে করে ওই ডায়াগনিস্টিক থেকেই রোগীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বাধ্য হয়। যদি রোগী শেবাচিমের প্যাথলজি বা অন্য কোন ডায়াগনস্টিক থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করান তবে তা ছুড়ে ফেলে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে ডাক্তার হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিসিইউ ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, এক যুগের বেশী সময় ধরে শেবাচিমে দায়িত্ব পালন করার কারনে তারমত অনেক ডাক্তাররাই ডাক্তারি পেশাকে কলঙ্কিত করে রোগীদের কাছে বিতর্কিত হচ্ছে। তিনি জানান, সিসিইউ ইউনিটে সর্ব সাধারনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনে তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একাধিক মার্কেটিং এর লোক সিসিইউর অভ্যন্তরে বসিয়ে রাখেন। রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়ার সাথে সাথে তার লোকেরা প্রেসক্রিপশন হাত থেকে জোর করে কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ হুমায়ূন কবিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকদের বিরুদ্ধে। যার প্রমান হিসেবে দেখা যায় সিসিইউর প্রতিটি রোগীর রিপোর্ট ফাইলে আবিদ ইসলামিয়া মেডিকেল সার্ভিসের রিপোর্ট এর কাগজ গাথা রয়েছে। এ দিকে হুমায়ূন কবিরের ডায়াগনস্টিক আবিদ ইসলামিয়া মেডিকেল সার্ভিসেস এ অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাত ১০টার পরে আবিদ ইসলামিয়া মেডিকেল সার্ভিসেস এ কোন ডাক্তার এবং মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট থাকে না। অথচ আবিদ ইসলামিয়া রাত ১০টার পরেও ডাক্তারের সই স্বাক্ষরিত রিপোর্ট প্রদান করছে। অথচ রাতে একজন নাইট গার্ড এবং পিওন ও ল্যাব এ্যসিসটেন্ট ছাড়া আর কেউ থাকে না আবিদ মেডিকেল সার্ভিসেস এ। যার ফলে অহরহ ভূল রিপোর্ট প্রদান করলেও ডাক্তার হুমায়ূন কবিরের প্রতিষ্ঠান বিধায় কেউ এর প্রতিবাদ করেন না। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রাত ১০টার পরের পরীক্ষা নিরীক্ষায় যেহেতু ডাক্তার থাকে না, তাই ওই পরীক্ষা নিরীক্ষার ডাক্তারি কমিশন সিসিইউর সিএ ও রেজিস্ট্রারদের মাঝে ভাগ করে দেন। যে কারনে রিপোর্ট ভূল হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করে।
কথা হয় অভিযুক্ত ডাক্তার হুমায়ূন কবিরের সাথে। তিনি আব্দুল্লাহ হাসপাতাল ও আবিদ ইসলামিয়া মেডিকেল সার্ভিসেস এর একজন শেয়ার হোল্ডার বলে স্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এগুলো মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কোন ডাক্তারের অভিযোগ নেই দাবী করে তিনি বলেন, আমার একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে বলে আমার নামে এগুলো বলা হচ্ছে। পরে প্রতিবেদককে চায়ের আমন্ত্রন জানান আব্দুল্লাহ হাসপাতালে।
এ বিষয়ে শেরে ই বাংলা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডাক্তার বাকির হোসেন জানান, কথা বললে যে না শোনে, সে কিসের প্রফেসর। তার আচরন রোগীদের সাথে প্রহসনমূলক। তার নিজস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকে রোগী পাঠানোর বিষয়টি একাধিকবার অভিযোগ আকারে পেয়েছি। এটা কোন ডাক্তারের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রিন্সিপালকে লিখিত দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সিসিইউ ইউনিট প্রধান ডাক্তার জাকিরও লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
বরিশাল শেরে ই বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের নাক কান ও গলা বিভাগের প্রধান ডা: মো: গোলাম সরোয়ার বলেন, আমি এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। আর তদন্তে দোষী হলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে অধ্যক্ষ জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT