নার্সিং মহাপরিচালকের বদলী বরিশালে উৎকন্ঠা নার্সিং মহাপরিচালকের বদলী বরিশালে উৎকন্ঠা - ajkerparibartan.com
নার্সিং মহাপরিচালকের বদলী বরিশালে উৎকন্ঠা

1:00 am , February 10, 2020

হেলাল উদ্দিন ॥ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বদলী হওয়ায় ঘটনায় বরিশাল নাসির্ং সেক্টরে আতংঙ্ক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। তাদের দাবী সম্প্রতি বদলী হওয়া নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আলম আরা বেগমের দায়িত্ব পালন কালে এই সেক্টরের দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছিলো বিরাজ করছিলো একটি সুষ্ঠু পরিবেশ। কিন্তু গত ৪ ফেব্রুয়ারী অপ্রত্যাশিত ভাবে তার বদলী হওয়ায় আবার নতুন করে এই সেক্টরে অরাজকতা ও দূর্নীতি ভর করবে। বিশেষ করে ঘুষ বানিজ্যের বিনিময়ে বদলী ও পদায়নে পূর্বের মত অসন্তোষ সৃষ্টি হবে বলে ধারনা করছেন বরিশালের নার্সরা।
জানা গেছে, গত মাস তিনেক পূর্বে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে অতিরিক্ত সচিব আলম আরা বেগম কে নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বদলী করে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহনের পর পরই তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাথে দেখা করে ঘুষ দুর্নীতির উর্ধ্বে উঠে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেই সাথে তিনি মন্ত্রীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং তার কাজে কারো অযাচিত হস্তক্ষেপ বা সুপারিশ না করার জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করেন। মন্ত্রীও তাকে আশ^স্ত করেন। এর পর নিজের মত গুছিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। অধিদপ্তর থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে বেশ কিছু নীতিমালাও করেন। বেশ কিছু পদক্ষেপে এই অধিদপ্তরে সব কিছুতে ভারসাম্য আসতে শুরু করে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে এই সেক্টরের দুর্নীতিবাজদের অবস্থা নড়বড়ে হতে শুরু করে। ওই মহলটি বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ বিনিয়োগসহ তদ্বীর লবিং শুরু করে মহাপরিচালক আলম আরা বেগমকে বদলী করার জন্য। শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে চক্রটি। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে তাকে বদলী করতে সক্ষম হয়েছে তারা। গত ৪ ফেব্রুয়ারী জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়ের এক আদেশে আলম আরা বেগমকে প্রাথমিক ও গন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসাবে বদলী করা হয়। ওই দিনই পৃথক এক আদেশে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব বেগম সিদ্দিকা আক্তারকে নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক করে প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়।
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের নার্সেস এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যতটুকুৃ মনে হয়েছে ডিএনএস ম্যাডাম ভাল কিছু করা চেষ্টা করেছে। তার সময়ে কোন নার্সের বদলী পদায়ন হতে কোন মন্ত্রী এমপির সুপারিশের দরকার হয়নি। বৈধ দাবী সম্বলিত আবেদন তিনি এমনিতেই করে দিতেন। তিনি বলেন, বরিশালের এক নার্সের বদলরি জন্য এক মন্ত্রী সুপারিশ করেছিলেন। মন্ত্রনালয়েরও সচিব পর্যায়ের সুপারিশ ছিলো। কিন্তু ওই আবেদনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোন সুপারিশ ছিলো না। তাই ওই নার্সের বদলী হয়নি। বেশ কয়েক জন নার্স বলেন ম্যাডাম বদলীর ক্ষেত্রে নীতিমালা করে দিয়েছিলেন। তাতে কোন নার্সকে বদলী আবেদন করতে হলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হত। তাহলেই তাকে বদলী করা হত। প্রয়োজন হত না কোন এমপি মন্ত্রীর সুপারিশ। আমরাও সাধারন নার্সরা ম্যাডামের এই উদ্যোগ কে স্বাগত জানিয়েছিলাম, কারন সাধারন অনেক নার্সদের বৈধ দাবী পূনের জন্য এমপি বা মন্ত্রীদের কাছে যাবার মাধ্যম থাকে না। যে কারনে তাদেরকে বঞ্চিত হয়েই থাকতে হয়েছে। ম্যাডামের বদলীর খবরে তাই আমরা উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছি। অনেক নার্সদেরই বৈধ ভাবে বদলীর আবেদন করা আছে। তিনি বদলী হওয়ায় পরবর্তীতে কি হয় তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। কারন নতুন যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই পূর্বের সব কিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন।
জানতে চাইলে নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) খালেদা আক্তার বলেন, সরকার যেটা ভাল করেছেন সেটা করেছেন এখানে আমার কোন মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে এটা বলতেই হয় ম্যাডামের সময় অধিদপ্তরের সকল কাজে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য ফিরেছিলো।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT